শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১ | ৭ কার্তিক ১৪২৮

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জ্যাকসন হাইটসকে ভালো লাগার কারণ এর বৈচিত্র

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১

জ্যাকসন হাইটসকে ভালো লাগার কারণ এর বৈচিত্র

নিউইয়র্ক সিটির সর্ববৃহৎ কাউন্টি কুইন্সকে ভালো লাগার অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যা সিটিকে অন্য কাউন্টিগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন গুরুত্বের স্থানে রেখেছে। শুধু জ্যাকসন হাইটসের কথাই যদি ধরা যায়, তাহলে সিটির যে কোনো স্থান থেকে এই এলাকটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সবচেয়ে সহজ, আবাসিক এলাকাগুলোর রাস্তা চমৎকার এবং এভিনিউগুলো মানুষের চলাচল, সমাবেশ ও প্রাণপ্রাচুর্যে উচ্ছল। ১৯০০ সালের প্রথম দিকে জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি ছিল কৃষি খামার, যা বিশ এর দশকে দেশের প্রথম “গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্ট” আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠতে থাকে। ওই সময়ের নির্মাতারা জ্যাকসন হাইটসকে একটি আয়তাকার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছিল, যেখানে থাকবে জাঁকজমকপূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, দোতলা বিশিষ্ট বাড়ি এবং সারিবদ্ধ বিপনিসহ বানিজ্যিক এলাকা। যদিও সেই সাবেক দৃশ্য এখন আর নেই, তবুও জ্যাকসন হাইটস ও আশপাশের এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিতৃপ্ত একটি গ্রামের মতই আছে। ব্যস্ত এলাকা সত্বেও সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো জ্যাকসন হাইটসে বাড়িঘরের ভাড়া বা মূল্য এখনো ভাড়াটিয়া ও ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে। ভাড়া বা মূল্য তাদেরকে হতাশ করবে না। গত বছরের অক্টোবর মাসের এক হিসেবে দেখা যায়, তখন মাঝারি আয়ের লোকদের জন্য বাড়িভাড়া ১,৯৭৫ ডলারের মধ্যে এবং বাড়ি ক্রেতার জন্য ৪ লাখ ৭২ হাজার ডলার মূল্যেও বাড়ি পাওয়া সম্ভব ছিল। জ্যাকসন হাইটসের হৃদপিন্ড হলো রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৩৭ এভিনিউ। সকল শ্রেনির মানুষ ও পরিব্রাজকদের জন্য বিস্ময়ের এক স্থান। ঘড়ির কাঁটার মত সজাগ ও চঞ্চল। এখানে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সগুলোও সুন্দর, প্রতিটির মাঝখানে রয়েছে একটি করে উদ্যান, যা অ্যাপার্টমেন্টের প্রত্যেক বাসিন্দার দৃষ্টিকে পরিতৃপ্ত করার জন্য যথেষ্ট। শীতেও সবুজ গাছে সমারোহ থাকে চিরহরিৎ গাছের কারণে। অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বাইরেও একই ধরনের শোভা দেখা যাবে। বসন্তে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে চিরসবুজ বৃক্ষরাজি।

ইতিহাসবিদ ড্যানিয়েল ক্যারাটজাস তার “জ্যাকসন হাইটস: এ গার্ডেন ইন দ্য সিটি” গ্রন্থে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন স্থাপত্য বৈশিষ্টে নির্মিত ভবনগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন: গ্রেগরিয়ান, ট্যুডর, রিভাইভ্যাল, ইটালিয়ান এবং অন্যান্য সভ্যতার স্থাপত্যকলার অনুকরণে নির্মিত অট্টালিকার সমরোহ জ্যাকসন হাইটস। বিত্তবান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে নির্মার্তারা অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংগুলোর প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে উচু ছাদবিশিষ্ট বড়সড় রুম, ফায়ারপ্লেস, প্রশস্ত বারান্দার সুবিধা রেখেছিলেন। এমনকি সার্ভেন্টস রুমের ব্যবস্থাও আছে। প্রতিটি ঐতিহাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পৃথক পৃথক নাম রয়েছে এবং সেই ঐতিহ্যের অনুসরণে নতুন ভবনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে: ‘হ্যাম্পটন কোর্ট,’ দ্য বার্কেলি’ ইত্যাদি, শুধু ভবন নম্বর বা ঠিকানা নয়। এই ঐতিহাসিক ভবনগুলো বেসরকারি মালিকানধীন হলেও জ্যাকসন হাইটস বিউটিফিকেশন গ্রুপ প্রতি বছর জুন মাসে ‘জ্যাকসন হাইটস হিস্টোরিক উইকএন্ড’ এর আয়োজন করে, যখন উদ্যানগুলো জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়। জ্যাকসন হাইটসের কোনো কোনো এলাকা থেকে আশপাশের এলাকাগুলো ছাড়াও ম্যানহাটানের আকাশছোঁয়া অট্টালিকার সারি চোখে পড়ে।

জ্যাকসন হাইটস এমন এক এলাকা, যেখানে বসবাসকারী ও বেড়াতে আসা লোকজনকে ১৬০টির বেশি ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। বিস্ময়ের কিছু নেই যে, বিশ্বের প্রায় সকল দেশের মুখরোচক খাবারও পাওয়া যায় জ্যাকসন হাইটসে। ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় সামোসা থেকে কোরিয়ান ফ্রায়েড চিকেন, টাকো ইত্যাদি। অনেক দেশের হাতে তৈরি খাবারের পসরাও বসে বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে। সিটির একমাত্র গে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসে। প্রতি রোববার জ্যাকসন হাইটসের ট্রেভারস পার্কে বসতো ফারমার্স মার্কেট, যা এখন জোসেফ পুলিৎজার আইএস ১৪৫ এর সামনে বসে। গতবছর আগস্ট মাসে নিউইয়র্ক টাইমসে “জ্যাকসন হাইটস: গ্লোবাল টাউন স্কোয়ার” শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে প্রতিবেদক মাইকেল কিমেলম্যানও সিটির এই বিশেষ স্থানটির বৈশিষ্ট তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন: জাতি-বৈচিত্রের বৈশিষ্টে সমৃদ্ধ নিউইয়র্কের অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্থান জ্যাকসন হাইটসের আয়তন সেন্ট্রাল পার্কের আয়তনের বড়জোর অর্ধেক। কুইন্স কাউন্টির উত্তর-মধ্যবর্তী অবস্থানে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের বসবাস জ্যাকসন হাইটসে, যারা প্রায় ১৬৭টি ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীতে না হলেও এটি নি:সন্দেহে নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশি সংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্রপূর্ণ স্থান। জ্যাকসন হাইটস ল্যাটিনো যারা নিজেদেরকে এলজিবিটিকিউ হিসেবে পরিচয় দেয়, এবং ক্রমবর্ধমানভাবে দক্ষিণ এশীয়দের কেন্দ্রে পরিণত হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে যে গতিতে পরিবর্তন ঘটেছে, জ্যাকসন হাইটসের পরিবর্তনের দ্রুততা তার চেয়েও বেশি এবং স্থানটি ধারণ করেছে পৃথিবীর অসংখ্য কমিউনিটিকে। কোথাও দেখা যাবে ল্যাটিন আমেরিকান সাংস্কৃতিক দৃশ্য, কোথাও দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে, নেপালি ও তিব্বতিরা, শহুরে এটিক্টভিষ্টরা স্থানীয় রাস্তায় গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আন্দোলন করছে। মহামারী কোভিড-১৯ এর কথা বলা হলে জ্যাকসন হাইটস ছিল নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে বেশি উপদ্রুত এলাকা।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক মাইকেল কিমেলম্যান লিখেছেন, ডাইভারসিটি প্লাজা প্রকৃত অর্থে জ্যাকসন হাইটসের ‘টাউন স্কোয়ার’ এবং অদূরেই ৭৪ ষ্ট্রিটের উপর ভারতীয় মালিকানাধীন প্যাটেল ব্রাদার্সের অতিব্যস্ত গ্রোসারি ষ্টোর। সাবওয়ে ষ্টেশনের কাছে বলে ডাইভারসিটি প্লাজা ট্যুরিষ্টদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, কারণ আশপাশে বহু রেষ্টুরেন্ট ও ফুডকার্ট, যেখানে স্বল্প মূল্যে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। স্থানীয়দের জন্য এটি একটি সমাবেশস্থল, ঘুরে বেড়ানো ও আ্ড্ডা দেয়ার এবং যার যার দেশের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক করার উপযুক্ত স্থান। লোকজন বাংলাদেশী ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করছে, এবং সাইডওয়াক সংলগ্ন দোকান ও রেষ্টুরেন্ট থেকে মমো ও সিঙ্গারা-সমুচা কিনছে এবং ভিড় জমিয়ে উভয় পাশের সাইডওয়াক বন্ধ করে রেখেছে। এ দৃশ্য নিত্যদিনের এবং তা দৃষ্টিতে পড়বে গভীর রাত পর্যন্ত। নিউইয়র্ক সিটির এক অভিনব স্থানে পরিণত হয়েছে বর্তমান জ্যাকসন হাইটস। এখানে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ভবনের দোতলায় প্রায় সবই অফিস রুম। প্রতিটির জানালায় বহু ভাষায় সাইনবোর্ড টানিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে কোন অফিসে কি কাজ করা হয। তারা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজ, সহজে গ্রীনকার্ডের ব্যবস্থা করা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা, আইআরএস এর ট্যাক্স ফাইলিং, ড্রাইভার্স লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা, ডিভোর্স, ফিউনারেল এবং স্কুল ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিকরণের কোচিং সেন্টার ইত্যাদি। জ্যাকসন হাইটসের নতুন ইমিগ্রান্টরা সবসময় জানে না যে কিভাবে আমেরিকান সিষ্টেমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে অথবা কার ওপর আস্থা স্থাপন করা যাবে। অতএব বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী, তারা এ ধরনের নতুন ইমিগ্রান্টকে এখানে দেখতে তাকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেয়। জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট এভিনিউয়ে অবস্থিত ‘রোমানটিকোস’ এর মতো বেশ কিছু ল্যাটিনো বার আছে, যেগুলোকে তারা বলে ট্যাক্সি ড্যান্স হল। যে সম্পর্কে ১৯২০ এর দশকে হেনরি মিলার লিখেছেন। এসব বারে ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত স্বল্প বসনা ইমিগ্রান্ট তরুণীরা নাচে এবং অতিরিক্ত কয়েকটি ডলার পরিশোধ করলে তারা আরো বেশিসময় নৃত্য প্রদর্শন করে। যারা সেখানে যায় তাদের অধিকাংশের ইমিগ্রেশনের বৈধতা নেই এবং অনেক যাতনার মধ্যে থাকে। সামান্য ক’টি ডলারের বিনিময়ে হলেও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তারা তাদের একাকীত্ব ভুলে থাকতে পারে।
আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ ইমিগ্রান্টদের একটি বড় অংশ জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বাস করে। মনে হয় তাদের সাথে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নীরব সমঝোতা রয়েছে, যে কারণ তার অনেক ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর প্রয়োগ করে না। কেউ যদি এখানে থাকে তাহলে তার অবস্থানের বৈধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করা হয় না। তারা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে পারে এবং চাকুরি পেতে পারে। ভাড়া দেয়ার জন্য ও দেশে পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত আয় করে। জ্যাকসন হাইটসে রুজভেল্ট এভিনিউ বরাবর অনেক ষ্টোরে ইমিগ্রান্টদের দেশে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেজন্য রেমিট্যান্স অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা। গত বছর সারাবিশ্বে ইমিগ্রান্টরা ৫৫৪ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিজ দেশে পাঠিয়েছে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৫০ বা ১০০ ডলারের ছোট অংক হতে পারে। কিন্তু সে অর্থ সরাসরি দাদিমার কাছে যায় তার চিকিৎসার জন্য অথবা বোনের কাছে যায় তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি দেয়ার জন্য। এতে সরকারের দুর্নীতির আওতামুক্ত থাকে রেমিট্যান্সের অর্থ। ৩৭ এভিনিউ থেকে এক ব্লক উত্তরেই দেখা যাবে ‘সাইডওয়াক ব্যালে’, যা পথচারিরা উপভোগ করে। প্রাণবন্ত এভিনিউ, রুজভেল্ট এভিনিউয়ের মতো ভিড়াক্রান্ত নয়- কোরিয়ান গ্রোসারি ও গুরমেট চিজ ও মদের দোকান থেকে শুরু করে ব্রাজিলিয়ান ও কলম্বিয়ান বুটিকের দোকানে সস্তা দামের জিনস ও লিঙারি বিক্রয় হচ্ছে।

Posted ৩:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.