রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক সিটিতে গত সপ্তাহে নিহত ১৪

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে বছরে ৩৬ হাজার প্রাণহানি

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে বছরে ৩৬ হাজার প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৮৩জন। গড়ে প্রতিদিন দেশটিতে গুলিতে মারা যায় ১০০জন মানুষ। বন্দুক সহিংসতার ভয়ংকর এ ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত এক দশকে এ ঘটনার শিকার হয়েছে ১২ লাখ মানুষ। দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষের অভিজ্ঞতা হয়েছে এসব বন্দুক সহিংসতা প্রত্যক্ষ করার। প্রায় প্রত্যেক আমেরিকান তার জীবদ্দশায় পরিচিত কাউকে না কাউকে বন্দুক সহিংসতার শিকার হিসেবে দেখে থাকেন। ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হলেও বন্দুকের গুলিতে আহতের সংখ্যা বছরে লক্ষাধিক। ২০১২ সালে ৩৯ হাজার ৭৭৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। যা তার পূর্বের ৪০ বছরের মধ্যে ছিলো সর্বোচ্চ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালে বন্দুক সহিংসতায় মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায় ১৬ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথমার্ধের শেষের দিকে বন্দুকের গুলিতে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। এবছরের প্রথমার্ধে বন্দুক সহিংসতায় গোটা যুক্তরাস্ট্র জুড়ে নিহত হয়েছে ১১ হাজার ৪৭জন। ২০১৯সালে এ সংখ্যা ছিলো ১৫হাজার ২০৮জন।

বন্দুক সহিংসতার সবচেয়ে বেশী ঘটনা ঘটে আত্নহত্যার মধ্য দিয়ে। প্রায় ৬১ শতাংশ অর্থাৎ ২২ হাজার ২৭৪ জন মানুষ বন্দুকের গুলি চালিয়ে কেড়ে নেয় তার নিজ জীবন। বন্দুকের গুলিতে খুনের সংখ্যা বছরে গড়ে ১২ হাজার ৮৩০জন। যার আনুপাতিক হার ৩৫শতাংশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে বছরে মারা যায় ১.৪ শতাংশ মানুষ। যার সংখ্যা ৪৯৬ জন। অপরদিকে অনিচ্ছাকৃত যা অসাবধানতাবশত গুলিতে মারা যায় ৪৮৭ জন আমেরিকান। এই হার ১.৩ শতাংশ। এছাড়া অনিরূপিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৯৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যামান দুর্বল বন্দুক আইন ও আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রাণহানি ঘটছে বেঘুরে। বন্দুক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ১০ স্টেটে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমেরিকানদের বন্দুকের গুলিতে মৃত্যুর সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ বেশি। এদেশে ৫১ শতাংশ মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয় বন্দুকের গুলিতে। বন্দুকে গুলি সার্বক্ষণিক লোড করা থাকে এমন পরিবারে বড় হচ্ছে ৪৬ লাখ শিশু। ফলে বছরে মারা যাচ্ছে ১ হাজার ৫’শ শিশু। পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার পাঁচগুণ বেশি। বন্দুক সহিংসতার খাতে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ ২২৯ বিলিয়ন ডলার।

নিউইয়র্ক সিটিতে বন্দুক সহিংসতায় এ সপ্তাহে নিহত ১৪ : নিউইয়র্ক সিটিতে বন্দুক সহিংসতা নজিরবিহিন ভাবে বেড়ে চলেছে। কিছুতেই সামাল দিতে পারছেনা আইন শৃংখলা বাহিনী। প্রতিদিনই সিটির বিভিন্ন বরোতে প্রকাশ্যে গুলিতে ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। গত এক সপ্তাহে ৭৬টি বন্দুক সহিংতার ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৪ জন। বাকিদের মধ্যে অনেকেই আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে হাসপাতালে। নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যানুযায়ী গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গুলিতে মৃত্যুর এ হার প্রায় তিনগুণ বেশী। ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতা ভাবিয়ে তুলেছে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনকে। এর আগের সপ্তাহে ঘটে ৬২টি বন্দুক সহিংসতার ঘটনা।

সর্বশেষ গত রোববার ভোররাত ২টার দিকে ব্রুকলীনের প্রসপেক্ট পার্ক এলাকায় গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘন্টায় সিটিতে ১১টি গুলির ঘটনায় ৪ জন মারা যায়। তন্মধ্যে ২৮বছর বয়সী জন জেফ নামে একজন কারেকশন অফিসার নিহত হন। এ ঘটনা ঘটে কুইন্সে। গুলিতে নিহতের ঘটনায় সিটিতে বুলেট প্রুফ ভেস্ট বিক্রি বেড়েছে ব্যাপক হারে। ভিশন রেইড নামে ২৮ বছর বয়সী এক যুবক গত শুক্রবার বিকেলে ব্রুকলীনের ওশেন এভিন্যুতে গুলিতে প্রাণ হারায়। আততায়ী তাকে মাথায় গুলি করে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায় শন। একই সময় ওজোন পার্কে ৩৮ বছর বয়সের ব্যক্তি গুলিতে আহত হন। তার পায়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ঘন্টা খানেকের মধ্যে ব্রুকলীনের লিংকন প্লেস ও ফ্রাংকলিন এভিন্যুতে ২৬ বছরের এক যুবককে গাড়ী থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় বন্দুকধারী। পরে তাকে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল সাবওয়ে স্টেশনে প্রকাশ্যে গুলিবষর্ণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সকালে ৪০ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে আততায়ী গুলি বর্ষণ করলে তার বাম হাতে গুলি লাগে বলে নিউইয়র্ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তিকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ব্রঙ্কসের মরিসিয়ান এলাকার ব্রায়ান্ট এভিন্যু ও ফ্রীডম্যান স্ট্রীটে শনিবার রাতে পৌনে ১২টার দিকে এক বন্দুকধারী একটি ভবনে প্রবেশ করে। সেখানে একটি এপার্টমেন্টের জানালা লক্ষ্য করে পর পর ১০টি গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়। অপরদিকে ব্রঙ্কসে পৃথক একটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়। এন্থনী মার্টিন (২৭) ব্রঙ্কসের সাউন্ড ভিউ এলাকায় গাড়ীর প্যাসেঞ্জার সিটে বসে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। ব্রুকলীনের ৩৯ ইস্ট এবং এভিনিউ ডি এলাকায় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় জামাল কোপল্যান্ড (৩২)কে গুলি করে এক বন্দুকধারী। জামালকে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, খুন সহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে সিটি জুড়ে। এ নিয়ে জনমনে এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এটিএম মেশিন ও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে সিটিতে।

দেশ জুড়ে বন্দুক সহিংসতা বৃদ্ধি : এদিকে শুধু নিউইয়র্ক সিটিই নয় বন্দুক সহিংসতা নজির বিহিনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরগুলোতে। শিকাগো, লস এঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, ডেনভার, ক্যানসাস সিটি, মিলওয়াকি, আটলান্টা সহ বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বন্দুক সহিংসতা। সেই সাথে বেড়ে গেছে সবধরণের অপরাধ প্রবণতা। গত ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত চলতি বছর ফিলাডেলফিয়া শহরে গুলিতে নিহত হয়েছে ২৬২জন। গত বছরের এ সময়ে তুলনায় হত্যাকান্ড বৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশ। গত সপ্তাহান্তে ডেনভারে বনভোজনকালীন একই পরিবারের ৯জন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৩জন। শিকাগোতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। গত ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই শহরে গুলিতে প্রাণ গেছে ৪৩২ জনের। বিগত বছরের তুলনায় ৪০শতাংশ বেশি। ক্যানসাস সিটি ও ইন্ডিয়ানাপলিসে বন্দুক সহিংসতা গত বছরের তুলনায় এবার প্রথম ৬ মাসেই বেড়েছে ৩২ শতাংশ। ক্যানসাস সিটিতে সম্প্রতি বন্দুকের গুলিতে মারা গেছে ১২৭জন।

একই শহরে ৩ জায়গায় বন্দুকধারীর হামলা, আহত ১৭ : যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনেটি শহরের তিনটি জায়গায় পৃথকভাবে একইদিনে চললো বন্দুকধারীর হামলা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৭ জন। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৬ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে। সহকারী পুলিশ প্রধান পল নিউডিগেট জানিয়েছেন, শহরের ওভার দ্য রাইন এলাকায় ১০ জনকে গুলি করা হয়েছে। সম্ভবত দু’জন মারাও গেছেন। ওয়ালনাট হিলস্ এলাকায় তিনজনকে গুলি করা হয়েছে। অ্যাভোনডেলে গুলি চলেছে চারজনের ওপরে। এই চারজনের মধ্যেও সম্ভবত দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংবাদসংস্থার মাধ্যমে জানা গেছে, এক থেকে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের তিন জায়গায় গুলি চলেছে। নিউডিগেটের মতে, হয়ত এই তিনটি ঘটনা সংযুক্ত নয়। কিন্তু খুবই ভয়াবহ এবং দুঃখজনক। আপাতত কাউকে আটক করা যায়নি। কিন্তু ঘটনাগুলি কেন ঘটল সেটাই প্রশ্ন। ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে বলে জানাল সিনসিনেটি পুলিশ। জুলাই মাসে ‘দ্য এনকোয়ারার’ খবর করেছিল, গত বছরের তুলনায় এবছর সে শহরে নির্মমতা অনেক বেড়েছে। বন্দুকের ব্যবহারও যে বেড়েছে। সেটাও দেখিয়েছিল তারা।

অন্যান্য খুনের ঘটনা ছাড়াই এবছরের প্রথমার্ধে বন্দুক সহিংসতায় গোটা যুক্তরাস্ট্র জুড়ে নিহত হয়েছে ১১ হাজার ৪৭জন। ২০১৯ সালে বছর জুড়ে এ সংখ্যা ছিলো ১৫ হাজার ২০৮ জন। আত্মহত্যার ঘটনা বাদে প্রতিনিয়তই বাড়ছে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা। আর এসব ঘটনা ঘটছে প্রকাশ্যে রাস্তায়, গাড়িতে, বাড়িতে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত হয় ১৩ হাজার ৫৩৭জন। ২০১৯সালে এ সংখ্যা ছিলো ১৫হাজার ২০৮জন। চলতি বছর বন্দুক সহিংসতায় মৃত্যু এবং অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট শহর, রাজ্য প্রশাসনকে বিপাকে ফেলেছে। নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়ে গেছে জনমনে। ফেডারেল সরকারও এ নিয়ে আছে প্রচন্ড চাপে। গুলিতে নিহতের সংখ্যা এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য কেউ কেউ মহামারি করোনা, চলমান আর্থিক মন্দা ও বেকারত্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে। আবার অনেকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেও এজন্য দায়ী বলে মন্তব্য করছে। মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের পর বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, পুলিশের ক্ষমতা খর্ব করা ও ফৌজদারী আইন বিচার কাজে সংস্কার অপরাধীদেরকে উৎসাহী করে তুলেছে এমন যুক্তির কথা বলছে অনেকে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বন্দুক সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে করোনাকালে অপরাধীদেরকে গণহারে জামিন ও মুক্তি দেয়ার বিষয়কে দায়ী করছে।

Posted ৭:১৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২০

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.