রয়টার্স : | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
ডব্লিউএফপির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ছবি : রয়টার্স
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত বিশ্বের লাখো মানুষকে আরও গভীর খাদ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি।
জাতিসংঘের এ সংস্থা শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে, তীব্র তহবিল সংকটের কারণে ত্রাণ সংস্থাগুলো তাদের সহায়তার পরিধি কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়, তা পারস্য উপসাগর থেকে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
এর ফলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ডব্লিউএফপি মার্চে পূর্বাভাস দিয়েছিল, জুন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে থাকলে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে।
সংস্থাটি বলছে, তাদের সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওই স্তরের ওপরে অবস্থান করছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও শ্রীলঙ্কার মত দেশগুলো। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় কমে যাওয়া এবং পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশের সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ডব্লিউএফপির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে এই সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ৭৪ লাখে।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও ২৫ লাখ সোমালি এবং ২৩ লাখ আফগান নাগরিকের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। দুটো দেশই আমদানি করা জ্বালানি ও খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকটের প্রভাব তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোও বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে। ডব্লিউএফপি বলছে, তহবিল ঘাটতির কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তাদের সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৫ লাখ কমতে পারে। বর্তমান সংকট আরও ছয় মাস স্থায়ী হলে অতিরিক্ত ৯০ লাখ মানুষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আফগানিস্তানে ত্রাণ পরিবহনের খরচ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আর সহায়তার ট্রাকগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোর সময়ও ব্যাপকভাবে বেড়েছে; আগে যেখানে ১০ দিন সময় লাগত, সেখানে এখন ৭৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।
অন্যদিকে সোমালিয়ায় বিমানের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ হিউম্যানিটারিয়ান এয়ার সার্ভিসের (ইউএনএইচএএস) পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছানোর এই বিমান পরিষেবা এখন বাড়তি খরচের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh