ঢাকা : | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ নিউইয়র্কের নিউ হাইড পার্কে স্ত্রীর নামে পাঁচ মিলিয়ন ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন বলে তথ্য মিলেছে। সেখানকার আমেরিকান ডেইরি নামের একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগও রয়েছে তাঁর। ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর স্ত্রী।হারুন বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তাঁর নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পায়। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডে (লেকপাড় রোড) ছয়তলা একটি আলিশান বাড়ি। একই রোডের মাথায় আটতলা আরেকটি বাড়ি আছে হারুনের।
এই বাড়ির চতুর্থ তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। ৩ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর রোডের হোল্ডিং নম্বর-৫-এ ১০ কাঠা জমির ওপর একটি ১০ তলা মার্কেট হারুনের শ্বশুরের নামে করা হয়েছে। ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ২১ নম্বরে ছয়তলা একটি বাড়ি। বাড়িটি বন্ধক রেখে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ১৩ নম্বর সেক্টরের শাহ মাখদুম এভিনিউয়ে ১২ নম্বর প্লটটির মালিক ডিবি হারুন।
এখানে তাজ ফুড কোর্টসহ কয়েকটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। সোনারগাঁও জনপথ রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি প্লট জজ মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া আছে। ৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১৪ বাণিজ্যিক ভবন। ১৩ নম্বর সেক্টরে ৩ নম্বর রোডের ৪৯ নম্বর বাড়িতে ছয়তলা ভবন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই হারুন ছিলেন বেপরোয়া। কখনোই চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা করেননি। যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই নানা অনিয়মে জড়িয়েছেন। প্রতিটি ধাপে প্রতারণা ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়ালেও তাকে কখনো শাস্তি পেতে হয়নি। বরং পদায়ন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব ইউনিটে। ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিম্মি করে অর্থ আদায়, মারধর, জমি দখল, বাড়ি দখল, প্লট দখল, ফ্ল্যাট দখল, গুম, খুন, হত্যা, অর্থ পাচার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, আটকে রেখে নির্যাতন, নিয়োগ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারিসহ এহেন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে জড়াননি হারুন।তবুও বছর বছর পদোন্নতি পেয়েছেন। এসব অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ ঘুরে ডিবি হারুনের অন্তত হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি দখল ও দেখাশোনার জন্য আছে তিন সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি। নামে-বেনামে অন্তত তিনটি রিসোর্টের মালিকানা আছে তার। রয়েছে একাধিক আবাসিক হোটেল। আরও অন্তত ১০টি কোম্পানির মালিক তিনি। শুধু ঢাকায়ই আলিশান বাড়ি করেছেন দুই ডজনেরও বেশি। এর বাইরে আছে অগণিত প্লট ও ফ্ল্যাট।কথিত মামা জাহাঙ্গীর আলমের নামে গড়েছেন এসব সম্পদ। দখল করা সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা দেশের বাইরে পাচার ও বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব আলাদা কমিটির। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ছয়টি দেশে অঢেল টাকার ব্যবসা গড়েছেন হারুন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান হারুনের দেশে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক ছিলেন তার কথিত মামা জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তার সহযোগী জহির। মূলত মামার মাধ্যমে সব অপকর্ম করতেন হারুন। জায়গা, জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, রিসোর্ট সব সম্পদই তার মামা জাহাঙ্গীরের নামে করেছেন। আবার এসব সম্পদ দেখিয়ে ব্যাংক থেকে হাতিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
আবার মানুষের সম্পত্তি দখলের পর তা বিক্রি এবং সে টাকা দেশের বাইরে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করতেন ডিবির খিলগাঁও জোনের এডিসি সাইফুল। বিদেশে অর্থ পাচারের সুবিধার জন্য গড়ে তোলা হয় নিজস্ব মানি এক্সচেঞ্জ। ঢাকায় এই প্রতিষ্ঠানের অফিস পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে।
কার্যক্রম পরিচালনায় দুবাইয়ে আছে আরেকটি অফিস। এই মানি এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করেন এডিসি সাইফুল ইসলামের দুই ভাই। একজন থাকেন দেশে। আর আরেক ভাই রিফাত অবস্থান করেন দুবাই।
Posted ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh