বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণের হার নিয়ে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এরপরই ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পর বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন–এনপিএল)-এর হার বাংলাদেশে। দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। সার্ক দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ। ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা নিয়ে এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সর্বশেষ ব্যাংকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণের হার নিয়ে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এরপরই ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পর রয়েছে চাদ ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানো নিয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেশনে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৬ থেকে ১৫ গুণ বেশি। ভারতে খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ভুটানে এ হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এসব পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ঋণ শৃঙ্খলা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুতর অবনতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়া, নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা এবং কার্যকর আইনি প্রয়োগের অভাবই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
Posted ১১:২২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh