বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এখন ভয়াবহ এক বৈশ্বিক জ্বালানি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত ৫০ দিনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রয়টার্স এই পরিস্থিতিকে আধুনিক ইতিহাসের সবথেকে বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সরবরাহ বন্ধ হওয়া এই তেলের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের মোট চাহিদার সমান। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি আরব দেশের গড় তেল বিক্রির পরিমাণ কমেছে ২০ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে ৫০ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি মানে অন্তত ১০ সপ্তাহের জন্য বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ফ্লাইট বা বিমান চলাচল কমিয়ে আনা। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা বোঝাতে বলা হয়েছে, এই পরিমাণ তেলের মজুদ না থাকলে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১ দিন সড়কপথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। এমনকি এই ঘাটতি পুরো ইউরোপের এক মাসেরও বেশি সময়ের চাহিদার সমান এবং এটি দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর টানা ৬ বছরের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল।
যুদ্ধের প্রভাবে গত মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে পারেনি, যা বিশ্বের দুই তেল দানব কোম্পানি এক্সন মবিল ও শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিমানের জ্বালানি রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি রপ্তানি হতো, মার্চ ও এপ্রিলে তা মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন পর হরমুজ প্রণালি সচল হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবরোধ এবং ইরানি বন্দর বন্ধের ঘোষণার জেরে ইরান আবারও এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। চলতি এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে। প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের যে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Posted ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh