বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সাবধানতা জরুরী

সম্পাদকীয়   |   বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২০

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সাবধানতা জরুরী

শীতের প্রকোপ শুরু না হতেই যুক্তরাষ্ট্রে নূতন করে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমন। ঘাতক এ ব্যাধির প্রথম ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে আসেনি স্বাভাবিকতা। নূতন সংক্রমন ইতোমধ্যেই ধারণ করেছে ভয়াবহ আকার। প্রতিদিন ৮০হাজার ছাড়িয়ে গেছে গড় সংক্রমন। বাজারে এখনো দেখা মেলেনি ভ্যাকসিনের। এমতাবস্থায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটছে আমেরিকানদের। করোনা ভাইরাস এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৪০হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১কোটির কাছাকাছি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয় বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ১২লাখ মানুষ মারা গেছে এ মরণ ব্যাধিতে। প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ হয়েছেন করোনা আক্রান্ত। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস বিশ্বমানবতার জন্য এক অভিশাপ। চীনের উহান শহরে গত নভেম্বর মাসে উৎপত্তি কোভিড-১৯ এর। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে বিশ্বব্যাপী বিরামহীন যুদ্ধ চলছে অশরীরি এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে। করোনা সংক্রমনে ভেঙ্গে গেছে গ্লোবাল ভিলেজ। শুরুতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জল-স্থল-অন্তরীক্ষের সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ছোট বড় সকল রাষ্ট্র পরিণত হয় একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। সীমিত হয়ে পড়ে মানুষের চলাচল। একদেশ থেকে আরেক দেশ। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি। এমন কি বাড়ীর এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নিষিদ্ধ হয়ে যায় স্বজনের প্রবেশাধিকার।

ব্যবসায় বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বন্ধ হয় যায় সকল উদ্যোগ আয়োজন। মানুষ পরিচিত হয় লক ডাউন, সামাজিক দূরত্ব, কোয়ারেন্টাইন ধরণের নূতন নূতন শব্দের সাথে। ভয়াবহ এ ঘাতক ব্যাধির হাত থেকে রেহাই পায়নি কোন ধর্ম-বর্ণের মানুষ। রক্ষা পায়নি মহা শক্তিধর ব্যক্তি বিশেষ ও রাষ্ট্র। করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমনের ঢেউ বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশেই আছড়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশী মানুষ আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থ-বিত্ত, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসা সেবার সূতিকাগার বলে খ্যাত এদেশটি এখনও পাড় করছে অস্থির সময়। গত মার্চে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন শুরু হওয়ার পর এপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমনে মৃত্যু ঘটেছে সবচেয়ে বেশী মানুষের। মৃত্যুর প্রকৃত পরিসংখ্যান এর চেয়েও অধিক বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আর দেশটিতে সবচেয়ে বেশী মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে নিউইয়র্ক নগরীতে। এখানে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর এ মিছিলে রয়েছে প্রায় তিনশত বাংলাদেশী।

নজিরবিহীন এ মহামারীতে দেশটির অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মন্দা। এখনো বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে তিন কোটি মানুষ। দীর্ঘ লক ডাউনের পর বিভিন্ন রাজ্যে চলছে নূতন স্বাভাবিকতায় ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা। সংক্রমণ কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় এমন উদ্যোগ আয়োজনে মানুষ যখন কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে ঠিক তখনি করোনা ভাইরাস সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। নূতন করে শুরু হচ্ছে সংক্রমন। আর এ সংক্রমন প্রথম ঢেউয়ের চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আভাস ইঙ্গিত দিচ্ছেন সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞগণ। তাদের মতে সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নভেম্বরের প্রথম দিক থেকে সংক্রমন চরম অবস্থায় পৌছতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। দশ মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা হানা দিয়েছিল, তখন কেউ হয়ত ভাবতেই পারেনি কোভিড-১৯ এতটা ভয়ঙ্করভাবে দেশটিকে আক্রান্ত করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর দ্বিতীয় পর্যায়ের আশঙ্কা বহুদিন থেকেই করা হচ্ছে। এখন তারা অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলছেন যে, এটি সম্ভবত আরো বিপর্যয়কর হবে। ভয়াবহ রূপ নেবে কয়েক সপ্তাহ পর। যখন শীত জাঁকিয়ে বসবে। শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত অন্যান্য ভাইরাসের প্যাটার্নের কারণে কোভিড ১৯ এর শীতকালীন প্রকোপের শোচনীয় অবস্থার কথা বলা হচ্ছে।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে না পারলে মানব জাতিকে বড় ধরণের মাশুল গুনতে হবে। এর ভয়াবহতা আঁচ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও সচেতন শ্রেনী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। যেকোন মূল্যে মানুষকে প্রস্তুত হতে হবে। গ্রহণ করতে হবে সচেতনামূলক ব্যবস্থা। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘরের বাইরে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধান করা, সমাবেশ এড়িয়ে চলা। প্রয়োজন হলে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা। এসব মেনে চলে নিজেকে করোনা সংক্রমন থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি অপরকেও নিরাপদ রাখা জরুরী। মানুষ তার জীবনকেই সবচেয়ে ভালোবাসে। আর জীবন একটাই। মহামারী কেটে গেলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো আমরা। উপভোগ করার সুযোগ পাবো সবধরণের অনুষ্ঠানাদি। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুটা সময় । অন্তত ভ্যাকসিন বাজারে না আসা পর্যন্ত। কোন সংক্রমন ব্যাধিই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মহান সৃষ্টিকর্তা এর হাত থেকে এবারো মানবজাতিকে নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন। তবে এজন্য আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। সংক্রমন রোধে মেনে চলতে হবে সকল ধরণের স্বাস্থ্যবিধি। ভরসা রাখতে হবে মহান আল্লাহর তায়ালা’র প্রতি।

Facebook Comments

Posted ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২০

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.