বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
হারনান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস
ভেনেজুয়েলায় বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হারনান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী এই নিরাপত্তা রক্ষীকে লা গুয়াইরার একটি শপিং মলের ধসে পড়া পার্কিং লটের ২৯ ফুট নিচ থেকে উদ্ধারের ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘অলৌকিক’ বলছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর কয়েকদিনের দীর্ঘ ও জটিল প্রচেষ্টার পর তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা
চিলির ফায়ার সার্ভিস এই উদ্ধার অভিযানে সরাসরি যুক্ত ছিল।
তারা জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বুধবার অনুসন্ধান ক্যামেরার মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের নিচে গিল ফ্লোরেসের নড়াচড়া প্রথম নজরে আসে। চিলির ফায়ার সার্ভিসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কংক্রিটের স্তূপের মাঝ দিয়ে তিনি তার আঙুল নাড়াচ্ছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, তাকে জীবিত রাখতে দীর্ঘ তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের ছোট ছিদ্র দিয়ে পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে পানি, তরল খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকোরকুয়ের মতে, ভূমিকম্পের পর সাধারণত তিন দিনকে ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ ধরা হয়, যেখানে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আট দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সত্যিই বিস্ময়কর।
স্বজনদের স্বস্তি
উদ্ধারের ঠিক আগমুহূর্তে ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস সিএনএনকে বলেছিলেন, ভয়ঙ্কর এই দিনগুলোতে ভেবেছিলাম তাকে হয়তো আর পাব না। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন জানার পর মনে হলো যেন সূর্যের আলো দেখলাম। তিনি একজন বীরের মতো লড়াই করেছেন। ফ্লোরেসের ঘরে ছোট সন্তানরা তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
তৎপর আন্তর্জাতিক দল
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনের কাঠামোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে জানান, উদ্ধারকর্মীরা তার কাছে পৌঁছানোর জন্য যে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন, সেটি কয়েকবার ধসে পড়লেও তারা হাল ছাড়েননি। কোস্টারিকার রেড ক্রস নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ফ্লোরেস চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি
গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি অস্থায়ী মর্গের একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি মৃতদেহ আসছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব সত্ত্বেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। হারনান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসের বেঁচে ফেরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অন্যদের স্বজনদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
গত ২৪ জুন (বুধবার) দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর আবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সূত্র : সিএনএন
Posted ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh