বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
এফবিআইএ’র সতর্কতা সর্বত্র রেড এলার্ট

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্প-সমর্থকদের সহিংসতার আশঙ্কা

মোহাম্মদ আজাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্প-সমর্থকদের সহিংসতার আশঙ্কা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সমর্থক বেশকিছু গ্রুপ চলতি সপ্তাহ থেকে আগামী ২০ জানুয়ারী জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিহ প্রতিটি স্টেটের রাজধানীতে সশস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। গত সোমবার এ সংক্রান্ত একটি বুলেটিন প্রচার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। বুলেটিনের খবরটি প্রথমে প্রচার করেছে এবিসি নিউজ এবং এরপর সিএনএন। এফবিআিই তাদের বুলেটিনে সশস্ত্র প্রতিবাদী গ্রুপের কথা বললেও তারা কি ধরনের সংগঠনের সদস্য সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে এইসব চরমপন্থী শ্বেতাঙ্গ সংগঠনগুলো মূলত ‘রেডনেক,’ ‘কু ক্লাক্স ক্লানের সদস্যসহ অন্যান্য উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠনের সদস্য। এরা ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। গত ৬ জানুয়ারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে মূলত এসব চরমপন্থী শ্বেতাঙ্গরাই জড়িত ছিল। সেই হামলায় দু’জন পুলিশ অফিসারসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইতোমধ্যে শতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে। ট্রাম্প সমর্থক কিছু ভারতীয় ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে সেখানে ভারতীয় পতাকা হাতে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যমের খবরে এসেছে যে ভারতীয় পতাকাধারী লোকটি ট্রাম্পের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

এফবিআইএর প্রচারকৃত বুলেটিনে বলা হয়েছে যে সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে তারা হামলা চালানোর দিন নির্ধারণ করেছে ১৬ জানুয়ারী থেকে ২০ জানুয়ারী অর্থ্যাৎ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন পর্যন্ত। এফবিআই বলছে, চরমপন্থী শ্বেতাঙ্গ গ্রুপগুলো তাদের আন্দোলনের নাম দিয়েছে “ষ্টর্ম” অর্থ্যাৎ তারা বোঝাতে চেয়েছে যে তারা ঝড়ের গতিতে অভিযান পরিচালনা করবে। ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের নাশকতা চালানোর জন্য তাদের স্থিরীকৃত তারিখ ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত হলেও স্টেট রাজধানীগুলোতে হামলার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে ১০ থেকে ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত। এফবিআইএ’র মতে তাদের কাছে তথ্য আছে যে একটি সশস্ত্র সংগঠন জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে যে যদি কংগ্রেস সদস্যরা সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে পেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপসারনের চেষ্টা চালায় তাহলে সংগঠনটি তাদের নাশকতা ও সহিংসতামূলক কাজ চালানোর উদ্যোগ নেবে। এছাড়া সংগঠনটি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিনটিতে যেসব স্টেট সার্টিফাই করে বাইডেনকে ভোট দিয়েছে সেসব স্টেটের সরকারি ভবনগুলোতে তারা প্রচণ্ড হামলা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এফবিআইএ’র বুলেটিন অনুসারে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যাণ্ড সিকিউরিটির ইন্টেলিজেন্স অফিস বলেছে যে উগ্র টাম্প সমর্থক গ্রুপগুলো ইলেক্টোরাল কলেজ সার্টিফিকেশনের অফিসগুলোতেও হামলা চালানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। দ্য অফিস অফ ইন্টেলিজেন্স এন্ড এনালিসিস থেকে বলা হয়েছে যে কিছু চরমপন্থী ট্রাম্প সমর্থক গোষ্ঠী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অফিস, সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ অর্থ্যাৎ যারা তাদের মতামতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের উপরও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এফবিআইএ’র সতর্কতা জারির পর সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে রেড এলার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেট ক্যাপিট্যালগুলোতে ন্যাশনাল গার্ডসহ পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিজ জার্সিতে গত রোববার থেকে সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার জন্য ষ্টেট পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর পিল মার্ফি বলেছেন, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে কোন কিছুর নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে আমার বলার কোন ভাষা নেই। আমি যদি ট্রাম্পের কেবিনেটে থাকতাম তাহলে আমি ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপসারণের কথা বলতাম। আমি সবসময় বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু যখন দেখি কেউ সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে, তখন আমি অবশ্যই বলবো যে আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। গভর্নর মার্ফি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা বিক্ষোভকারীদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং বাড়িতে অবস্থান করবেন। আমরা যে কোন সহিংসতা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

গত মঙ্গলবার সিএনএনএ’র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ট্রাম্প সমর্থক কমপক্ষে চার হাজার সশস্ত্র চরমপন্থী জো বাইডেনের শপথের দিনে যে কোন ধরনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র ম্যারিয়েল বাউসার আমেরিকানদের প্রতি এই মর্মে আহবান জানিয়েছেন যে, আপনারা সাম্প্রতিক দিনগুলো থেকে শুরু করে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন পর্যন্ত ডিসিতে ভ্রমণ করতে আসবেন না। এছাড়া মেয়র বাউসার সিক্রেট সার্ভিসকে জো ব্ইাডেনের শপথ গ্রহণের দিনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে শুধু রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি নয়, ৫০ অঙ্গরাজ্যের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রচারপত্রও বিলি করা হচ্ছে। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ১৫ হাজার অতিরিক্ত ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হচ্ছে। বাইডেন বলেছেন, উন্মুক্ত স্থানে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস মোটেই ভীত নন। অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে ২০ জানুয়ারির শপথ অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। ছয় দিন আগে থেকেই সবকিছু প্রস্তুত থাকবে। এদিকে, কার্যকর নিরাপত্তার নির্দেশনা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-প্রধান চ্যাড উলফ নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

ট্রাম্পের আহ্বানে ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়া লোকজন ফের সহিংসতায় জড়িত হতে পারে বলে তদন্তে আভাস মিলছে। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সাবেক সেনা ও পুলিশের লোকজন সমাবেশে যোগ দিয়ে সহিংসতায় অংশ নিতে পারে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। সাবেক এসব পেশাজীবীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প-সমর্থক উগ্রবাদীরা আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র মহড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের আগে ১৭ জানুয়ারি তাঁরা এমন সমাবেশের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী বলবৎ করবেন। এই সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেই ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারেন। ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে এফবিআই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। রক্ষণশীল উগ্রবাদীদের তৎপরতার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা গ্রহণ করার জন্য এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার হুমকির মুখেও আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেতনা ধারণ করে বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র এই দিনটিতে নগরী এড়িয়ে চলার জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকার শত বছরের ঐতিহ্য ও উৎসবের উপলক্ষ নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান। এই প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চলছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গত ১৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকবেন।

বাইডেনের বিজয়কে ট্রাম্প মেনে নিতে পারেননি। এ জন্য নির্বাচনী প্রতিপক্ষকে তিনি অভিনন্দনও জানাননি। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সস্ত্রীক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ক্ষত ভুলে গিয়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানাবেন তাঁরা। তবে বেপরোয়া আচরণের প্রতিভূ ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের কাছে এমন শান্তির বাণী যে পৌঁছাচ্ছে না, সে আলামত লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

সহিংসতার শঙ্কায় ব্যাপক ধরপাকড় : ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ওই হামলার পরও থেমে নেই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের কর্মকাণ্ড। অনলাইনে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকেও লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা চলছে তাদের। সিএনএনের এক বিশ্নেষণে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল হিলে হামলার পর নিজেদের আরও বেশি বলিষ্ঠ ভাবতে শুরু করেছে চরমপন্থি সংগঠনগুলো। তাদের কণ্ঠে জোরালো হচ্ছে সহিংসতার আহ্বান। এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল ই বোজার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার আশঙ্কা করে রাজধানীজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ৬ জানুয়ারির উগ্রবাদীদের হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্নেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অন্যদিকে ওই হামলা দমনে ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্নেষণ করে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তবে কোথাও ব্যর্থতার কারণ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। গত ১০ জানুয়ারি মেয়র মুরিয়েল ই বোজার রাজধানীজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা জোরদারের জরুরি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের একদিন আগে থেকেই বাস্তবায়ন চান তিনি। তার এই আহ্বানের পরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গত বুধবারের হামলায় জড়িত সন্দেহে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মোট কতজনকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কিছু উগ্রপন্থি গ্রুপ ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ৬ জানুয়ারির মতো আরেকটা হামলার পরিকল্পনা করছে। ওই হামলায় এক ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। ‘মিলিয়ন মিলিশিয়া মার্চ’ নামে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে ইতোমধ্যে চার শতাধিক মানুষ যোগ দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান। সেখানে এক ব্যক্তি পোস্ট করেছেন, ‘একবার আমরা ভবনের দখল নিয়েছিলাম, আমরা আবারও এটা করতে পারি।’ এরই মধ্যে তাদের কেউ কেউ আবার ক্যাপিটল হিলের বাইরে সভা এবং ১৭ জানুয়ারি রাজধানীতে র‌্যালি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের। তারা বলেছে, ‘শপথ অনুষ্ঠান আমাদের গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদান। ওই অনুষ্ঠানের সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সর্বোচ্চ গুরুত্বের।’ কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জ্যাসন ক্রো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদীদের হুমকির আশঙ্কায় সতর্ক আছেন এবং তাদের প্রতিহত করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। অন্যদিকে, ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিল এবং এর আশপাশে হামলা ও দাঙ্গার ঘটনা প্রতিহতের কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। এক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, উগ্রবাদীদের তাৎক্ষণিকভাবে দমনে সমন্বিত পদক্ষেপের অভাব, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাব, উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধদের মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল পরিকল্পনা ও যোগাযোগের অভাব এবং ক্রমবর্ধিষুষ্ণ হুমকি সম্পর্কে যথাযথভাবে জরুরি বার্তা না পাঠানোসহ বিভিন্ন কারণে এই হামলা ও দাঙ্গা মোকবিলায় ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Posted ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.