শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ইসরায়েল-আমিরাত চুক্তি যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব

বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :   |   শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০

ইসরায়েল-আমিরাত চুক্তি যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব

‘সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে’ যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে গত বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক এক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। চুক্তির আওতায় অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বিশাল অংশ নিজেদের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করবে ইহুদি দেশটি।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে তৃতীয় দেশ হিসেবে চুক্তি করল আরব আমিরাত। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান চুক্তি করেছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং একে অপরের দেশে দূতাবাস স্থাপন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করবেন।

ইসরায়েল-আমিরাতের এমন চুক্তি ঘোষণার পর নানাভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। কেউ বলছে এই চুক্তি মধ্য প্রাচ্যে ‘শান্তি বয়ে আনবে’, আবার কেউ বলছে এই চুক্তি ‘কৌশলগত নির্বুদ্ধিতা’। ইসরায়েল-আমিরাতের এই চুক্তিতে কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব? দেখে দিন এখানে-

যুক্তরাষ্ট্র

চুক্তি ঘোষণার পর পরই এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আজ বিশাল এক অগ্রগতি হলো! আমাদের অসাধারণ দুই বন্ধু ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।” এই চুক্তি নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, “সবাই বলছিল, এটা অসম্ভব হবে…৪৯ বছর পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের কূটনীতিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করবে।” এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ‘অভ্যর্থনা জানানোর মতো, সাহসী এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়।” ইসরায়েল-আরব আমিরাত মধ্যকার এই চুক্তিকে ‘বরফভাঙা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনার। তার দাবি, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও একই কাজ করবে’।

ফিলিস্তিন

ইসরায়েল ও আরব আমিরাত মধ্যকার চুক্তিটি ‘দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান ও সমালোচনা’ করেছে ফিলিস্তিনের নেতৃবৃন্দ। এর প্রতিবাদে আরব আমিরাত থেকে নিজেদের দূতকে প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে দেশটি। এই চুক্তিকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘আক্রমণ’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি ইসলামিক গ্রুপ হামাসও এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন- “এই চুক্তি ফিলিস্তিনের স্বার্থ রক্ষা করবে না।” এই চুক্তিকে ইসরায়েলের “দখলদারি ও সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাসেম। ফিলিস্তিন সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হানান আশরাউই টুইটারে লিখেছেন- “দেশ চুরি হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনারা কখনই বুঝবেন না; আপনারা বুঝবেন না দখলদারি বন্দিত্বের মধ্যে বসবাস করার মর্মপীড়া; নিজেদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া বা নিকট আত্মীয়দের হত্যার ব্যথা আপনারা বুঝবেন না; বুঝবেন না বন্ধুদের দ্বারা বিক্রি হয়ে যাওয়ার ব্যথা।”

জর্ডান

পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা দেশ জর্ডানের মতে, এই চুক্তির ফলাফল নির্ভর করবে ইসরায়েলের আচরণের ওপর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদি বলেছেন, “ইসরায়েল কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় সেটার ওপর নির্ভর করছে এই শাস্তি চুক্তির ফলাফল।”

ইরান

এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে ইসরায়েলের চির শত্রু ইরান। চুক্তিটিকে ‘কৌশলগত নির্বুদ্ধিতা’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে- “এটা আবু ধাবি ও তেল আবিব মধ্যকার কৌশলগত নির্বুদ্ধিতা… সম্পর্ক স্বাভাবিকের নামে ফিলিস্তিন ও বিশ্বের অন্য সব স্বাধীন দেশের জনগণ কখনই অপরাধী ইসরায়েলি দখলদারি এবং তাদের অপরাধের ক্ষমা করবে না।”

তুরস্ক

এই চুক্তিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না তুরস্কও। চুক্তিটিতে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে- “ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। অথচ আরব আমিরাত এটাকে ফিলিস্তিনিদের জন্য নিজেদের ত্যাগ হিসেবে তুলে ধরার জন্য ভান করছে।” “ইতিহাস এবং এই অঞ্চলে বসবাস করা জনগণ কখনোই এটা ভুলবে না। তারা কখনই এই ধরনের ভণ্ডামি ক্ষমা করবে না।”

ফ্রান্স

এই চুক্তি অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল বসতি স্থাপন স্থগিত রাখবে বলে যে শর্তের কথা বলা হয়েছে সেটাকে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভস লে ড্রিয়ানের মতে, ‘এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ’। এ ছাড়া এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জার্মানিসহ অনেক পশ্চিমা দেশ; স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ।

 

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.