বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ায় টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব দেশে মোট প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বুধবার (২৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে আচেহ ও পশ্চিম সুমাত্রায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে, হাজারো মানুষ আটকা আছেন, অনেকেই ছাদে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারের অপেক্ষায়। দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই।
শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন ‘দিতওয়া’ আঘাত হানার পর বড় ধরনের বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। সেখানে ১৩০ জনের বেশি নিহত এবং ১৭০ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ। দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার পানি ৩ মিটার পর্যন্ত উঠে গেছে। এতে ১৬০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ। হাট ইয়াই শহরে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় লাশ সংরক্ষণে রেফ্রিজারেটেড ট্রাক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। উত্তরের পেরলিস প্রদেশের বহু এলাকা পানির নিচে, হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা বহু জায়গায় আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, টাইফুন কোতো, বিরল সাইক্লোন ‘সেনইয়া’ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টি আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠেছে, যা বন্যা ও ভূমিধসকে মারাত্মক করে তুলেছে।
Posted ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh