বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
লেবার পার্টিকে বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের পথে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রায় দুই বছর পর দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে গত ১০ বছরে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দৌড় শুরু হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) এক আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, নতুন লেবার নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকবেন। আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা ৯ জুলাই শুরু হবে এবং যুক্তরাজ্যের সংসদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগেই তা শেষ হওয়ার কথা।
স্থানীয় নির্বাচনের হতাশাজনক ফলাফলের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অভ্যন্তরীণ চাপ এরই মধ্যে স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলেছিল। অবশেষে মেকারফিল্ডে অনুষ্ঠিত সংসদীয় উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নির্ণায়ক বিজয় তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৬ সাল থেকে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করেছেন, অর্থাৎ গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই বছরে একজন করে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হয়েছেন। এর বিপরীতে মার্গারেট থ্যাচার এবং টনি ব্লেয়ার দীর্ঘ সময় ধরে—প্রত্যেকে এক দশকেরও বেশি সময়—দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে ব্রেক্সিট গণভোটে পরাজয়ের পর ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। এরপর থেরেসা মে ব্রেক্সিট চুক্তি সংসদে অনুমোদন করাতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন। পরে বরিস জনসন একাধিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং মন্ত্রীদের ব্যাপক পদত্যাগের পর ২০২২ সালে পদ ছাড়েন। লিজ ট্রাস অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘিরে বাজার অস্থিরতার কারণে মাত্র ৪৯ দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার পর পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ঋষি সুনাক ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভদের শোচনীয় পরাজয়ের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। বর্তমানে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমারও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন।
ইতিহাসে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রবার্ট ওয়ালপোল, যিনি ১৭২১ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। আধুনিক যুগে মার্গারেট থ্যাচার ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে, সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিজ ট্রাস, যিনি মাত্র ৪৯ দিন ক্ষমতায় ছিলেন।
পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। হাউস অফ কমন্সে অ্যান্ডি বার্নহাম সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন।
এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ আরও কয়েকজন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের জন্য একজন প্রার্থীর ৮১ জন লেবার এমপির মনোনয়ন প্রয়োজন হবে। ফলে পুরো গ্রীষ্মজুড়ে নেতৃত্ব নির্বাচন চলতে পারে, অথবা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ হতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা
Posted ১০:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh