শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জর্জিয়ায় ভোটাধিকার : লাভ-লোকসানের খতিয়ান

ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ   |   বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

জর্জিয়ায় ভোটাধিকার : লাভ-লোকসানের খতিয়ান

২০২০ নির্বাচনে জর্জিয়া ছিল দুই দলের শক্তি, বিভিন্ন ধরনের কৌশল প্রয়োগের পীঠস্থান, পরীক্ষাগার। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দল গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি (জিওপি) ভোটদানের পদ্ধতি, গণনা, এলাকা নির্ধারণে গৃহীত ফর্মুলা ইত্যাদি নিয়ে শুধু প্রশ্ন ও বিতর্কের ঝড় তুলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, বিভিন্ন কোর্টে গোটা বিশেক মামলা ও দায়ের করেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর এটর্নিরা গভর্নর, সেক্রেটারি অব ষ্টেট, জর্জিয়ার এটর্নি জেনারেল. ষ্টেট এসেম্বলী সহ সকল মহল ও পর্যায়ে দেন-দরবার করে, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ও ভোট গণনায় তেমন কোন পরিবর্তন না আনতে পেরে ভিন্ন কৌশল ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। জর্জিয়ানদের ভোটাধিকার এবং সশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিবর্তন/রিপাবলিকান পার্টির এজেন্ডা অনুযায়ী সংস্কার অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে ষ্টেট প্রতিনিধি হাউজ থেকে। গভর্নরের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ সম্মতিতে বিলটি উত্তাপিত হয়েছে। পাশ হওয়ার সাথে সাথেই তিনি এতে স্বাক্ষর করেছেন। সেক্রেটারী অব ষ্টেট সহ ভোটের দায়িত্বে সমাসীন কোন কর্মকর্তা এতে আপত্তি তোলেননি। অবশ্য তারা সবাই রিপাবলিকান দলের সমর্থক। ২০২০ নির্বাচন, ভোট দেয়া ও গণনার পদ্ধতি সে সময়ে বিদ্যমান আইন ও নিয়ম-কানুন অনুযায়ী হয়েছিল বলে তারা খোদ প্রেসিডেন্টের (প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্পের কথা বলা হচ্ছে) নির্দেশ, ধমক-ধামক ইত্যাদি আমলে না এনে নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন। প্রশংসিত হয়েছেন প্রচুর। তবে, নির্বাচন শেষ হতে হতেই ২০২২ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতার রাস্তা সুগম করার জন্য ভোটার বাছাই, এলাকা নির্ধারণ, ভোট প্রদান ও গণনা পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যাপারে পরিবর্তন/ সংস্কার আনার পক্ষে সফল উদ্যোগ নেয় রিপাবলিকান দল।

গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস এসব দেশ থেকে পঙ্গপালের মতো আসা অভিবাসন ইচ্ছুক অল্প বয়সের ছেলেমেয়েদের মূলত মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো বিষয়টি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ও হোয়াইট হাউস যখন হিমশিম খাচ্ছিল তখনই তাদের অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিপাবিকানরা জর্জিয়াতে ভোটাধিকার বিষয়ক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সমর্থ হয়।

তবে, ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদরা অচিরেই বর্ডার থেকে সংবাদ তথা যোগাযোগ মাধ্যমের লক্ষ্যবস্তু জর্জিয়ার ভোটাধিকার বিষয়ক পরিবর্তনকে ২০২২ আর নির্বাচন ইস্যুতে নিয়ে আসতে অনেকাংশে সক্ষম হয়। দলটির সমর্থকরা ও ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে নব উদ্যোগে রাজনীতির মাঠ সরগরম করার সুযোগ পায়। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও হোয়াইট হাউজের সমালোচনায় রিপাবলিকান দলের যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তাতে কিছুতা ভাটা পরে। স্পষ্টতই, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কট্টর অনুসারীদের আপাতত পশ্চাৎপসরন ডেমোক্রেটদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় । ইদানীং পূর্বে প্রচারিত তিরিশের ও বেশী ষ্টেটের জর্জিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করার ব্যাক্ত স্পৃহায় কিছুটা হলে ও অবদমন লক্ষ্য করার মতো। তবে, ২০২২ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে যাবে ভোটাধিকার প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের সম্যসা ততই প্রকট রূপ ধারণ করার সম্ভাবনা বেড়েই যাবে ।

কারণ একটাই- তা হল আফ্রিকান-আমেরিকান এবং অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী ২০২০ নির্বাচনে যে হারে ভোট দিয়েছে তা কমে যাবে। ডেমোক্রেটদের আশংকা, স্টেসি আব্রাহাম ও তাঁর কর্মী বাহিনী জর্জিয়ায় করোনা সময়ে ও ভোটার রেজিট্রেশন, ভোট প্রদান, ভোটারদের কেন্দ্রে আনয়ন, খাবার ও পানীয় সরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিল ইলেকশন রিফরম বিল তা ব্যাহত করবে লক্ষণীয় ভাবে। অনেকে মনে করেন, ২০২০ নির্বাচনের পূর্বে এ সংস্কার বিলটি যদি পাশ হতো তা’হলে অত্যয়িতের মত জর্জিয়া রিপাবলিকানদের পাকাপোক্ত পরীক্ষিত ঘাটিই থেকে যেতো – বাইডেন জিততে পারতেন না, এবং সিনেট আসন দু’টো ও রিপাবিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা যেত না।

জর্জিয়ার ইলেকশন রিফরম ভোটারদের অধিকার সমুন্নত রাখার পরিবর্তে তা অবদমিত (suppress) করবে বলে ডেমোক্রেটরা মনে করে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন জর্জিয়ায় নেয়া সংস্কার ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে একে অতিশয় নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে জর্জিয়াতে রিপাবলিকান গভর্নর ব্র্যায়ান কেম্প (Brayan kemp)’ র নেতৃত্ব ও ট্র্যাম্পের প্ররোচনায় নির্বাচনের যে আইন করা হয়েছে তা “ despicable” এবং “atrocity”র সমতুল্য। তিনি জাস্টিজ বিভাগকে জর্জিয়ার আইনটি খতিয়ে দেখার জন্য বলেন। প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশ (executive order) স্বাক্ষর করেছেন যাতে প্রতিটি ভোটারের ভোট দিতে পারা নিশ্চিত করার প্রয়াসে কেন্দ্রীয় সরকারের উৎস থেকে সম্পদ ব্যবহার করা যায়। তবে জর্জিয়া যেমন সংস্কার বিল পাশ করেছে এ রকম প্রচেষ্টায় আরও ষ্টেট যদি আগুয়ান হয় সে ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেনা কারণ নির্বাচন পরিচালনা ষ্টেট গভর্নমেন্টের দায়িত্ব। আফ্রিকান-আমেরিকান ও অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ভোট প্রদান নিরুৎসাহিত করার কলা কৌশল হিসেবে জর্জিয়া বা জর্জিয়া ধরনের সংস্কার বিষয়টির সীমাবদ্ধতা , ভোটাধিকারে তা যে গণতান্ত্রিক অধিকার হরনের শামিল এসব বার্তা জোরেশোরে প্রচার করার সাথে সাথে ভোটারদের নিরন্তর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এখন থেকে হাতে নেয়া এবং ২০২২ নির্বাসন অব্দি চালু রাখা একটি ফলপ্রসূ এবং সময়োচিত সমাধানের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া হতে পারে।

কংগ্রেসকে এ বিষয়ে টেনে আনলে ও ফলোদয় তেমন হবে না এ বাস্তবতাকে মনে রেখে বিভিন্ন বিকল্প কৌশলের সন্ধান এবং কাজে ঝাঁপিয়ে পরার সময় ডেমোক্রেটদের জন্য এখুনি সমাগত। তবে সর্বদলীয় ভাবে গঠনতন্ত্রে ইলেকশন এবং ভোটাধিকার সংস্কারে সংশোধনী আনয়নের আলাপ-আলোচনা ও প্রক্রিয়া দুরূহ হলে ও শুরু করা বিবেচনায় রাখা জরুরী।

(০৩/৩০/২১ তারিখে THEHILL এ প্রকাশিত Democrats seize on voting rights; GOP cries foul by Jonathan Easley and Brett Samuel লিখিত প্রবন্ধ থেকে সহায়তা নেয়া হয়েছে )।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন
গল্প : দুই বোন

(1115 বার পঠিত)

স্মরণে যাতনা
স্মরণে যাতনা

(631 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন
মানব পাচার কেন

(379 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.