বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৫
প্রতীকী ছবি
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বেশ তৎপর সরকার। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যে দুটি বৈঠকও করেছে টাস্কফোর্স। আজ রবিবার এর তৃতীয় বৈঠক রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।
টাস্কফোর্স সভার কার্যবিবরণী ঘেঁটে জানা গেছে, পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে, চলছে অভ্যন্তরীণ তদন্তও। তবে সম্পদ ফেরানোয় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাচারকারীদের সম্পদের তথ্যের ঘাটতি। অর্থ পাচারকারী ব্যক্তি বা কোম্পানির নামে রক্ষিত সম্পদের প্রকৃত তথ্য সরকারের কাছে না থাকায় তা উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, তারা ফিরিয়ে দিতে চায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন ও দুঃসাধ্য। গত ২ নভেম্বর এক সেমিনারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াও চালান জালিয়াতি, দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের পাঠানো অর্থ, ভিসা ও অভিবাসন ব্যয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া এই অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তবে এটি অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বলছে, বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার আরও বেশি কঠিন। অর্থ পাচারের নথিপত্র সংগ্রহ, পাচারের গতিপথ নির্ধারণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পাচার হওয়া দেশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর সময় লাগবে। আর বিষয়বস্তু ও প্রক্রিয়া জটিল হলে কোনো কোনো মামলা শেষ হতে ১৫-২০ বছর সময় লাগতে পারে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকারের ইচ্ছে রয়েছে। তবে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ কোনো দেশই পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। তবে টাকা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই সফলতা পাওয়া যায় না। কারণ যেসব দেশে টাকা গেছে, তারা চায় না টাকা ফিরে যাক। তৃতীয় বিশে^র দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশ থেকে বেশি পাচার হয়েছে। যারা ব্যাংকঋণ নিয়ে টাকা ফেরত দেয়নি, ঘুষ খেয়েছে এবং ঠিকাদারি করেছে; তারাই মূলত এসব টাকা পাচার করেছে। বর্তমান সরকার টাকা পাচার অনেকটাই বন্ধ করেছে। যার প্রভাবে রিজার্ভ বেড়েছে।
জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলারের দাম ১২০ টাকা) এর পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের রাঘববোয়াল (ক্রীড়নক), আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত অর্থনীতি নিয়ে তৈরি শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে টাকা পাচারের আনুমানিক এই চিত্র তুলে ধরা হয়।
Posted ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh