বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ভ্যাকসিন ভীতি বনাম ভ্যাকসিন প্রীতি

ডা. ওয়াজেদ খান   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভ্যাকসিন ভীতি বনাম ভ্যাকসিন প্রীতি

ভ্যাকসিন বা টিকা সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে মানব দেহে সৃষ্টি করে প্রতিরোধ ক্ষমতা। জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হয় সুনির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে। এতে ভাইরাসের জেনেটিক কোডের অতিশয় ক্ষুদ্র একটি অংশ প্রবেশ করানো হয় মানব দেহে। ভ্যাকসিনই সংক্রমণ রোধে এ যাবতকালে সবচেয়ে কার্যকর বলে পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। বিশ্বের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখনও রয়েছে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ ঝুঁকিতে। আর এ ঝুঁকি কমাতেই উদ্ভাবন কোভিড ভ্যাকসিনের। জীবন বিনাশী মারাত্মক সংক্রামক ব্যধি গুটিবসন্ত পৃথিবী থেকে নির্মূল করেছে এই ভ্যাকসিন। এতে রক্ষা পেয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন। এছাড়া যক্ষ্না, টিটেনাস, পলিও, হাম, জল বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা সহ অন্তত ২৭টি সংক্রামক ব্যাধির প্রতিরোধক হিসেবে ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। ফলে কমে আসছে মানুষের মৃত্যুহার ও শারিরীক বৈকল্যতা। তারপরও থেমে নেই। নূতন নূতন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। শতাব্দীকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাস।

বৈশ্বিক এ মহামারি গত এক বছরে কেড়ে নিয়েছে প্রায় ২৩ লাখ মানুষের প্রাণ। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে চার লাখ। করোনার সংক্রমন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয় দেশে দেশে। এ দৌড়ে এগিয়ে আছে বড় তিনটি প্রতিষ্ঠান। এক বছরের মাথায় বাজারে চলে এসেছে কোভিড ভ্যাকসিন। যদিও কোভিড ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক ব্যবহার ও বন্টনে রয়েছে ভারসাম্যহীনতা। ধনী দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ। তবে কোথাও এখনো নজির সৃষ্টি হয়নি গণহারে ভ্যাকসিন প্রয়োগের। চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা দৃশ্যমান সর্বত্রই। বিশ্ববাসী একটি বছর ধরে নিদারুন অপেক্ষায় ছিলো এই ভ্যাকসিনের।

নিজ জীবনকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে মানুষ। তাই কোভিড ভ্যাকসিন পেতে ব্যাকুলতার শেষ নেই তাদের মাঝে। সব বয়স এবং শ্রেনী পেশার মানুষ শুরুতেই পাচ্ছে না কোভিড ভ্যাকসিন। আবার যারা ভ্যাকসিন পাওয়ার যোগ্য তাদের অনেকের মাঝে দেখা যাচ্ছে অনাগ্রহ। এমন ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন দেশ ও সমাজে। ভ্যাকসিন প্রীতির পাশাপাশি ভ্যাকসিন ভীতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভ্যাকসিন ভীতির বিষয়টি নূতন কোন উপসর্গ নয়। কোন কোন ভ্যাকসিন ব্যবহারের শুরুতে বিপুল সংখ্যক মানুষের মাঝে এ ভীতি কাজ করছে। ধারণা করা হয় ১৫ শতাংশ মানুষের মাঝে এ ভীতি এখনো কার্যকর রয়েছে। যার প্রমাণ মিলছে উন্নত ও অনুন্নত উভয় সমাজে একশ্রেনীর মানুষের মাঝে। এই ভীতির উদ্রেক হয় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার উপর অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা থেকে। শিক্ষিত অশিক্ষিত উভয় শ্রেনীর মাঝেই এমন প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। চিকিৎসক, নার্স সহ অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও আছেন এই কাতারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড ভ্যাকসিন প্রয়োগের শুরুতেই অনেক চিকিৎসাকর্মী ভ্যাকসিন গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের একটি বড় অংশও ভ্যাকসিন গ্রহণে অনাগ্রাহী। শুুধু কি তাই লস এঞ্জেলেসে ভ্যাকসিন বিরোধী কট্টর ডানপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে একটি ভ্যাকসিন সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়। গত ৩০ জানুয়ারি স্ক্যামডেমিক এ বিক্ষোভের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয় সেন্টারটি। ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত গুজবও কাজ করছে এ ভীতির পেছনে ।

বাংলাদেশের মানুষ এতোদিন গভীর আগ্রহ ভরে অপেক্ষায় ছিলো ভ্যাকসিনের। কিন্তু ভ্যাকসিন দেশে পৌছানোর পর আগ্রহে ভাটা পড়েছে তাদের মাঝে। ভারত থেকে আমদানীকৃত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার উপর বিশ্বাস বা আস্থা স্থাপন করতে পারছেনা সাধারণ মানুষ। একেতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার গুজব। তার উপর ভারতীয় মাল। ভারতীয় পণ্যের প্রতি বরাবরই একধরণের অনীহা রয়েছে বাংলাদেশীদের। কোভিড ভ্যাকসিনের বিষয়টি তো বাঁচা মরার লড়াই। অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আসলে ‘চুন খেয়ে মুখ পুড়লে, দই দেখেও ভয় হয়।’ বাংলাদেশীদের অবস্থা হয়েছে তেমনটি। তাছাড়া অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ প্রথমে ভারতীয় ভ্যাকসিন গ্রহণ না করায় জনমনে অবিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হয়েছে। এখন এই ভীতি দূর করতে সময় লাগবে। গুরুত্ব দিতে হবে জনমনে বিশ্বাস স্থাপনের বিষয়টি।

ভ্যাকসিন নিয়ে আরো একটি ব্যক্তিগত ভীতি আছে। শরীরে সুঁই ফুটানোর বিষয়টি অনেকের জন্য বড় ধরণের ভীতির কারণ। একসময় ছিলো টিকাদারের আগমন সংবাদে গ্রাম-মহল্লা অনেকটা জনশূণ্য হয়ে পড়তো। বিশেষ করে কিশোর বয়সীদের তাড়া করতো আতঙ্ক। টিকার ভয়ে পানিতে ঝাপ দিয়ে মারা গেছে এমন নজিরও আছে। সুঁই বা ইন্্জেকশনের ভয়ে অনেকেই কাতর হয়ে পড়েন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সার্জারীর প্রখ্যাত একজন অধ্যাপক ছিলেন যিনি জীবনে অসংখ্য অপারেশন করেছেন। অথচ নিজে কখনো একটি ইন্্জেকশন নেননি। যমের মতো ভয় করতেন সুঁইকে। আবার ইন্জেকশন প্রেমীও রয়েছে। লিবিয়ায় বেনগাজীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দেখেছি ইন্জেকশন গ্রহণের প্রতি মানুষের গভীর আগ্রহ। সেখানে বয়স্ক রোগীদের ইন্্জেকশন প্রেসক্রাইব না করলে চিকিৎসাকে অপূর্ণ মনে করতেন তারা। বিশেষ করে ভাইটামিন ইন্্জেকশন তাদের কাছে খুবই প্রিয়।

এতো গেল ভ্যাকসিন ভীতির কথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন প্রীতিও বেড়েছে। মারাত্নক ৬টি সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে শিশুদের মাঝে ভ্যাকসিন প্রয়োগে কমেছে শিশু মৃত্যুর হার। পক্ষান্তরে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের গড় আয়ু। মানুষ এখন স্বেচ্ছায় ভ্যাকসিন নিচ্ছে। শীতের শুরুতে ডাক্তার খানায় ভীড় করছে ফ্লু ভ্যাকসিনের জন্য। করোনা মহামারির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো এতোদিন মুখিয়ে ছিলো কোভিড ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়। ভ্যাকসিন এসেছে। কবে, কখন, কোথায় তা পাওয়া যাবে এনিয়ে তর সইছে না অনেকের। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির সাথে জড়িত অনেক পরিকল্পনা-অনেক হিসেব নিকেষ রয়েছে মানুষের।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারেরও রয়েছে অতীত ইতিহাস। ব্রিটেনের এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৮ সালে প্রথম আবিষ্কার করেন গুটি বসন্তের ভ্যাকসিন। এর আগে ১৭৯৬ সালে ৮ বছর বয়সের জেমস ফিপস নামক এক বালকের দেহে তার পরীক্ষা চালান। এডওয়ার্ড জেনারকে বলা হয়ে থাকে রোগ প্রতিরোধ বিদ্যার জনক। আধুনিক গুটি বসন্তের ভ্যাকসিনের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় বিংশ শতাব্দীতে। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে চলে গুটিবসন্ত নির্মূল অভিযান। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের স্বর্ণযুগ ছিলো ১৯৬০ এর দশকে। এসময়কালে মিজলস (হাম), মাম্পস ও রুবেলা রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়। এই তিনটি ভ্যাকসিন ১৯৭১ সালে এমএমআর ভ্যাকসিন নামে বাজারে আসে। সত্তুরের দশকে যক্ষèা রোগের ভ্যাকসিন বিসিজি, টিটেনাস প্রতিরোধে ডিপিটি, কন্ঠনালীর সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ ও পলিও মাইলেটিসের ভ্যাকসিন সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে উন্মোচন করে নূতন দিগন্তের। এর আগে পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত হয় ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও হুপিংকফ ও গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন।

চিকিৎসক জীবনে দু’ধরণের ভ্যাকসিন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। এর একটি হলো ‘কলেরা অরাল ভ্যাকসিন ট্রায়াল প্রকল্প’। কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন। এখন ভ্যাকসিনটি ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিডিডিআরবির যৌথ গবেষণার ফসল এই ভ্যাকসিন। আইসিডিডিআরবির সেন্টারটি আছে চাঁদপুরের মতলবে। একসময় মতলব ছিলো কলেরা প্রবণ এলাকা। তাই সেখানে সেন্টারটি স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। এই সেন্টারের মাধ্যমে চালানো হয় কলেরা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক গবেষণা। জন হপকিন্সের অধ্যাপক ডেভিড স্যাক’র তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন ডাঃ ডেভিড জন কিøমেন্স। বড় মাপের এ প্রকল্পটি একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে স্থানীয় এক শ্রেনীর মানুষের ভ্যাকসিন বিরোধী অপপ্রচারে। হাট বাজারে ঢোল পিটিয়ে এবং লিফলেট বিলি করে বলা হয় এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা কাজে অংশ না নিতে। যারা এতে অংশ নিবে তারা চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে। ক্যান্সারাক্রান্ত হবে, ভবিষ্যত সন্তানরা হবে বিকলাঙ্গ। ভয়ঙ্কর সব প্রচারণা। প্রকল্পে নিয়োজিত চিকিৎসকরাও হিমশিম খেয়ে যান অপপ্রচার সামাল দিতে। তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং যার বাড়ি মতলব উপজেলায় সেই ব্যক্তি মেজর জেনারেল সামসুল হক হেলিকপ্টাওে করে ছুটে যান এলাকায়।

চেষ্টা করেন মানুষকে বুঝাতে। তাতেও কাজ হয়নি। ১৯৮৫সালের প্রথমার্ধের কথা। তখন আইসিডিডিআরবি বিশেষ একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় তরুণ চিকিৎসক নিয়োগের। তাতে আমরা ১২জন চিকিৎসক খন্ডকালীণ চুক্তিতে যোগ দেই কলেরা ওরাল ভ্যাকসিন ট্রায়াল প্রকল্পে।

সম্পূর্ণ নূতন পরিকল্পনা ও কর্মসূচীর ভিত্তিতে মানুষের ঘরে ঘরে চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি মোটিভেট করি তাদেরকে। তিনমাসেই পাল্টে যায় পুরো প্রকল্পের চেহারা। পরবর্তীতে কলেরা ওরাল ভ্যাকসিন দেখে চূড়ান্ত সফলতার মুখ। একই বছরের দ্বিতীয়ার্র্ধে আমি যোগদান করি বাংলাদেশ সরকারের ইপিআই তথা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীতে। শুরুতে দেশের চারটি বিভাগের চারটি জেলার মোট ৮টি উপজেলায় চালু করা হয় এই কর্মসূচী। ঢাকা বিভাগের আওতায় ময়মনসিংহ জেলা সদর ও ত্রিশালে চলছিলো কর্মসূচী। ত্রিশাল উপজেলা ছিলো আমার দায়িত্বে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফে’র যৌথ এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা প্রথম দিকে ছিলো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সেসময়টা টিকা সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিলো নেতিবাচক। সময়ের ব্যবধানে এখন মানুষ নিজ থেকেই সন্তানদেরকে চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে যায় টিকার জন্য। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী ভালো কাজ দিয়েছে বাংলাদেশে। ইপিআই-সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী ছিলো ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, মিজেলস, পলিও মাইলাইটিস, ও যক্ষার বিরুদ্ধে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার হাত থেকে বাঁচতে হলে ভ্যাকসিন গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। কোন ভ্যাকসিনই শতভাগ কার্যকর নয়। তারপরও সব ধরণের গুজব, অপপ্রচার ও ভীতি কাটিয়ে উঠে কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের মধ্যদিয়ে নিজেকে নিরাপদে রাখার পাশাপাশি গোটা বিশে সৃষ্টি করতে হবে¦ নিরাপদ পরিবেশ।

Facebook Comments Box

Posted ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.