সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

দেশের ৫ লাখের বেশি মানুষের একাধিক এনআইডি, পায়ের আঙুলের ছাপ দিয়েও ভোটার

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

দেশের ৫ লাখের বেশি মানুষের একাধিক এনআইডি, পায়ের আঙুলের ছাপ দিয়েও ভোটার

ছবি : সংগৃহীত

দেশের সোয়া পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের দুটি করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। একাধিক এনআইডি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তাঁরা তা করেছেন। ফাঁকি দিতে অনেকে হাতের বদলে পায়ের আঙুলের ছাপও দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা বলেছেন, এক ব্যক্তির একাধিক এনআইডি নেওয়া সম্ভব হয়েছে ইসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে। ইসির সচিব শফিউল আজিমও বিষয়টির সত্যতা মেনে নিয়ে বলেছেন, বাঁ হাত, ডান হাতের বিষয় তো পরে, পায়ের আঙুলের ছাপ দিয়েও ভোটার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ইসির তথ্যভান্ডারে (ডেটাবেইস) ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৫৮ জন দ্বৈত ভোটার রয়েছেন। অর্থাৎ তাঁরা প্রত্যেকে দুটি করে এনআইডি নিয়েছেন। অথচ জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, একজন নাগরিক একটি এনআইডি পাবেন। আইন লঙ্ঘনে দণ্ডও আছে। তারপরও একাধিক এনআইডি নিয়েছেন সোয়া পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। যাঁদের মধ্যে ডা. সাবরিনা শারমিন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ রয়েছেন। এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগে ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইসি। আরও অনেকের বিরুদ্ধে এমন মামলা করা হয়েছে। হারিছ ও জোসেফের নামে করা চারটি এনআইডি বাতিল (লক) করেছে ইসি। আরও অনেক এনআইডির বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, কেউ জ্ঞাতসারে একাধিক এনআইডি নিলে এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থাৎ ইসির তথ্যভান্ডারের ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৫৮ জন দ্বৈত ভোটার আইন অনুযায়ী অপরাধী। কারণ, তাঁদের একাধিক এনআইডি রয়েছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এনআইডি জাল করলে বা এমন এনআইডি বহন করলে অনূর্ধ্ব ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এনআইডি জাল করতে সহায়তাকারী এবং জাল এনআইডি বহনে প্ররোচনা দেওয়া ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ইসি সূত্র জানায়, ভোটার হতে শুরুতে দুই হাতের বৃদ্ধাঙুল ও তর্জনীর ছাপ নেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়া শুরু করে ইসি। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ছাড়া সারা বছর থানা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নতুন ভোটার নিবন্ধনকালে এসব ছাপ ও প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয়। কেউ নতুন ভোটার হতে গেলে তাঁর আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি ইসির তথ্যভান্ডারে থাকা প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবির সঙ্গে মেলানো হয়।

সেখানে কারও সঙ্গে না মিললে আগ্রহী ব্যক্তিকে ভোটার করা হয়। ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে তিনি একটি এনআইডি পান। ২০১৯ সালের আগে কেউ ভোটার হতে আবেদন করলে শুরুতে তাঁকে একটি এনআইডি নম্বর দেওয়া হতো। পরে তাঁর তথ্য যাচাই করা হতো।

ইসির একটি সূত্র বলছে, একাধিক এনআইডি নেওয়ার বেশির ভাগ ঘটনাই ২০১৯ সালের আগে। যে কারণে একজনের আবারও এনআইডি নেওয়ার জালিয়াতি ধরা পড়েনি। তবে ইসির বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে ধরা পড়েছে, এক ব্যক্তির আঙুলের ছাপ অন্য ব্যক্তির দেওয়ার, ডানের বদলে বাম ও বামের বদলে ডান হাতের আঙুলের ছাপ দেওয়ার, এমনকি হাতের বদলে পায়ের আঙুলের ছাপ দেওয়ার কারসাজিও হয়েছে। এসব হয়েছে মিল এড়ানোর জন্য। আর এতে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। অবশ্য ইসি এ দায় নিজেদের কর্মকর্তাদের নয়, ডেটা অ্যান্ট্রি অপারেটরদের ওপর চাপাতে চায়।

সূত্র জানায়, ভোটার হতে আসা নাগরিকের আঙুলের ছাপ ৬০ শতাংশ বা তার বেশি না হলে তা সার্ভারে আপলোড না করার নির্দেশনা রয়েছে ইসির। তা সত্ত্বেও তাড়াহুড়ো বা অনৈতিক সুযোগ নিয়ে অনেকে অপূর্ণাঙ্গ ছাপ আপলোড করেছেন। ফলে এক ব্যক্তির একাধিক এনআইডি নেওয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া একজনের তথ্য আরেকজনের সঙ্গে বদল করার অভিযোগও রয়েছে।

চলতি বছরেও এক ব্যক্তির একাধিক এনআইডি নম্বর দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিজেই ধরেছেন রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ওই বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ভুলে তিনি এনআইডি সংশোধনের আবেদনের পরিবর্তে গত জানুয়ারিতে নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করে ফেলেন। মার্চে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি থানা নির্বাচন কার্যালয়ে বলতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামে আরেকটি এনআইডি নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেদিনই তিনি ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে আগেরটি বহালের এবং দ্বিতীয় এনআইডি বাতিলের আবেদন করেন। ৮ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত তাঁর দুটি এনআইডিই বহাল ছিল। তবে মার্চের পর শিক্ষাসনদ দিয়ে আবেদন করলে তাঁর এনআইডি সংশোধন হয়।

ইসির সচিব শফিউল আজিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, একাধিক এনআইডি বন্ধ করতে এবং এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জালিয়াতি-দুর্নীতি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়ার স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকার কারণে এমন হওয়ায় এগুলো ধীরে ধীরে উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

একাধিক এনআইডি হয়ে থাকলে করণীয় সম্পর্কে ইসির কর্মকর্তারা বলেন, একাধিক এনআইডি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে স্থানীয় থানা বা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নাগরিকের প্রথম এনআইডি বহাল রেখে পরেরটি বাতিল করছে কমিশন।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এক ব্যক্তির দুটি এনআইডি কার্ড থাকতে পারে না। এটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে সমাধান করতে হবে। এটি শুধু যাচাই-বাছাই করা নয়; যাঁদের একাধিক এনআইডি আছে, শুনানি করে অথবা তাঁদের কাছে বার্তা দিয়ে এটি সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

Posted ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2233 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.