বাংলাদেশ অনলাইন : | শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র কাবা শরীফের ঠিক ওপরে চাঁদের অবস্থান বিরল এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে সউদী আরবে। হাজার হাজার মুসল্লি সরাসরি এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন, যা একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা একে মহাবিশ্বের গতিপথ ও গণনার নিখুঁততার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে মক্কায় ক্ষীয়মাণ গিব্বাস চাঁদ কাবার একদম ওপরে চলে আসে। এ দৃশ্যকে বলা হচ্ছে এক অনন্য মহাজাগতিক ঘটনা। সউদী জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটি জানায়, এই অবস্থান প্রমাণ করে যে চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ গণনা করার ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞান কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করে। একই সঙ্গে, সারা বিশ্বের মুসলমানরা এর মাধ্যমে নামাজের দিক অর্থাৎ কিবলা নির্ধারণ আরও নির্ভুলভাবে করতে পারবেন।
সউদী প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির প্রধান মাজেদ আবু জাহরা বলেন, এ বিরল ঘটনার মাধ্যমে শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়, বিজ্ঞানীরাও বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক মডেলের মধ্যে তুলনা করার সুযোগ পেয়েছেন। তারা চাঁদের কোণ, উচ্চতা এবং গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন তাদের গণনা কতটা সঠিক।
পবিত্র কাবায় উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আধ্যাত্মিক আবহের মধ্যেই তারা সরাসরি আকাশের দিকে তাকিয়ে কাবার ঠিক ওপর দিয়ে চাঁদের অতিক্রম করার দৃশ্য দেখেছেন। অন্যদিকে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য ঘটনাটি ছিল একপ্রকার ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা ভবিষ্যতের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখবে।
আবু জাহরা আরও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত সপ্তর্ষিমণ্ডলের সামনে দিয়ে যাবে। সে সময় চাঁদ একে একে কয়েকটি নক্ষত্রকে ঢেকে দেবে। সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের বহু জায়গা থেকে এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে।
ঐতিহাসিকভাবে, ইসলামি জ্যোতির্বিদ্যা সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রের অবস্থান ব্যবহার করে নামাজের সময় ও কিবলা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজও সেই প্রাচীন ধারার ধারাবাহিকতায় এ ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা শুধু ধর্মীয় তাৎপর্যই বহন করছে না, বরং বিজ্ঞান ও গবেষণার জন্যও বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
Posted ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh