নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুর অত্যাচার, নিপীড়ন ও নৃশংসতা চালিয়েছেন তার প্রতিবাদ জেগে ওঠে ছাত্র-জনতা। দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ, গুম-খুন ও দুর্নীতির কারণে মানুষ ছিল অসহায়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২৭ আগস্ট বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার এই বক্তব্যের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্য, কমগ্রেসম্যান, স্টেটস ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরা।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য হলো বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একটি উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ প্রদর্শন করা হয়। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যা মানুষের মাঝে জুলাই চেতনাকে জাগ্রত রাখবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উজ্জীবিত করবে।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে শাসন ব্যবস্থার গুনগত পরিবর্তন, বৈষম্য দূরীকরণ, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদেকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে।
নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই আন্দোলনে যে অবদান রেখেছেন তা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রবাসীরা জুলাইয়ে আমাদের সাথে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। গত ২৪ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মাহফুজ আলম।
মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জুলাই আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করেন। সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অংশীজন নই। আমরা চাই ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক তারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক হবে রাষ্ট্র। নিজের রাজনৈতিক চেতনার চেয়েও দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবার ঊর্ধে দেশকে এবং দেশের জনগণকে যেন আমরা রাখি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অনুষ্ঠানে আসা সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘একটা দেশে রাজতন্ত্র চলছিল, সে দেশের রাজা ছিলেন, রাজার বোন ছিলেন, রাজার ছেলে-মেয়েরা রাজপুত্র ছিলেন।
পুরো দেশটা তাঁদের ছিল, আপনারা ছাত্রÑজননেতারা রক্ত দিয়ে সেই রাজার পতন ঘটালেন, দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন, এখন সে একটা ডিম নিক্ষেপ করবে , একটা কটূক্তি করবে, মাহফুজ আলমের পতন চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
সভায় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, দখলদার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ করে আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন। তেমন করে এখন রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করছেন। আমরা প্রবাসীদের এই মহতী উদ্যােগকে স্বাগত জানাই।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, জুলাই আন্দোলন যদি না হতো হয়তো আমাদের সাথে আর আপনাদের দেখা হতো না। পরে তিনি আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে উপদেষ্টাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সেলর ইসরাত জাহান।
Posted ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh