রবিবার ১৮ এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

আড়াই বছর ধরে ঢামেকের মর্গে মার্কিন নাগরিকের লাশ

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

আড়াই বছর ধরে ঢামেকের মর্গে মার্কিন নাগরিকের লাশ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রায় আড়াই বছর ধরে পড়ে আছে এক মার্কিন নাগরিকের লাশ। ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ব্যক্তির নাম রবার্ট মাইরন বার্কার। এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা তিনি।

এতো বছর ধরে লাশটি মর্গে পরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এর সৎকার বা তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার বাসিন্দা এবং বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী মাজেদা খাতুন নিজেকে রবার্টের স্ত্রী দাবি করে জানান, তার স্বামীর মৃত্যুর পর লাশ যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে বারবার চেষ্টা করলেও কোন সাড়া পাননি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা রবার্টের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

রবার্ট পেশায় একজন উন্নয়নকর্মী হলেও তিনি কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন সেটা জানা যায়নি। তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফান্ড আনতেন এবং এখানকার গরিব মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন বলে জানান মাজেদা।

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ২০১৮ সালের ১৫ মে দক্ষিণখানের কেসি হাসপাতালে ভর্তি হন রবার্ট। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সে সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তার লাশ এই দেশে সৎকার করা যাচ্ছিল না। এজন্য দূতাবাসের ছাড়পত্র প্রয়োজন, যেটা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় লাশ ছাড়িয়ে আনতেও ঝামেলা পোহাতে হয় মাজেদা খাতুনকে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠায়। লাশটি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়রিও করা হয়। এরপর থেকে আড়াই বছর ধরে মর্গে পড়ে রয়েছে রবার্টের মরদেহ। এর মধ্যে কেউ কোন খোঁজ নিতেও আসেনি বলে জানায় হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগ।

মাজেদা খাতুন চান মার্কিন দূতাবাস এই লাশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো বা সৎকারের দায়িত্ব নিক। স্ত্রী হিসেবে তার কোন স্বাক্ষর বা কাগজপত্র দেয়ার প্রয়োজন পড়লে তিনি সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেকবার দূতাবাসে গিয়ে সব ঘটনা বলেছি। তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না। পরে তারা আমার কাছে রবার্টের পাসপোর্ট চায়। আমি সেটা দেই। এখন তারাই ব্যবস্থা নিক।’

রবার্টের অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংবাদ তার যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারকে জানানো হলেও কেউ ফিরতি কোন যোগাযোগ করেনি, দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও কেউ খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন মাজেদা খাতুন।

বিয়ের রেজিস্ট্রিতে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল খ্রিষ্টান ধর্মমতে ঢাকার বাড্ডার একটি গির্জায় রবার্টের সঙ্গে মাজেদা খাতুনের বিয়ে হয়। এরপর মাজেদা খাতুন তার আগের সংসারের সন্তানদের সাথে রবার্টকে নিয়ে ঢাকার একটি বাসায় থাকতেন। সংসার খরচ চালানোর পাশাপাশি তাকে হাত খরচ দিতেন রবার্ট।

বিয়ের কয়েক বছর আগে মাজেদা খাতুন উত্তরার যে বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন সেখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন রবার্ট। মাজেদা খাতুন তখন তার দেখাশোনা করতেন। সেই থেকেই তাদের পরিচয়। এক পর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

বিয়ের সময় মাজেদা খাতুন খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হলেও রবার্টের মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন।

এদিকে রবার্টের যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে জানান মাজেদা খাতুন। ছেলেমেয়েদের সাথে রবার্ট নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও তিনি জানান।

মাজেদা খাতুন বলেন, ‘রবার্ট অসুস্থ থাকার সময় আমেরিকায় তার ছেলেমেয়েকে ফোন করে জানিয়েছিল। তারা তখন বলেছিল আপনি ট্রিটমেন্ট করান। মারা যাওয়ার পর যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাই নাই।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা

Facebook Comments Box

Posted ২:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.