বাংলাদেশ ডেস্ক : | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে শুরু হয়েছে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সপ্তাহব্যাপী এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে দেশটির সরকার।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা এই সরকার নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে একতা ধরে রাখতে এবং নিজেদের শক্তি জানান দিতে নানা ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যুর পর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
এই জানাজা অনুষ্ঠানের সরকারি স্লোগান দেওয়া হয়েছে, ‘আমাদের জাগতে হবে’। আর আন্তর্জাতিক বিশ্বের জন্য বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর জন্য জাগো’। প্রচারণায় খামেনির একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। ১৯৮১ সালের এক বোমা হামলায় খামেনির ডান হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
ছেলে মোজতবা এক বার্তায় জানান, মৃত্যুর সময় খামেনির সুস্থ হাতটি মুষ্টিবদ্ধ ছিল। সেখান থেকেই এই জেদি হাতের ছবি তৈরি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে নতুন নেতা মোজতবা নিজে এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না।
অনুষ্ঠানে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে কালো ও লাল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ওড়ানো হয়েছে একটি বিশাল লাল পতাকা। এতে আরবিতে লেখা, ‘হে হোসেনের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা’। এর মাধ্যমে কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে খামেনির মৃত্যুকে মিলিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধ নেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
খামেনির মরদেহ বহনের পথটিও খুব তাৎপর্যপূর্ণ। মরদেহটি তেহরান থেকে শিয়াদের পবিত্র শহর কোম, এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা হয়ে ইরানের মাশহাদে নিয়ে দাফন করা হবে। এই পথটি মূলত শিয়া মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে।
জানাজায় লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে একেক দেশের প্রতিনিধিদের সামনে কোরআনের একেকটি আয়াত পড়ে শোনানো হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সামনে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের আয়াত পড়া হয়, যা নিয়ে এখন বেশ আলোচনা চলছে।
Posted ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh