বাংলাদেশ অনলাইন : | সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় অস্থিরতা ও নিরাপত্তা-উদ্বেগ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে যারা আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির সমালোচনায় যারা রাজপথে ও লেখনিতে সক্রিয়, তাদের লক্ষ্য করে একটি সুপরিকল্পিত হুমকির আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনা এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দিল্লিনির্ভর প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে যারা সোচ্চার, তারাই বর্তমানে একটি বিশেষ ‘হিটলিস্টে’ রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, সমন্বয়ক, সংসদ-সদস্য প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা কয়েকজন নেতাকে ইতোমধ্যে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গানম্যান পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এদিকে আরও কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে গানম্যান চেয়েছেন।
আবেদনের ভিত্তিতে শিগগিরই যেসব রাজনীতিককে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন; গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বিএনপির সংসদ-সদস্য প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাফির তুহিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এ তালিকায় আরও কয়েকজন রাজনীতিকের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবারের একজন সদস্যকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়া হবে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং সংসদ-সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা চেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Posted ৩:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh