বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাবিধি ভেঙে পার্টি করা নিয়ে ফের চাপের মুখে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পদত্যাগের দাবি উঠেছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বিষয়টি নিয়ে সেদিকে সবাইকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ায় এ নিয়ে ফের সরব হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। বর্তমানে তিনি যুদ্ধ-গদি-অর্থনীতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এখন জনসনের শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা।
করোনা সংক্রমণ রোধে জারি বিধিনিষেধ ভেঙে পার্টি করা নিয়ে যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চরম বিপাকে, তেমন একটা সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। সে সময়ে তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হন বিরোধীরা। ওই পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মস্কোর বিরুদ্ধে জনসনকেই সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা যায়। কিয়েভকে সহায়তা, মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সোচ্চার হন তিনি। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দৃষ্টি ঘোরাতেই ইউক্রেন সংকট নিয়ে সরব হন তিনি।
এরই মধ্যে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ১২টি জনসমাগমের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ওই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে জরিমানা করা হচ্ছে বলে তাদের নোটিশ দেয় পুলিশ। এ খবর প্রকাশের পর বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ের স্টারমার প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জনসন ও ঋষি আইন ভেঙেছেন এবং তারা জনগণের কাছে মিথ্যা বলেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন চেয়েছে।
এরই মধ্যে গতকাল দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা জানায়, গত তিন মাসে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি হয়েছে। তিন দশকের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফেব্রুয়ারির মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২ থেকে মার্চে ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সময় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যে পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ বেড়েছে। এ মূল্যস্ফীতি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে জনসনের নেতৃত্বকে। খবর এএফপির।
বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর সহায়তায় তার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্র যারা করেছে তারা খুব খুশি উল্লেখ করে পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘আমি যখন সরকারে ছিলাম তখন আমি বিপজ্জনক ছিলাম না, কিন্তু এখন আরও বিপজ্জনক হব’।
ইমরান খান বলেন, ‘আমরা আমদানি করা সরকারকে মেনে নেব না এবং এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে জনগণও জানিয়ে দিয়েছে তারা কী চায়’।
ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম জনসভায় একথা বলেছেন ইমরান খান। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের লাহোরে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন তিন ফের জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের পিটিআই সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিরোধী দলগুলোর সহায়তায় একটি ‘বিদেশী ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছিল।
রবিবার থেকে ইমরানের সমর্থনে শুরু হওয়া সমাবেশগুলোর উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘এর আগে যতবারই পাকিস্তানে একজন প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, লোকে উদযাপন করেছে। কিন্তু এবার তাকে যখন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, তখন জনগণ প্রতিবাদ করেছে’।
ইমরান বলনে, এই বিক্ষোভ থেকেই প্রমাণ হয়, পাকিস্তান শেহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে না, কারণ তার বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি রুপির দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শেহবাজ শরীফের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা রয়েছে। আপনি কি মনে করেন যে আমরা তাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নেব? এবং যারা তা মনে করে… তাদের বলতে চাই যে, পাকিস্তান আর সেই ১৯৭০ এর দশকের মতো নেই, যখন জুলফিকার আলী ভুট্টোকে বিদেশি শক্তির সাহায্যে সহজেই সরিয়ে দেওয়া গিয়েছিল। এটি এক নতুন পাকিস্তান’।
Posted ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh