রবিবার, ১৯ মে ২০২৪ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিরাপত্তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠক

ঢাকায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলাচেষ্টা

বিশেষ সংবাদদাতা :   |   বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২

ঢাকায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলাচেষ্টা

নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলামের বাসায় গিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ঢাকায় হামলার চেষ্টা করা হয়েছে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এর ওপর। গত ১৪ ডিসেম্বর, বুধবার সকালে রাজধানীর শাহীনবাগে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যান রাষ্ট্রদূত। তিনি পূর্ব নির্ধারিত সুচী অনুযায়ী সুমনের পরিবারের সাথে কথা বলছিলেন। এসময় সরকার সমর্থিত ‘মায়ের কান্না’ নামক একটি সংগঠন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাসাটি ঘিরে ফেলেন এবং ফটকের বাইরে হট্টগোল করতে থাকেন। প্রায় ২৫ মিনিট তিনি সেখানে ছিলেন। এ সময় একটি সংগঠনের তরফে পূর্ব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলা এবং স্মারকলিপি দেয়ার চেষ্টা হয়। এতে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি, কারাদণ্ড, চাকরিচ্যুত সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের কান্না’।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সুমনের পরিবারের সাথে বৈঠক শেষ না করেই রাষ্ট্রদূত পিটার হাস পুলিশি পাহারায় দ্রুত বাসা থেকে বেড়িয়ে গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে ঘিরে ধরেন সংগঠনটির কর্মীরা। এসময় তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে আঘাত করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সাথে থাকা দূতাবাস কর্মীরা।


বিএনপির ঢাকা মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির (বর্তমানে ঢাকা উত্তরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাজেদুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছেন, সাজেদুলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বৈঠক শেষ না করে সেখান থেকে চলে যান পিটার হাস। বিষয়টি তাঁরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছেন। আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশ ডেস্কের অফিসার লিকা জনসন।

সাজেদুলের বোন সানজিদা ইসলাম গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মায়ের ডাক’এর সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, ‘ আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস আসবেন জেনে তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুই দিন আমাদের বাসায় আসেন। রাষ্ট্রদূত আমাদের বাসায় প্রবেশের ৪০ মিনিট আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও মায়ের কান্না সংগঠনের লোকজন রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। বাসা থেকে বেরিয়ে যখন তিনি গাড়িতে উঠছিলেন, তখন তাঁরা কথা বলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হট্টগোলও হয়। পরে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থানা–পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিনি গাড়িতে উঠে চলে যান।’


আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে সানজিদা বলেন, ‘তিনি নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনাগুলোর তদন্ত হচ্ছে। তাই আমরা তাঁকে ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছি। আমরা এখন কী চাই, সেটাও তিনি জানতে চেয়েছেন।’ রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস কী বলেছেন জানতে চাইলে সানজিদা ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনাগুলো কীভাবে তদন্ত করা যায়, সেটা নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন। শাহীনবাগ থেকে রাষ্ট্রদূত সরাসরি চলে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ আব্দুল মোমেনের কার্যালয়ে। নিজ নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এদিকে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে ফেলার ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দূল কাদের দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো বাহাস করেছেন বুদ্ধিজীবী দিবসের দলীয় সমাবেশে। সুমনের বাসায় রাষ্ট্রদূত কেন গেলেন এ নিয়ে ছুড়ে দিয়েছেন প্রশ্ন। ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গুম-খুনের পরিসংখ্যানের বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি সামনে এনেছেন একই সমাবেশে। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লংঘনকারীদের ভরন-পোষন করে বলেও উল্লেখ্য করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য বিএনপির ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউজ এবং রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ব্যক্তিগতভাবে সরকার ও পুলিশের হামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সরকার বিষয়গুলো সহজভাবে না নিয়ে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক না গলানোর লিখিত পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাসগুলোকে।


সরকারের কতিপয় মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ধরণের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন বিরামহীনভাবে। এর আগেও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে কাজের ছেলে মজিনা বলে ব্যঙ্গ করেন তারা। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে ১০১৮ সালের আগষ্টে ঢাকার মহম্মদপুরে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র যুবক। সেদিন তিনি সুজন সম্পাদক বদিউল আলমের মহম্মদপুরের বাসায় গিয়ে ছিলেন নৈশভোজে আমন্ত্রিত হয়ে। ফেরার পথে হামলার শিকার হন বার্নিকাট। রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সুমনের শাহীনবাগের বাসায় যাবেন এ বিষয়টি শুধু স্থানীয় থানার পুলিশই জানতো। কিন্তু বাইরে তার আগমনী সংবাদ কিভাবে ফাঁস হলো এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পিটার হাসের

রাজধানীর শাহীনবাগের ঘটনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সেখানে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা উল্লেখ করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বুধবার সকালে শাহীনবাগে প্রায় এক দশক ধরে নিখোঁজ বিএনপির নেতা সাজেদুল ইসলামের বাসায় যান পিটার হাস। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় বাসার বাইরে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র সাংবাদিক জানান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বৈঠক শেষ না করেই সাজেদুলদের বাসা থেকে চলে আসেন পিটার হাস। বিষয়টি তাঁরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছেন।

শাহীনবাগ থেকে আসার পর দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত জরুরি ভিত্তিতে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বললেন যে তিনি এক বাসায় গিয়েছিলেন, আর সেখানে যখন গিয়েছেন, কিন্তু বাইরে বহু লোক ছিল। তারা উনাকে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। উনার সিকিউরিটির লোকেরা উনাকে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তারা বলেন যে ‘‘ওরা আপনার গাড়ি ব্লক করে দেবে’’। সেই নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা থেকে তিনি তখন তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে গেছেন। এবং এতে তিনি খুব অসন্তুষ্ট হয়েছেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি উনাকে (রাষ্ট্রদূত) বললাম যে আপনার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব আমাদের। আপনার ওপর বা আপনার লোকের ওপর কেউ আক্রমণ করেছে? উনি বললেন যে, ‘‘না’’। তবে উনি বললেন যে, উনার গাড়িতে হয়ত দাগ লেগেছে। তবে এটা শিওর না। আমি বললাম, আপনার লোকদের নিরাপত্তা আমি দেব। আপনি যদি অধিকতর নিরাপত্তা চান আমরা দেব।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে জানান আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘আপনি ওখানে গেছেন এই খবরটা কীভাবে কে প্রকাশ করল, আমরা তো জানি না। আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানি না। আমাদের তো জানাননি। এ তথ্য লিক করল কে? ওইটার উনি উত্তর দিতে পারেননি। তো আমরা এটাই বলেছি, আপনি বরং বের করেন, আপনি ওখানে যাচ্ছেন, এটা কেমন করে প্রচার হলো, আপনার লোকই তো করতে পারে।’

পিটার হাস শাহীনবাগে যে বাসায় গিয়েছিলেন, সেই বাসার সাজেদুল ইসলাম ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে। তাঁর বোন সানজিদা ইসলাম গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী। তিনি জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত যখন তাঁদের বাসায় যান, তখন বাইরে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ‘মায়ের কান্না’ নামের আরেকটি সংগঠনের কিছু ব্যক্তি। ‘মায়ের কান্না’ ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি, কারাদণ্ডের শিকার ও চাকরিচ্যুত সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন।

সানজিদা ইসলাম বলেন, গতকাল বুধবার সকাল নয়টার কিছু পর তাঁদের বাসায় যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ডেস্কের কর্মকর্তা লিকা জনসন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত আসবেন জেনে তেজগাঁও থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুদিন (গত মঙ্গলবার ও গতকাল) আমাদের বাসায় আসেন। রাষ্ট্রদূত বাসায় প্রবেশের প্রায় ৪০ মিনিট আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও মায়ের কান্না সংগঠনের লোকজন রাস্তার ওপরে অবস্থান নেন। বাসা থেকে বেরিয়ে যখন পিটার হাস গাড়িতে উঠছিলেন, তখন তাঁরা কথা বলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হট্টগোল হয়। পরে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা থানা-পুলিশের সদস্যদের সহায়তায় তিনি গাড়িতে উঠে চলে যান।’

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ‘মায়ের কান্না নামে একটি সংগঠনের লোকজন এসেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে স্মারকলিপি দিতে। তিনি ওই বাসা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠেন, কোনো দিকে কর্ণপাত না করে চলে যান। কোনো হট্টগোল হয়নি।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে কথোপকথন তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, যদি কেউ আপনার ওপর আক্রমণ করে, আপনার লোকদের অ্যাসল্ট করে, পাবলিক প্রপার্টি, প্রাইভেট প্রপার্টি ধ্বংস করে, আমি তাঁদের গ্রেপ্তার করব। আপনার প্রটেকশন আমরা দেব।’

তবে বাংলাদেশে গণমাধ্যম খুব সোচ্চার হওয়ায় তাদের আটকাতে পারবেন না বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পিটার হাস চাইলে মিডিয়াকে তিনি ১০ ফুট, ১৫ ফুট দূরে রাখতে পারবেন।
দেশে সবার কথা বলার অধিকার থাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অবস্থানের সময় সাজেদুলের বাসার বাইরে যেসব লোক সমবেত হয়েছিলেন, তাঁদেরকেও বাধা দিতে পারবেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মোমেন। বৈঠকের আলোচনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওখানে লোকজন গেছে সেখানে বাধা দিতে পারব না। আপনার (পিটার হাস) প্রটোকশনের জন্য দূরে রাখব। তারা তাদের বক্তব্য দেবে, আমি তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব না। আপনার ওপর বা আপনার লোকের ওপর যদি আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয় পাবলিক ও প্রাইভেট প্রপার্টি ধ্বংস করে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারি।’

আমেরিকা-কানাডা খুনিদের মানবাধিকার রক্ষায় ব্যস্ত : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমেরিকা ও কানাডা খুনিদের মানবাধিকার রক্ষায় ব্যস্ত। জাতির পিতার সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ফেরত দিতে বলি, তারা দেয় না। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীর মানবাধিকার রক্ষা করছে তারা। ১৪ ডিসেম্বর (বুধবার) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না, সুরক্ষা দেয়। মানবাধিকার নিশ্চিত করে। আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে। গুম-খুন নিয়ে সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, বিএনপির অনেকে গুম-খুন নিয়ে কথা বলে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই তো এদেশে গুম-খুনের কালচার শুরু করেছেন। এরপর কোন মুখে বিএনপি গুম-খুন নিয়ে কথা বলে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জানে বেঁচে থাকাই তো মানবাধিকার নয়, সুরক্ষা নয়। আজ আমরা খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি, খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। বিএনপি কত মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করেছে? তাদের সময় খাদ্য উৎপাদন এক কোটি ৬৯ হাজার মেট্রিক টন ছিল। আমরা আজ চার কোটি ৭২ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করছি। আমরা চালই তো উৎপাদন করছি চার কোটি চার লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া গম, ভুট্টাসহ সব আমরা উৎপাদন করছি। তিনি বলেন, মানুষকে আমরা বিনা পয়সায় খাবার দিচ্ছি, স্বল্পমূল্যে দিচ্ছি। করোনার সময় বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছি। আমরা বিনা পয়সায় ওষুধ দিচ্ছি। গোটা বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মীকে গুম করেছেন। ফাঁসি দেওয়ার সংস্কৃতিও তার। একদিনে শত জনকে ফাঁসি দিয়েছেন। হাজার হাজার মা-বোন ও ভাইয়ের কান্না শোনা যায়। কত মানুষকে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছেন!

এক বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন, দুই হাজার সেনা অফিসার ও সৈনিককে প্রহসনের বিচারে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছেন। সেই পরিবারগুলো আজও তাদের আপনজনের জন্য কেঁদে ফেরেন। তারা মরদেহের খবরটাও তো পায়নি। তিনি বলেন, তারা জাতির পিতার খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের বিভিন্ন পদ দিয়েছেন। তখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি? আমার মানবাধিকার নিয়েও তো প্রশ্ন করতে পারি। জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ী কারা মারা গেছে, সেটা নিয়েই ব্যস্ত তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজ বুদ্ধিজীবী দিবস আমরা পালন করি। বিএনপির কী কোনো কর্মসূচি আছে? সেটাতে কী বুঝা যায়! সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

Posted ৩:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.