বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

করোনায় লাইফস্টাইল নিয়ে ড. বিজন কুমার শীলের একগুচ্ছ টিপস

  |   মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২০

করোনায় লাইফস্টাইল নিয়ে ড. বিজন কুমার শীলের একগুচ্ছ টিপস

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে থমকে গেছে সারা পৃথিবী। ধারণা করা হচ্ছে, অজানা এই বিধ্বংসী ভাইরাসে আক্রান্তের চেয়েও সংক্রমিতের সংখ্যা অনেক বেশি। কার্যকরী কোনো প্রতিষেধক না থাকায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন সংখ্যা। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রতিষেধক না থাকায় প্রতিরোধের উপরই এখনো নির্ভর করতে হচ্ছে বিজ্ঞানকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক অর্গানাইজেশনগুলো বলছে, তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে মিলতে পারে উত্তরণের পথ। তবে কবে নাগাদ এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে তা কেউ বলতে পারছে না। অবস্থা যখন এমন, তখন করোনা নিয়েই যে আমাদের আরো কিছুদিন থাকতে হবে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তবে করোনাকালীন এই সময়েও আমরা নিজেদের কিভাবে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে পারবো এ বিষয়ে কথা বলেছেন বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের আলোচিত বিজ্ঞানী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা সনাক্তকরণ কিট ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ গবেষক টিমের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল।

প্রশ্ন : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট কিট’ উদ্ভাবন নিয়ে বেশ ব্যস্ততম সময় অতিক্রম করছেন আপনি, সব মিলিয়ে কেমন আছেন?

ড. বিজন কুমার শীল : ব্যস্ততা আমার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন ব্যস্ত থাকতে হবে। আমার অন্যান্য কাজের তুলনায় এটা বেশ ব্যতিক্রম। কারণ বিরাট চ্যালেঞ্জে কাজ করতে হচ্ছে। এখানে কাজ করার জন্য যে র মেটেরিয়ালস প্রয়োজন সেগুলো একেবারেই নেই। আসলে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে আমরা বেশ পিছিয়ে গেছি। সব মিলিয়ে খারাপ না, ভালোই আছি।

প্রশ্ন : দেশে করোনার প্রভাব আরো কতদিন থাকতে পারে?

ড. বিজন : দেখুন এটি বলা দুষ্কর। কিন্তু আমার যেটি পার্সোনাল আইডিয়া বা অভজারভেশন আছে তাতে আমার মনে হয় না করোনা ভাইরাস বেশিদিন থাকবে। এটা বলা যাবে তখনই যখন আপনি একটা ম্যাস ট্রেস্টিং করবেন যে সোসাইটিতে কতগুলো মানুষ এই রোগের সংস্পর্শে এসেছে। একটা কথা ক্লিয়ার করতে চাই, আক্রান্ত হওয়া এবং সংস্পর্শে আসা কিন্তু ভিন্ন জিনিস। আক্রান্ত হওয়া তাকেই বলে যাদের বডিতে ভাইরাস এট্রি করার পরে ডিজিস তৈরী করে টিগার সাইন তৈরী করে আর সংস্পর্শ হচ্ছে আপনার বডিতে ভাইরাস ঢুকেছে তা আপনি জানেনই না। এই সংস্পর্শের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে কত শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

ড. বিজন : যেটা গর্ভনমেন্ট বলছে সেটাই কারেক্ট কিন্তু সংস্পর্শ হয়তো বেশি আসছে। আমি একটা পরিবারের কথা বলি যেখানে দুইজন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন (এন্টিজেন পজেটিভ) কিন্তু সেই পরিবারে আরো ১২ জন ব্যক্তি এন্টিবডি তৈরি করেছে, তাদের কোনো রকম কোনো সিমটম হয়নি, সামান্য একটু হাঁচি বা জ্বর হয়েছিলো। এই যে গ্রুপটা এদের সংখ্যা কিন্তু অনেক। এই সংখ্যাটাকে আমরা জানতে পারছি না বিধায় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ভয়ের ভেতরে আছি। আমার এই সকল অবজারভেশন থেকে মনে হয় আমাদের অনেক মানুষ এন্টিবডি তৈরি করেছে এবং করোনা ভাইরাসের এগনেস্টে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করেছে। যা করোনা ভাইরাসকে আর বেশিদিন টিকতে দিবে না।

প্রশ্ন : এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে করোনা নিয়ে তাহলে আমাদের এখনো বেশ কিছুদিন থাকতে হবে, এই অবস্থায় আমরা কি ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো?

ড. বিজন : স্বাস্থ্যবিধি যেটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে বা ইন্টারনেটে পেয়েছেন সেটাই, ওটা তো অবশ্যই মানতে হবে পাশাপাশি ভিটামিন ‘সি’ ও ‘জিংক’ নিয়মিত খাওয়া যায়। তারপরে এমন অভ্যাস যদি করা যায় যে আপনি বাইরে গেলেন সেখান থেকে ফিরে খুবই একটা হালকা চা তা দিয়ে গড়গড়া বা গারগেল করে নিলেন। তাহলে ভাইরাস যেহেতু নাক মুখ দিয়ে ঢুকে তাহলে তা কিন্তু ছড়াতে পারলো না। এবং সেক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি অনেকাংশে ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবেন। এবং এক্ষেত্রে তা ভাকসিনের মত কাজ করবে।

প্রশ্ন : দিনের মধ্যে কতবার গারগেল করতে হবে, গারগেলের সময় পানিতে বিশেষ কিছু মেশাতে হবে কিনা?

ড. বিজন : এটা নিয়মিত অবশ্যই তিন চারবার করবেন, সকালে, দুপুরে রাতে। বাহিরে থেকে আসলে তো অবশ্যই করবেন এবং হাত মুখ অবশ্যই পরিষ্কার করবেন। আপনি যদি গারগেল করেন তাহলে নাক মুখ দিয়ে যে ভাইরাসই ঢুকুক না কেন তা কিন্তু স্যাটেল হতে পারবে না। গারগেল করার সময় হালকা চা, লিগার চা যেটায় মানুষের চেহারা দেখা যাবে কিন্তু গরম এমনটা দিয়ে করবেন। এটা ভাইরাসকে গ্রো করতে সাহায্য করবে না এবং মুখের ভেতরের ইমোসেভ গুলোকে টেনে আনে। এইটা করতে পারেন। আর যদি মনে করেন মুখের ভেতরে ঘা হয়েছে তাহলে ফিটকিরি দিয়ে করেন। খুব সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি যদি একটু গরম পানি দিয়ে গারগেল করেন তাহলে কিন্তু আপনার সেখানে ভাইরাস ঢুকতে পারবে না।

প্রশ্ন : এই ভাইরাসগুলো কি তাহলে মুখেই বেশি থাকে?

ড. বিজন : একটা কথা মনে রাখবেন এই ভাইরাসগুলো কিন্তু গ্রো করে আপনার জিহ্বার উপরে যে সেলগুলো আছে সেখানে। এবং জিহবার যে টেস্ট বার, দেখবেন প্রায় রোগীরা কমপ্লেইন করে যে আমি মুখে কোনো স্বাদ পাচ্ছি না। এই স্বাদ না পাওয়া কিন্তু একটা খুবই ডিফিকাল্ট সাইন যে আপনার শরীরে এবং জিহ্বার ভেতরে ভাইরাসটি প্রবেশ করেছে। এক্ষেত্রে যদি আপনি গারগোলটা বেশি করেন তাহলে ভাইরাসটি বাহিরে কম বের হবে এবং আপনি মুক্ত হবেন।

প্রশ্ন : সাধারণ মানুষ কি ধরণের মাস্ক ব্যবহার করে সুরক্ষিত থাকতে পারবে?

ড. বিজন : (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি কাপড়ের মাস্ক দেখিয়ে) এই মাস্কটার ভেতরে তিনটা লেয়ার থাকে। সাধারণত দেখা যায় এ ধরণের তিনটা লেয়ার থাকলে ভাইরাসটা বেশি আসতে পারে না। একটা লেয়ার আছে মার্কিন। এটা যদি নাইনটি পার্সেন্ট ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে তাহলে বাকি দশ পার্সেন্ট আপনার শরীরে এসে সুবিধা করতে পারবে না। কারণ আপনার ইম্যুউনিটি সিস্টেম সদা সর্বদা সজাগ আছে যেকোনো মেটারকে ধ্বংস করার জন্য ও প্রতিরোধ করার জন্য। এই মাস্কের আরেকটি সুবিধা হলো এইটা কাপড়ের, আপনি যদি প্রতিদিন ব্যবহার করে সাবান দিয়ে ধুয়ে আয়রন করে রাখেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। প্রতিদিন মনে হবে আপনি নতুন মাস্ক পরতেছেন।

প্রশ্ন : একই মাস্ক কতবার ব্যবহার করা যাবে?

ড. বিজন : আপনি যদি ঠিকমতো পরিষ্কার করেন প্রতিদিন, আপনি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন। আমরা তো এইসব মাস্ক প্রতিদিন ব্যবহার করছি, পরিষ্কার করছি এবং আয়রন করছি।

প্রশ্ন : গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র এই মাস্ক বাজারজাত করছে কিনা?

ড. বিজন : বাজারজাত ঠিক করে নাই। এইটা আমাদের স্টাফদের জন্য। যদি আপনারা রিকুয়েস্ট রাখেন তাহলে হয়তো বা দিতে পারে। মানে, কেউ রিকুয়েস্ট করলে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন : করোনায় আক্রান্ত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা কেমন হবে?

ড. বিজন : (মৃদু হেসে) দেখুন আমি কিন্তু ডাক্তার নই, ভাই। আসলে ডাক্তার সাহেবরা জানেন কী চিকিৎসা দিতে হয়। দেখুন ডাক্তারদের কাছে আমরা কখন যায়, যখন আর পারা যাচ্ছে না, জ্বর, সর্দি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট হয় মুখের স্বাদ চলে যায় তখন। এইটা হওয়ার আগে যেইটা আমি বলবো যে কাশির জন্য একটা জিনিস ব্যবহার করতে পারেন, সেটা হলো সামান্য একটু গোল মরিচ, আদা লবঙ্গ যদি বেটে পানি দিয়ে খান তাহলে কিন্তু কাশি থাকবে না। এক্ষেত্রে তুলসি পাতাও কাজ করে। আপনি যত কম কাশবেন ভাইরাসটা তত কম ছড়াবে। আর চা কিন্তু এন্টিসেপ্টিকের মত কাজ করে। সবচেয়ে বড় যেই আমি বলে আসছিলাম ভিটামিন সি ও জিংক এইটা খুবই ইমপর্টেন্ট। এগুলো আপনার ইম্যুউনিটি সিস্টেমকে তীক্ষ্ণ করে। আপনি যদি ইম্যুউনিটি সিস্টেম ঠিক রাখেন তাহলে, এক্টিভলি এই ভাইরাসের মোকাবেলা করতে পারবেন।

প্রশ্ন : এই সময়ে আমাদের খাদ্যাভাসে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে কিনা?

ড. বিজন : আমার মনে হয় শাক-সবজি এগুলো খেলে ভালো হয়। এখন তো আমরা সবাই ফাস্ট ফুড খায়, এখন তা খাওয়া সুবিধাজনক নয়। প্রতিদিন যদি শাক-সবজি বা নরম খাবার খাওয়া যায় তাহলে ভালো। তবে কিছু কিছু মাছে এলার্জি আছে সেগুলো না খাওয়ায় ভালো।

প্রশ্ন : এই মুহূর্তে শিশুদের বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ানো উচিৎ কিনা বা কোনো খাবার এড়িয়ে যাওয়া দরকার কিনা?

ড. বিজন : শিশুদের জন্য মায়ের দুধ অবশ্যই অনেক বড় জিনিস এইটা অবশ্যই দিতে হবে। তরল খাবার দিতে হবে সেই সাথে যে ফ্রুটসগুলোতে ভিটামিন আছে সেগুলো বেশি দিতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত ফল দিতে হবে। মায়েরা আসলে এ ব্যাপারে আমার আপনার থেকে অনেক ভালো জানেন।

প্রশ্ন : বৃদ্ধদের নিয়মিত খাদ্যাভাসে কোনো পরিবর্তন করতে হবে কিনা?

ড. বিজন : দেখেন আমাদের একটা বিষয় আছে, আমাদের যখন বয়স বেশি হয় তখন আমরা ফ্রুটস কম খায়। আমরা ভাবি এইগুলো বাচ্চাদের খাবার । সবচেয়ে ইমপর্টেন্ট ব্যাপার বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরে ভিটামিনের অভাব দেখা দেয়। ভিটামিনের মাইক্রোএলিমেন্টস গুলো পূরণ করা উচিত। তাই ভিটামিন “সি” “বি-কমপ্লেক্স” এগুলো বিভিন্ন ফ্রুটসে আছে, মিল্কে আছে এছাড়াও বাজারের ভালোভালো এগুলো আছে। এগুলো যদি এখন খাওয়া যায় তাহলে ইম্যুনিটি বাড়বে এবং আমার মনে হয় এগুলো করোনার এগনেস্টে মোকাবেলা করতে কাজে লাগবে।

প্রশ্ন : যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা এ সময়ে বাহিরে হাটাচলা করতে পারছে না, তারা কিভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখবে?

ড. বিজন : এইটা অনেক বড় প্রশ্ন। কারণ যাদের ডায়াবেটিস তারা হাঁটাচলা করতে পারছে না এই মুহুর্তে। আমি ঢাকায় দেখলাম অনেকে মাস্ক পরে হাটাচলা করছে। আসলে লকডাউন থাকলে তো সব জায়গায় সমস্যা থাকে, আবার আমার দেশে সবাই এক্সারসাইস করে না, যারা বয়স্ক তাদের তো ফিজিক্যাল এক্সারসাইস করার কোনো স্কোপই নাই। তো সেক্ষেত্রে আমি আমি বলবো আপনারা বাসায় কিছু কিছু এক্সারসাইস করতে পারেন। সেক্ষত্রে ভালো থাকবেন। আবার বাড়ির পাশে যদি হাটাচলা করার জায়গা থাকে তাহলে মাঝেমাঝে হাটাচলা করা উচিৎ যাতে আপনার ডায়াবেটিস লেভেলটা ভালো থাকে।

প্রশ্ন : ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু? ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয় তাহলে তাকে কিভাবে সুস্থ করে করে তোলা যাবে?

ড. বিজন : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সবার সমান সুযোগ আছে। সে তো দেখবে না কে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কে অন্য কিছুতে আক্রান্ত সবার কাছে সে তো সমানভাবেই যাবে। তবে সে যেখানে ভালো করে বাসা বাধতে পারবে সেটা তার জন্য সুবিধা হবে। ডায়াবেটিস তো সেখানে একটা ইস্যু থাকেই। এখানে যেটা হয়ে থাকে করোনা হওয়ার কারণে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়। পার্টিকুলারলি লাঞ্চে কিন্তু বিভিন্ন ইনফেকশন হয়,মুখের ভেতরে যখন ক্ষতের সৃষ্টি করে তখন সেখানেও সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়। এক্ষেত্রে একটু জটিলতা থাকে। আমার মনে হয় উনারা যদি গারগেল করেন, এন্টিসেপ্টিক দিয়ে, চা বা ফিটকিরি দিয়ে। তাহলে কিন্তু এই ইনফেকশনগুলো সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

তাছাড়া অভিজ্ঞ ডাক্তার আছেন যারা অত্যন্ত দক্ষ এসকল বিষয় নিয়ে উনারা এইটা দেখতে পারে। আপনারা সবাই জানেন ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আপনাদের সবার দুয়ায় উনি এখন সুস্থ। উনার ট্রিটমেন্টের যে লাইনটা আমি মনে করি এইটা একটা মডেল, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় সারা পৃথিবীর জন্য। স্যারের সপ্তাহে তিনদিন ডায়ালাইসিস নিতে হয়, উনার নিউমোনিয়াও ছিলো, উনি যদি করোনা ভাইরাসকে জয় করতে পারেন তাহলে আমার মনে হয় সবার পক্ষেই করোনা ভাইরাসকে জয় করা সম্ভব।

প্রশ্ন : এই অবস্থায় একজন সাধারণ মানুষের কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

ড. বিজন : (হেসে) সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে লকডাউন হওয়ায় অনেকটা সময় মানুষকে ঘরে থাকতে হচ্ছে, মানুষ বিরক্তও হচ্ছে।

প্রশ্ন : তাহলে মানুষ তার এই বিরক্তি ভাব ও ডিপ্রেশন কাটাতে কী করতে পারে?

ড. বিজন : আমি বলবো এই সময় যদি একটা ভালো কাজ করা যায়, মেডিটেশন করা যায়, তাহলে অনেকটা মিসটেক কন্ট্রোল করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা বয়স্ক তারা কিন্তু এইটা করতে পারে। মেডিটেশন করলে মনকে কন্ট্রোল করা যায় এবং টেনশনটা কমার কারণে ইম্যুউনিটি বাড়ে। এইটা একটা প্রাক্টিসের ইস্যু। আমাদের দেশে অনেকে মেডিটেশন করেন, এটা ধর্মীয় কোনো প্রাক্টিস নয়, এটা মন ও দেহকে সুস্থ রাখার জন্য। আমি আমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য যদি দশ-বিশ মিনিট চোখ বুজে বসে থাকি এবং আমার স্ট্রেসকে কমাতে পারি এইটা কিন্তু খুব ভালো। এইটা ধর্মীয় কোনো অনুশাসন নয়, এইটা দৈহিক চাহিদা বলতে পারেন।

প্রশ্ন : প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেয়েদের এখন কোনো সর্তকতা অবলম্বন করার দরকার আছে কিনা?

ড. বিজন : (হেঁসে) এলার্জিক কোনো কিছু ব্যবহার না করায় ভালো। মেয়েরা অবশ্যই এ ব্যাপারে ভালো জানেন কোনটা ব্যবহার করা ভাল কোনটা খারাপ। যেহেতু এখন বাহিরে যেতে হচ্ছে না তাই প্রসাধনী কম ব্যবহার করায় ভালো।

প্রশ্ন : পোশাকে বা কাপড়ে করোনা ভাইরাসের জীবাণু কত সময় সক্রিয় থাকতে পারে?

ড. বিজন : ইনভাইরনমেন্টে ভাইরাস সাধারণ চার থেকে পাঁচ বা সাত ঘণ্টা ম্যাক্সিমাম থাকতে পারে। আর পোশাকে কিন্তু বেশ সময় থাকতে পারে। পোশাকে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি থুথু মারে তাহলে সেই থুথু যদি শুখিয়ে যায় এবং সে যদি ডাস্ট না করে তাহলে এটা কিন্তু দীর্ঘদিন থাকতে পারে। কারণ ঐ সময়ে ভাইরাসের প্রোটিন গিয়ার করে। প্রোটিন গিয়ার কিন্তু ভাইরাসকে সব ধরনের ইনভাইরনমেন্ট থেকে রক্ষা করে। এবং সে অনেক সময় থাকে, কয়েক মাসও থাকতে পারে। এবং সে কিন্তু ডাস্টের সাথে পুড়ে গিয়ে নাকে-মুখে বাসা বাধতে পারে। তাই এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিৎ যেন যেখানে সেখানে থুথু ফেলা না হয়। কারণ কার মুখে যে ভাইরাস গ্রো করছে আর কার মুখে করছে না এইটা বুঝা কিন্তু খুবই কঠিন। আমরা তো কিছু বিষয় দেখে অবাক হয়ে গেছি অনেকের কোনো ধরণের সিমটম নাই একেবারে সুস্থ ব্যক্তি কিন্তু তার মধ্যেও ভাইরাস।

প্রশ্ন : এখন তো বর্ষাকাল, রাস্তায় জমে থাকা পানিতে যদি কোনো করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি হেটে যায় এবং সেই একই পানিতে যদি সাধারণ হেটে যায় তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কিনা?

ড. বিজন : হ্যাঁ, এইটা তো অনেক বড় ইস্যু। কারণ আমিতো বললাম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যদি থুথু ফেলে বা এবং সেটা ওয়াটারের মাধ্যমে আরো দ্রুত ভাইরাস ছড়াতে পারে। আমাদের দেশে ওয়াটারের মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রশ্ন : মশার প্রাদুর্ভাব বর্তমান সময়ে বেড়েছে, এর মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর সম্ভবনা কতটুকু?

ড. বিজন : না, এ যাবৎ পর্যন্ত গবেষণায় এমন কিছু পাওয়া যায়নি। মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভবনা আছে বলে মনে করি না। তবে ভবিষ্যতে বলা যায় না, এই ভাইরাসটা তো খুব চালাক। এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে যে কোনো জীনের ভেতর খুব দ্রুত ঢুকতে পারে। এই ভাইরাসটি প্রথম প্যাসেজে গ্রো করা শুরু করে। আমার ধারণা এর অবস্থা এখনো ঐ পর্যায়ে আসেনি, এবং না আসাটাই ভালো। কারণ তা না হলে, আমাদের সমস্যা আরো বাড়বে।

প্রশ্ন : যাদের জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাহিরে যেতে হচ্ছে তাদের সুরক্ষিত রাখতে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে কিনা?

ড. বিজন : আসলে জীবন-জীবিকার তাগিদে আমাদের তো বাহিরে যেতে হবেই। এক্ষেত্রে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করুন। আপনারা যেহেতু বাহিরে যাচ্ছেন তাই ফিরে এসে চেষ্টা করবেন হাত-মুখ পরিষ্কার করার। এবং যে মাস্কটা আপনি নিয়ে যাচ্ছেন সে মাস্কটা আপনি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন, আয়রণ করবেন। তাহলে মাস্কটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেলো। এই যে মাস্কের যে বাহিরের সাইটটা এইটা কিন্তু আপনি পরিষ্কার করতে পারছেন না। আপনার কোনো না কোনো ভাবে হাত সেখানে স্পর্শ করছে, এবং আপনি সেই হাত চোখে মুখে দিচ্ছেন, সেখান থেকে কিন্তু ভাইরাস হতে পারে। তাই সুতির মাস্ক ইউজ করায় সবসময় উত্তম।

প্রশ্ন : এই সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আপনি কিছু বলুন..

ড. বিজন : এটি একটি সাইক্লোনের মত। এসেছে আবার চলে যাবে। আমি দেখেছি অনেক অনেক মানুষের শরীরে ইম্যুউনিটি চলে এসেছে। সুতরাং আমাদের ভয় না করে জয় করার প্রক্রিয়া নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। এটা আমার হলেই যে আমি মারা যাবো এমন কোনো বিষয় নাই। আজকে অনেকে শরীরের এন্টিবড়ি এসেছে অনেকে প্লাজমা দিচ্ছেন, সুতরাং আন এ্যাবল, তাদের যদি প্লাজমা থেরাপী দেওয়া যায় তাহলে তাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা অনেকাংশে আছে।

মিডিয়াগুলোও যেন পজেটিভভাবে নিউজ কাস্ট করে, এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সবাই একসাথে যদি এটিকে মোকাবেলার চেষ্টা করি যেমনটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আমি উনার সাথে একমত হয়েই বলতে চাই আসলেই এই করোনা ভাইরাস ইউরোপে যত মারাত্নক আকারে আমরা দেখেছি আমাদের এখানে কিন্তু এত মারাত্নক নয়। খুব তাড়াতাড়ি কিন্তু এর তীব্রতা কমে আসছে এবং কমে যাবে। একদিন অবশ্যই আমরা করোনা মুক্ত হবো। এ জন্য আমাদের যে স্বাস্থ্যবিধি আছে তা মেনে চললে, খুব শিগগিরই এই রোগ থেকে মুক্তি পাবো আমি এটাই আশা করি, এবং আমাদের সবারই এই আশাটা মনের মধ্যে রাখা উচিৎ যে আমাদের করোনা ভাইরাস জয় করতে পারবে না বরং আমরা করোনা ভাইরাসকে জয় করবো।

Facebook Comments

Posted ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২০

Weekly Bangladesh |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.