বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
হিমেলের জানাজা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিমেলের ট্রাক চাপায় মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদে রাতভর রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। রাবি প্রক্টরের প্রত্যাহারসহ শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। একইসঙ্গে ২ ফেব্রুয়ারি বুধবারের মধ্যে হিমেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাকচাপায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবীব হিমেলের জানাজার নামায বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় হাজারও মানুষের অংশ নিতে দেখা গেছে। সেখানে অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ৯ টায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্গ থেকে লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাযের জন্য লাশটি নিয়ে আসা হয়।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তায় ট্রাকচাপায় মাহমুদ হাসান হিমেল নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। হিমেল রাবির গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বগুড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন তিনি।
এদিকে হিমেলের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা উপাচার্য ও প্রক্টরের সাড়া না পেলে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ৬টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর উপাচার্য ভবনে হামলার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে গিয়ে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুরও চালানো হয়। পরে রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়ার ব্যাপারে উপচার্যের আশ্বাসের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। এরপর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে।
নিহত হিমেলের বন্ধু কনিক ও স্মৃতি জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা হিমেলের মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। তবুও রাবি কর্তৃপক্ষ মরদেহ সরাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। প্রক্টর লিয়াকত আলীকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের প্রত্যাহারের দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার মধ্যরাতে সেই দাবি মেনে নিয়ে তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
রাবির জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ পান্ডে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের পদত্যাগ ছিল, উপাচার্য তা মেনে নিয়েছেন। তবে এখনো তা গেজেট হয়নি। আজকের (বুধবার) মধ্যেই তা হয়ে যাবে।
Posted ৮:১২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh