মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ক্যাটসকিলের প্র্যাটসভিলে দুই দিন দুই রাত

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু   |   বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ক্যাটসকিলের প্র্যাটসভিলে দুই দিন দুই রাত

ইংরেজি ‘রিট্রিট (Retreat) শব্দটির বহুবিধ অর্থ রয়েছে। দুশমন বাহিনীর প্রচণ্ড হামলা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে বা পরাজিত হয়ে অগ্রবর্তী অবস্থান প্রত্যাহার করাকে সামরিক পরিভাষায় ‘রিট্রিট’ বলা হয়। সোজা কথায় ‘পিছু হটা’। বিউগল বাজিয়ে সামরিক-পতাকা নামানোর অনুষ্ঠানও ‘রিট্রিট’। কোনোকিছুর একটি অবস্থানে পৌঁছার পর তা হ্রাস পাওয়ার প্রক্রিয়াকেও ‘রিট্রিট’ বলে। যেমন; হিমবাহের গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া। ‘রিট্রিট’ এর আরেকটি বহুল ব্যবহার রয়েছে নীরব, নির্জন স্থানে একান্তে অবকাশ যাপন বোঝাতে। বড় বড় দেশ, বিশেষ করে ক্ষমতাধর দেশসমূহের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানরা বড় কোনো কর্ম সম্পাদন করে অথবা না করার পর একটু আরাম করার উদ্দেশে দূরে কোনো রাষ্ট্রীয় অবকাশ কেন্দ্রে চলে যান, সেটিও ‘রিট্রিট’। কোনো গুরুর নির্দেশানুযায়ী প্রার্থনা, ধ্যান বা অভিনিবেশ সহকারে পড়াশোনার উদ্দেশে বেশ কিছু সময়ের জন্য জনারন্য থেকে বিচ্ছিন্ন স্থানে দলবদ্ধ অবস্থানও ‘রিট্রিট’।

ওপরের সংজ্ঞাগুলো অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কোলাহল, যানবাহন ও মানুষের ভিড় ছেড়ে দলবেঁধে পর্বত, বৃক্ষসারি, অচেনা পাখির ডাক, ঝরনা, জলপ্রপাতে পানির আছড়ে পড়ার শব্দের মাঝে কাটাতে যাওয়াকে ‘রিট্রিট’ বলা যাবে না। আমরা দল বেঁধে ঘুরতে গেছি, যেসব দৃশ্য নয়নপথের পথিক হয়েছে, সেগুলো দেখেছি। প্রকৃতি কত সুন্দর ঘুরে না দেখে ছবি ও ভিডিও দেখে তা পুরোপুরি ঝোঝার উপায় নেই। পর্বতের ওপর থেকে অনেক নিচে পানির আছড়ে পড়া এক ধরনের সৌন্দর্য, হেমন্তে গাছের পাতার রঙ বদলে যাওয়া ও শীত জাঁকিয়ে বসার আগে গাছ থেকে সারাক্ষণ ঝরে পড়ার মধ্যে আরেক ধরনের সৌন্দর্য। সৃষ্টিকর্তা যে বিস্ময়কর অনুগ্রহে মানুষকে ধন্য করেছেন, তা হচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্য শুধু আমাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নয়, মনস্তাত্ত্বিক কল্যাণের জন্যও আশির্বাদ। সন্দেহ নেই, মানুষ বহু বিস্ময়কর সৃষ্টি রয়েছে, কিন্তু আমরা ঘুরে ফিরে প্রকৃতির কাছেই ফিরে যাই, কারণ মানুষের কোনো সৃষ্টি কখনও সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তাছাড়া প্রকৃতির আকর্ষণের স্পর্শ ছাড়া পৃথিবীতে মানুষের জীবন নীরস, একঘেঁয়ে অস্তিত্বে পরিণত হতো।


‘শান-এ-নজুল’ অর্থ্যাৎ প্রেক্ষাপট বর্ণনা একটু দীর্ঘ হলো। যাহোক, ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা জীবনের একঘেঁয়েমি কাটাতে গিয়েছিলাম নিউইয়র্ক সিটি থেকে ১৫০ মাইল দূরে আপস্টেট নিউইয়র্কের পার্বত্য এলাকা ‘ক্যাটসকিল’ (Catskill) এর প্র্যাটসভিল (Prattsville) এলাকায়। হেমন্তের পাতার রঙ বদলানো দেখতে এ এলাকায় প্রচুর পর্যটকের সমাবেশ ঘটে। ক্যালেণ্ডারের হিসাবে হেমন্ত শুরু হলেও গাছের পাতা এখনো আগুনের রঙ ধারণ করেনি। সময়টা আসবে আরো দুই সপ্তাহ পর। গতবছর আমরা হেমন্ত উপভোগ করতে গিয়েছিলাম পেনসিলভেনিয়ার পোকোনো মাউন্টেন এ। ওই সময়টায় আমাদের ‘ভ্রমণ গুরু’ বা ‘কায়েদ-এ-মুসাফির’ কবি কাজী জহিরুল ইসলাম নিউইয়র্কের বাইরে থাকবেন বলে আমরা এবার হেমন্তের আগাম ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। আমাদের ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই অধিক। তা রাতে সাগর পাড়ে গিয়ে পূর্ণিমা দেখা হোক, ভোরে সাগর ফুঁড়ে পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয় অবলোকন হোক, অথবা উইকএণ্ডে সিটির আশপাশের কোনো পার্কে গিয়ে দিনব্যাপী হাঁটাহাঁটি করাই হোক। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। নয় জনের মধ্যে কবি জহির ও আমি ছাড়া সবাই নারী। তিনটি বাচ্চা মেয়ে- সারাফ, নভো ও আরিবা,; চার জন সন্তানাদির মা Ñ লুসি ভাবি, কামরুননাহার মনি, মুক্তি জহির ও বিলকিস রহমান দোলা।

২৩ সেপ্টেম্বর রোববার রওয়ানা হতে বেলা ১২টা। প্রাটসভিলে যে কটেজ ভাড়া নেয়া হয়েছে, সেটি গাড়িতে সাড়ে তিন ঘন্টার দূরত্বে। আপস্টেটের অনেক জায়গা ও নদীর নামের শেষে ‘কিল’ ((kille) বা ‘ভিল’ (Ville) রয়েছে। ‘ভিল’ তো বুঝে নেয়ার মত। কিন্তু ‘কিল’ সহজ অর্থ আমরা যা বুঝি এর সঙ্গে একটি এলাকাজুড়ে এতগুলো জায়গার (কিল) নামকরণ মাথায় ঢুকেনি। ২০১০ সালে আমি ক্যাটসকিল এলাকার এলেনভিলে আমার বন্ধুর শেলি’র ছোটভাই আলোর বাড়িতে প্রায় মাসখানেক ছিলাম। আলো’র ইমিডিয়েট বড় ভাই পিকুও অল্প দূরত্বে থাকে। পিকু ফার্মাসিস্ট। পিকু, আলো দুই ভাই একটি ফার্মেসি পরিচালনা করে। আরও কিছু ব্যবসা আছে ওদের। দুই ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় বেশ মজার। ওদের বাড়ি আমার গ্রামের বাড়ি থেকে মাত্র নয় মাইল দূরে। ওদের বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ১৯৬৯ সাল থেকে। কিন্তু বন্ধুর ছোট দুই ভাইয়ের সঙ্গে এলাকায় পরিচয় হয়নি, ঢাকায়ও পরিচয় হয়নি। পরিচয় হয়েছে লাহোরে। ওরা যে লাহোরে তাও আমার জানা ছিল না। ১৯৯০ সালের মে মাসে আমি পাকিস্তান ভ্রমণে যাই এবং কয়েকদিন লাহোরে অবস্থান করি। লাহোরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্র আবদুল্লাহ ভাট্টির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর সে দু’জন বাংলাদেশী ছাত্রের কথা বলে এবং আমি দেখা করার আগ্রহ দেখালে ভাট্টি ওদের হোস্টেলে নিয়ে যায়। পরিচয় হলো, ওরা শেলির ছোট ভাই। শেলি নিজেও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে এবং সে এতটা প্রভাবশালী ছিল যে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিল।


যাহোক, আমার ‘অ্যালেনভিল’ অবস্থানকালে ‘কিল,’ ‘ভিল’ নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমার কন্যা দীয়া তখন ফিলাডেলফিয়ায় থাকতো। আমি দেশ এসে পৌছার পর ফোনে ওকে বলেছিলাম, ‘অ্যালেনভাইল’ এ ওঠেছি। আমার কন্যা ধমক ছাড়া কথা বলতে পারে না। সে ধমক দিয়ে আমাকে শেখালো ‘অ্যালেনভাইল’ নয়, ‘অ্যালেনভিল।’ সবাই আমাকে শেখায়, এবং আমি সবার কাছ থেকে শিখি। অ্যালেনভিল ছেড়ে আসার পর আরও কয়েকবার ওই এলাকায় বেড়াতে গেছি।

প্র্যাটসভিল যাওয়ার পথে ‘ক্যাটসকিল’ এর সাইন দেখে অ্যালেনভিলের দূরত্ব দেখা গেল ৫৮ মাইল। একবার ঢুঁ মারা যায় কিনা ভাবছিলাম। আমি যেতে চাইলে আমার ভ্রমণসঙ্গীরা কীভাবে নেবেন তাও ভেবেছি। সপ্তাহ তিনেক আগে আলো ফোন করে যেতে বলেছিল। সে নতুন বাড়ি কিনেছে সেখানে ওঠেছে। আমি যে বাড়িতে ছিলাম সেটি ভাড়া দিয়েছে।


‘কিল’ নিয়ে বলছিলাম। এই ‘কিল’ এর সঙ্গে ‘হত্যা’র কোনো সম্পর্ক নেই। জলাভূমি বা পানির ধারা, ঝরনা বা ছোট নদী হচ্ছে ‘কিল’। শব্দটি এসেছে ডাচ ‘কিলে’ (kille) শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘নদীর তলদেশ’ বা ‘জলপথ’। উপনিবেশ যুগে ডেলাওয়ার ও হাডসন উপত্যকা ডাচদের প্রভাব ছিল এবং তারা পানি সংক্রান্ত কোনোকিছু বর্ণনা করতে ‘কিল’ শব্দটি প্রয়োগ করতো এবং আশপাশের এলাকাগুলোও ‘কিল’ নাম নিয়ে পরিচিতি লাভ করেছে। যেমন; ক্যাটসকিল (Catskill), পিকসকিল (Peekskill), ফিশকিল (Peekskill), স্প্যাকেনকিল (Spackenkill), মাইনকিল (Minekill), কাটসকিল (Kaatskill), ‘ক্যাটারসকিল (Kaaterskill) ইত্যাদি। ‘ফিশকিল (Fishkill) গ্রামের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ডাচ শব্দ ‘ভিস’ (vis) হচ্ছে ‘ফিশ’ বা মাছ এবং ‘কিল’ ঝরনা বা জলাশয়। একইভাবে ‘পিকসকিল’ (Peekskill) এর উদ্ভব একজন ডাচ বাসিন্দা জ্যান পিক (Jan Peeck) এর নামানুসারে হলেও জায়গাটি একটি ঝরনার পাশে ছিল বলে এই নামে পরিচিত হয়েছে।

প্র্যাটসভিল পৌছার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। কমবেশি দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল সবার মাঝে যে অবকাশ যাপন মাটি হয় কিনা। পর্বতের পাদদেশে দোতলা কটেজ। পেছনে প্রায় খাড়া পর্বত, সামনে রাস্তা এবং রাস্তার পরই একটি সরু খরস্রোতা নদী, নাম ‘স্কোহাারি ক্রিক (choharie Creek)। সামান্য উজানেই একটু উঁচু জায়গা থেকে পানি আছড়ে পড়ছে। পানির রঙ লালচে। বৃষ্টির কারণে পর্বত ধুঁয়ে নেমে আসার কারণেই হয়তো পানি স্বচ্ছতা হারিয়েছে। রাতের জন্য রান্না করার পরিকল্পনা থাকলেও সবাই এত খাবার এনেছে যে শুধু ভাত ছাড়া আর কিছু রান্না করতে হয়নি। খাওয়ার পর আড্ডা। গান, আবৃতি, গল্পগুজব। সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে। যখনই ঘুম ভেঙেছে, ঝরনার ওপরের অংশ থেকে পানি আছড়ে পড়ার অবিশ্রাম শব্দ কানে এসেছে। এই দৃশ্য না দেখতে পারলে জীবনের অনেকখানিই বৃথা।

দেশে আমাদের এলাকায় বড় কোনো নদী নেই। গারো পাহাড় ১১/১২ মাইল দূরে। উজানে ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হলে বাংলাদেশে ঢল নামে। পাহাড়ি এলাকায় টিলার ফাঁকে ফাঁেক ছোট ছোট পানির ধারাগুলো বর্ষণে স্ফীত হয়ে সেই ঢলের সঙ্গে মিশে সরু ঝরনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সমতলে নিয়ে আসে। যেখানে সারা বছর পানির ক্ষীণ ধারা নিরবধি বয়ে চলে, সেটিই প্রমত্তা হয়ে সামনে পড়া গাছপালা, মাটি-বালি সবকিছু ঠেলে-ধাক্কিয়ে ভাটির দিকে নিয়ে যায়। ঢলের প্রচণ্ডতা নির্ভর করতো উজানে বৃষ্টিপাতের ওপর। ওই সময়ে কারও পক্ষে ঝরনা পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমিও একবার এমন বিপদে পড়েছিলাম। ঝরনা থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি টং ঘরের বেঞ্চির ওপর পাঁচ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর পানি কিছুটা কমলে প্রায় পনেরো জন লোক একে অন্যের কোমর ধরে ঝরনা অতিক্রম করেছিলাম। আমাদের পাহাড়গুলো যেহেতু শুধুই মাটির টিলা, সেজন্য প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে পানির তোড়ে মাটি নিচে নেমে আসে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার উঠতি ফসল মাটির নিচে চাপা পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন আশংকা নেই। পর্বতগুলো পাথরের এবং ঝরনা যত খরস্রোতাই হোক না কেন, পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে সেতু আছে।

ক্যাটসকিলের প্র্যাটসভিল এলাকাটি বসতি হিসেবে গড়ে ওঠেছিল ১৭৬৩ সালে এবং তখন এটির নাম ছিল ‘স্কোহারি কিল” (Schoharie Kill)। কিন্তু আমেরিকান বিপ্লবের সময় পুরোনো বসতি স্থাপনকারীদের হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তিকে পরাজিত করে। এরপর প্রাটসভিল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৪ সালে এবং পরবর্তীতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বাসিন্দা ও কংগ্রেসম্যান জ্যাডোক প্র্যাট (Zadock Pratt 1790-1871) এর সম্মানে এলাকাটির নাম প্র্যাটসভিল করা হয়। তিনি এই এলাকায় একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপন করেছিলেন, যেটি ওই সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় চামড়া কারখানা ছিল। ১৮৩০ সালে জনসংখ্যা ছিল ৮৩০ জন, কিন্তু প্র্যাটস চামড়া কারখানা প্রতিষ্ঠা করার পর ১৯৫০ সালে জনসংখ্যা ১,৯৮৯ এ উন্নীত হয়। ১৮৭৫ সালে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। বর্তমান জনসংখ্যা আরও কম, মাত্র ৩৫৫ জন, যার মধ্যে ৩৫০ জনই শ্বেতাঙ্গ।

সারারাত তুমুল বর্ষণের পর সকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ স্বচ্ছ হয়ে প্রকৃতিকে রৌদ্রেজ্জ্বল করে তোলে। আমরা ঝরনার পাশে নেমে যাই। নিরাপদ দূরত্বে থেকে পানির প্রবাহ দেখি, ছবি তুলি। দুপুরে আমরা একটি জলপ্রপাত দেখতে চাই ‘মাইনকিল ফলস (Minekill Falls) দেখতে যাই। দীর্ঘসময় ধরে আমরা প্রকৃতির শোভা উপভোগ করি। বিকেলে কটেজে ফিরে বিশ্রাম নেয়ার পর বিকেলে চিকেন বারবিকিউ, এককভাবে করেছেন কাজী জহিরুল ইসলাম। আমাদের সান্ধ্য অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে কবিতা আবৃতি, গান ও আলোচনা। আমি কোনোটাতেই পটু নই। আমি শৈশব থেকে ‘এক মুখ দুই কান’ তত্ত্বে বিশ্বাসী হিসেবে বলি কম শুনি বেশি।

শনিবার প্র্যাটসভিলে আমাদের শেষ দিবস। বেলা ১২টায় কটেজ ছাড়তে হবে। রাতে আলোকে ফোন করেছিলাম ফেরার পথে ওদের ওখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবো বলে। আলো ফোন না ধরায় পিকুকে ফোন করি এবং আমরা সংক্ষিপ্ত সময় থামলে কোনো অসুবিধা হবে কিনা জানতে চাই। সে বেলা ২টা পর্যন্ত ফার্মেসিতে থাকবে। বললো, ‘সমস্যা নেই, দুপুরে একসাথে ডালভাত খাবো, চলে আসুন।’ একটু আলো কলব্যাক করলে ওকে বললাম, কাল আসছি। দু’জনেরই ব্যস্ততা আছে। ফার্মেসি বন্ধ করেই নিউ্ইয়র্ক সিটিতে আসবে। কারণ রোববার বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ে। প্রায় দেড় ঘন্টার ড্রাইভে অ্যালেনভিল। পিকু ফার্মেসি থেকে ফিরে আসেনি। ওর স্ত্রী দরজা খুলে দিলেন। আমাদের বিশ্রাম নেয়ার সময়ের মধ্যেই পিকু চলে এলো এবং আমরা একসঙ্গে খেলাম। আমি ও আমার স্ত্রী ছাড়া অন্য সবাই তাদের অপরিচিত হলেও তাদের আন্তরিকতায় স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠতে কারও সময় লাগেনি।

যারা হেমন্তে গাছের পাতার রঙ বদলানোসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র উপভোগ করতে চান, তারা নিউইয়র্ক সিটির কাছেই আপস্টেট নিউইয়র্কে যেতে পারেন। কারও সময়ের টানাটানি থাকলে তারা এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো দিনে দিনে ঘুরে আসার সুযোগও নিতে পারেন।

advertisement

Posted ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমরা মরি কেন?
আমরা মরি কেন?

(331 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.