বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
এখনও পুরোপুরি নারীই হয়ে ওঠেনি আছিয়া। তার আগেই হায়েনার লালসা তাকে পরপারে পাঠিয়ে দিলো নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে। অবশেষে অবসান হলো সদ্য ফোটা কলিটির নিঃশব্দ আর্তনাদের। ৭ দিন পর নিস্পাপ শিশু আছিয়ার ভারমুক্ত হলো হাসপাতালের বেড। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিললো আছিয়ারও। কিন্তু অপরাধবোধের ভার চাপিয়ে গেল পৃথিবীবাসীর ওপর।
মাহে রমজান উপলক্ষে বন্ধ হয়েছিল স্কুল। এক রাশ খুশি আর উচ্ছ্বাস নিয়েই হয়তো বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছিয়া। কিন্তু কে জানতো, সেই বেড়াতে যাওয়াই হবে তার অন্তিম যাত্রা। গত ৬ মার্চ বড় বোনের শ্বশুরের ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছর বয়সী অবুঝ এই শিশু। সেই থেকে বদলাতে হয়েছে একের পর এক হাসপাতাল। শিশুটিকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন চিকিৎসকরা। সাথে ছিল পুরো দেশবাসীরা দোয়া।
সবশেষ তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন দেশের সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। কিন্তু খোদ সৃষ্টিকর্তাই যাকে এই বর্বর পৃথিবীতে আর রাখতে চান না, তখন তাকে বাঁচিয়ে রাখার সাধ্য কার? ৭ দিনের জীবন-মরণযুদ্ধ শেষে সবাইকে কাঁদিয়ে জান্নাতের পাখি হয়ে গেল নিষ্পাপ শিশু আছিয়া।
আছিয়ার বোনের ভাষ্যমতে, তার নরপিশাচ শ্বশুর এর আগে তাকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু বড় বোনকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুর্বল শিশু আছিয়াকে নিজের লালসার শিকার করে এই হায়েনা।
আছিয়া ধর্ষণের এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশ। আবারও দাবি উঠেছে ধর্ষকের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের। আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। আছিয়ার আগেও বহুবার এদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে হয়েছে তীব্র আন্দোলন। ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছিলেন সোহাগী জাহান তনু। সেই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদে কেঁপে উঠেছিল সারাদেশ। তখনো এসেছিল সরকারের আশ্বাস। কিন্তু আজও বিচার পায়নি তনুর পরিবার। তাই আদৌ কি বিচার পাবে আছিয়া? সেই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে উঠছে বার বার।
Posted ১০:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh