বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতায় এসে ‘এবার আমাদের পালা’ মানসিকতায় আচরণ করছে, যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সংস্থাটি বলেছে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর থেকেই দেশজুড়ে দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, মামলা ও গ্রেপ্তার–বাণিজ্য, জামিন ও ট্যাগ–বাণিজ্যসহ দলীয় আধিপত্যকেন্দ্রিক সহিংসতা চলছে। টিআইবি মনে করে, এই পরিস্থিতি নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও অভীষ্ট লক্ষ্যের জন্য এক গুরুতর অশনিসংকেত।
রবিবার টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথাগুলো বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মুখে সংস্কার অথচ কার্যত আধিপত্য, দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকায় গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার গণ–আকাঙ্ক্ষাকে রীতিমতো পদদলিত করা হচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কর্তৃত্ববাদ পতনের পরিপ্রেক্ষিতে গত এক বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা সবচেয়ে প্রভাবশালী বলে বিবেচিত, তাদের নেতা–কর্মীদের একাংশের কার্যক্রম পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের সরকারি দলের বহুমুখী ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসিদ্ধিমূলক অসুস্থ চর্চার প্রতিচ্ছবি হিসেবেই বিকশিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতাপ্রত্যাশী ও প্রভাবশালী দলগুলোর নেতা–কর্মীদের একাংশের সরাসরি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগসাজশমূলক সম্পৃক্ততায় দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। পরিতাপের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে এই যোগসাজশে নির্বিকারভাবেই যুক্ত থাকছে পতিত রাজনৈতিক শক্তিও।’
টিআইবির ভাষ্যমতে, দাবি আদায়ে বলপ্রয়োগের পাশাপাশি কোনো কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও বিচ্ছিন্নভাবে অতিক্ষমতায়িত শক্তির সম্পৃক্ততায় তথাকথিত ‘মবতন্ত্রের’ মুখোশে সংখ্যালঘু, জেন্ডারভিত্তিক, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের বিরুদ্ধে বীভৎস আঘাত, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ওপর নির্মম আক্রমণের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হয়েছে দেশবাসীকে।
রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, নৈতিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক পরিচালন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তথা আপামর জনগণের হতাশা বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এখনই দরকার রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক আত্মজিজ্ঞাসাভিত্তিক মৌলিক পরিবর্তনের পথ অনুসন্ধান এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি থেকে সরে আসার পথ বের করা। অন্যথায় নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে পতিত কর্তৃত্ববাদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হবে।
Posted ১০:৪৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh