বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। মার্কিন দূতাবাসের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তার এই আগমন কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঢাকায় খুবই ব্যস্ত সময় পার করবেন ক্রিস্টেনসেন। সব মত-আদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন, যা ডিসেম্বরে দেশটির সিনেটে অনুমোদন পায়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্তমান অস্থিরতা ও নির্বাচন ঘিরে বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অনেকটাই অপরিহার্য। নিজেদের অনুমোদনের বিষয়ে সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে সম্পর্ক জোরদার করবে।’
পিটার হাসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদটি দীর্ঘদিন শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে হাস ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। তারা সব মত-আদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেন ঢাকায় নানান বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি মূলত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার হয়। ক্রিস্টেনসেনের আগমনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আরও সক্রিয় হতে পারে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অনিয়ম হলে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে।’
এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনেও তিনি কাজ করবেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যেহেতু ক্রিস্টেনসেন এর আগে ঢাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, ফলে তার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি সামলাবেন। এ ছাড়া অতীতে রাজনৈতিক কাউন্সেলর থাকায় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গেই পরিচিত, ফলে এই অভিজ্ঞতা আর পরিচিতি তার কাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাংকের সদস্য। তিনি ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০২২-২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়াও ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
Posted ৩:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh