বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর সময় কী চলছিল পাকিস্তানের শীর্ষ মহলে

বিবিসি বাংলা :   |   শনিবার, ০২ মে ২০২৬

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর সময় কী চলছিল পাকিস্তানের শীর্ষ মহলে

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ২০১১ সালের ২মে মার্কিন সেনাদের হাতে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, তার বিস্তারিত বিবরণ বই, নিবন্ধ এবং চলচ্চিত্রে বহুবার উঠে এসেছে। তবে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর ঠিক পরপরই পাকিস্তানের ক্ষমতার অলিন্দে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি ‘দ্য জারদারি প্রেসিডেন্সি, নাও ইট মাস্ট বি টোল্ড’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছেন ফারহাতুল্লাহ বাবর, যিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মুখপাত্র এবং পাকিস্তানের একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। এই বইয়ে তিনি সেই দিনগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

বই অনুসারে, ২০১১ সালের ২ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রেসিডেন্ট জারদারির এডিসি ফারহাতুল্লাহ বাবরকে ফোন করে জরুরি বৈঠকের জন্য দ্রুত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌঁছাতে বলেন।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট সাধারণত বিকালে অফিসে আসতেন। এত সকালে কল পাওয়াটা কিছুটা অদ্ভুত ছিল। আমি বুঝতে পারলাম যে কিছু একটা গড়বড় হয়েছে, তবে কী এবং কোথায় সমস্যা হতে পারে, তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার এবং পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি।

এর মধ্যে বাবর করাচির সাংবাদিক মাজহার আব্বাসের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোনে একটি কল পেলেন।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, মাজহার আব্বাস ফোনে বলেছিলেন, বাবর সাহেব, আমার মনে হয় আমেরিকানরা জেনে গেছে যে ওসামা অ্যাবোটাবাদে লুকিয়ে আছে। এই কথাগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি প্রথমবারের মতো বুঝতে পারলাম কেন এত সকালে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

কারা আগে জানতে পেরেছিল?

এরপর ফারহাতুল্লাহ বাবর জানতে পারেন যে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ফেরার পর থেকেই প্রেসিডেন্টের এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার জালাল জেগে ছিলেন। রাত ২টা ৩০ মিনিটে তিনি জানতে পারেন যে অ্যাবোটাবাদের কাছে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাইলট হিসেবে কিছু প্রশ্ন তাকে অবাক করেছিল।

প্রথমত, অ্যাবটাবাদের মতো পাহাড়ি এলাকায় মাঝরাতে হেলিকপ্টার কেন উড়ছিল? দ্বিতীয়ত, বিমান বাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি জানতেন যে পাকিস্তানি পাইলটদের রাতে হেলিকপ্টার চালানোর অনুমতি নেই।

স্কোয়াড্রন লিডার জালাল নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, যদি এটি পাকিস্তানি হেলিকপ্টার না হয়, তবে কার হেলিকপ্টার ছিল? তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে তার অফিসে ফিরে যান। তখন রাত তিনটা। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে তার পরিচিতদের ফোন করতে শুরু করেন।

ঘটনার গুরুত্ব কতটা ছিল তা জানাজানি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের স্টাফদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন।

প্রেসিডেন্সির উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধানের যাত্রা

কিন্তু এরপরও তিনি তার ভয়ের কথা প্রেসিডেন্ট জারদারিকে জানাননি। তিনি জানতেন যে শিগগিরই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের হটলাইনটি বেজে উঠবে। এবং তার অনুমান সঠিক ছিল। যখন তার অফিসের ফোনটি বেজে উঠল, তখন অপর প্রান্তে ছিলেন আর্মি হাউসের অপারেটর।

তিনি প্রেসিডেন্টকে জানান যে সেনা প্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর আগে সেনা প্রধান হটলাইনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, আমি যখন সকাল ৭টায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌঁছালাম, তখন প্রেসিডেন্টের এডিসি জালাল ছাড়া আর কোনো স্টাফ উপস্থিত ছিলেন না। রক্ষী ও সহকারীদের ফিসফাস শুনে আমি বুঝতে পারলাম কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটছে। এরপর জানতে পারলাম, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ফোনে প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির সঙ্গে কথা বলেছেন।

জারদারিকে ওবামার ফোন

ফোনকলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার আত্মজীবনী ‘আ প্রমিজড ল্যান্ড’-এ লিখেছেন, আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে ফোন করা। আমি জানতাম পাকিস্তানি আকাশসীমা লঙ্ঘনের জন্য তাকে নিজের দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, কিন্তু আমি যখন তাকে ফোন করলাম এবং তাকে আত্মবিশ্বাসে নিলাম, তখন তিনি আমাকে অভিনন্দন জানালেন এবং সহায়তার প্রস্তাব দিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক, এটি ভালো খবর।’ আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চরমপন্থীরা তার স্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করেছিল—এই স্মৃতি মনে করে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।

জেনারেল কায়ানিকে অ্যাডমিরাল মাইক মুলেনের ফোন

জারদারিকে প্রেসিডেন্ট ওবামার ফোন করার আগে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন রাত ৩টার দিকে পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কায়ানিকে ফোন করেছিলেন। তিনি তাকে জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বিন লাদেনের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এর পরপরই অ্যাবটাবাদে থাকা আইএসআই-এর এক কর্নেল তার বস জেনারেল পাশাকে ফোন করে খবরটি নিশ্চিত করেন।

সাবেক সিআইএ প্রধান লিওন পানেটা তার আত্মজীবনী ‘ইউনিফর্ম ফাইট’-এ লিখেছেন, খবরটি শোনার পর জেনারেল কায়ানির প্রথম বাক্য ছিল, ‘ভালো যে আপনারা তাকে ধরতে পেরেছেন।’

এর জবাবে মাইক মুলেন বলেছিলেন, ‘ওসামা বিন লাদেন মারা গেছেন।’

বই অনুযায়ী, এটি শোনার পর এবং ওসামা বিন লাদেন যে গত পাঁচ বছর ধরে অ্যাবটাবাদের এই বাড়িতে থাকছিলেন তা জানার পর জেনারেল কায়ানি কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে এই বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কারণ আইএসআই পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিল।

সিআইএ প্রধানের সঙ্গে আইএসআই প্রধানের কথা

মাইক মুলেনের কলের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রেসিডেন্ট জারদারি এবং আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে ফোন করেন। লিওন পানেটা একই ধরণের একটি কল করেন আইএসআই প্রধান আহমেদ সুজা পাশাকে।

লিওন পানেটা লিখেছেন যে, ‘ততক্ষণে পাশা তার নিজস্ব সূত্র থেকে বিষয়টি জেনে গিয়েছিলেন। আমি তাদের বলেছিলাম, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবেই আপনার সংস্থাকে আমাদের অভিযান থেকে দূরে রেখেছিলাম যাতে আপনাদের বিরুদ্ধে আমাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ না ওঠে।’

তারা অত্যন্ত হতাশ সুরে উত্তর দিয়েছিলেন, আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা খুশি যে আপনারা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পেয়েছেন।

আমরা জানতাম যে আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব আর আগের মতো থাকবে না এবং আমাদের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়বে, কিন্তু এই ধরনের অভিযানের জন্য এটিই ছিল সেই মূল্য যা আমাদের দিতে হয়েছিল।

পাকিস্তান সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ওবামা সরাসরি টেলিভিশনে উপস্থিত হন। তিনি এই বলে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন, ‘আমরা আশা করি আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’

ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের প্রধান জেনারেল আতহার আব্বাস জেনারেল কায়ানি ও পাশার কাছে বিবৃতি দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু তা নাকচ করে দেওয়া হয়।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সম্মেলন

ফারহাতুল্লাহ বাবর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব এবং আইএসআই প্রধান সেখানে এসে পৌঁছান। সম্প্রতি বিদেশ সফর থেকে ফেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার একটু দেরিতে পৌঁছান।

কনফারেন্স রুমে বৈঠকটি ৯০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট জারদারি আমাকে আলাদা ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে এ বিষয়ে আমি কী ভাবছি। আমি দ্বিধাহীনভাবে উত্তর দিয়েছিলাম যে, এটি হয় যোগসাজশ, নতুবা অযোগ্যতা। আমাদের এটাও দেখা উচিত যে সেনাবাহিনী এবং আইএসআই-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না।

প্রেসিডেন্ট জারদারি এর উত্তরে একটি শব্দও বলেননি। তারপর কিছুক্ষণ চিন্তা করে তিনি বললেন, আমরা এ নিয়ে পরে কথা বলব।

পাকিস্তানি প্রশাসনের নীরবতা ও বিভ্রান্তি

পাকিস্তানের গণমাধ্যম এবং বিদেশিরা এই পুরো বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল, কিন্তু সরকারের ভেতরে এত বিশৃঙ্খলা ছিল যে সরকারি পর্যায়ে কেউ একটি শব্দও বলার মতো অবস্থায় ছিল না।

সর্বত্র এক বিভ্রান্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পর প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া আসে, যেখানে বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, পাকিস্তান না পারছিল অভিযানের সাফল্য দাবি করতে, না পারছিল তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং সেনাবাহিনীর অজ্ঞতার কথা খোলাখুলি স্বীকার করতে। এটা স্পষ্ট ছিল যে পুরো প্রশাসন এক বিভ্রান্তি ও সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে আটকা পড়েছিল, যেন অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো একটি পরিবেশ।

সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাকে রক্ষার প্রচেষ্টা

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন যে, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে না জানিয়ে গোপনে পাকিস্তানে প্রবেশ করে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল, তাই পাকিস্তানের সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ফাপা ও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। মিথ্যা ফাঁস হওয়ার পর মানুষ তা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত ছিল না।

গোয়েন্দা ও সামরিক নেতৃত্ব এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল যেখানে সহজেই তাদের জড়িত থাকার বা অযোগ্যতার অভিযোগ তোলা যেত।

কিছু অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পরবর্তীতে বিষয়টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই দাবি করে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযানের আগাম জ্ঞান ছিল এবং তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপমান মেনে নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না।

তারা এমনও দাবি করেছিলেন যে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল, কিন্তু খুব কম মানুষই তা বিশ্বাস করেছিল।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সুনাম নিয়ে প্রশ্ন

তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস তার আত্মজীবনী ডিউটি-তে লিখেছিলেন, পুরো ঘটনাটির সবচেয়ে বিব্রতকর দিক ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য, যেভাবে আমরা পাকিস্তানি সীমান্তের ১৫০ মাইল ভেতরে ক্যান্টনমেন্টের ঠিক মাঝখানে এই অভিযান চালিয়েছিলাম এবং তাদের সেনাবাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা নিরাপদে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের চরিত্র ক্ষুণ্ণ করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল।

পাকিস্তান পরবর্তীতে যে তদন্ত শুরু করেছিল, তার লক্ষ্য এটি ছিল যে বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী কীভাবে কোনো বাধা ছাড়াই পাকিস্তানে থাকতে পারল, বরং এর লক্ষ্য ছিল যে পাকিস্তানে কে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রেসিডেন্ট জারদারির নিবন্ধ

মে মাসের শেষ নাগাদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে এই পুরো ঘটনায় আইএসআই এবং সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে রক্ষা করা হবে।

এর প্রথম লক্ষণ দেখা গেল যখন ওয়াশিংটন পোস্টে প্রেসিডেন্ট জারদারির একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হলো যার শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তান প্লেড ইটস রোল’ (পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন করেছে)।

জারদারি লিখেছিলেন, যদিও রোববার (২রা মে) পরিচালিত অভিযানটি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যৌথ অভিযান ছিল না, তবে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের দীর্ঘ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ফলেই ওসামা বিন লাদেনের নির্মূল সম্ভব হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য এটি স্বস্তির উৎস হতে পারে যে আল-কায়েদা নেতার প্রাথমিক শনাক্তকরণের কারণে আমরা এই দিনটি দেখতে পেয়েছি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যতটা আমেরিকার, ততটাই পাকিস্তানের।

ফারহাতুল্লাহ বাবর মনে করেন যে, নিবন্ধটি অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি লিখেছেন, অনুমতি ছাড়া পাকিস্তানি ভূখণ্ডে একটি সামরিক অভিযানের জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করা এবং কৃতিত্ব নেওয়া এই নিবন্ধের লেখকের জন্য শোভনীয় নয়। এই নিবন্ধটি এমন কিছুকে রক্ষা করছিল যা রক্ষা করা সম্ভব ছিল না।

ফারহাতুল্লাহ বাবর লিখেছেন, আমি আমার লবিস্টকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলাম যেখানে লিখেছিলাম, আমি চাই যে প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমেরিকান সংবাদপত্রে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশের আগে আমরা একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করতাম।

নিবন্ধটিতে এমন আভাস ছিল যে প্রেসিডেন্ট জারদারি নিজের দেশের বিরুদ্ধে গিয়েও আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তার ইমেইলের কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।

গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা

ওসামা বিন লাদেন অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট জারদারির কাছে আইএসআই এবং সেনাবাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ভালো সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি সেই সম্ভাবনাটি বিবেচনা করতেই রাজি ছিলেন না।

ওয়াশিংটন পোস্টে জারদারির নিবন্ধে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে একটি শব্দও ছিল না, যা লক্ষণীয়।

অভিযানের তিন দিন পর, ৫ মে পররাষ্ট্র সচিব প্রথমবারের মতো এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে কিন্তু কোনো তদন্ত হবে না।

তদন্তের সম্ভাবনা শুধু প্রত্যাখ্যানই করা হয়নি, বরং এই ধরনের ব্যর্থতা অস্বাভাবিক কিছু নয়—এই বলে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।

সিআইএ প্রধান লিওন পানেটা ৩ মে টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানকে বিন লাদেনের অবস্থানের কথা জানায়নি কারণ তারা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করত না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই ইসলামাবাদকে কোনো সন্ত্রাসীর বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়া হয়েছে, তারা তাকে সতর্ক করে দিয়েছে।

জেনারেল কায়ানি পানেটার এই স্পষ্টবাদিতা পছন্দ করেননি। যখন সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জন কেরি পাকিস্তান সফরে আসেন, তখন জেনারেল কায়ানি উভয় দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি চেয়েছিলেন যেখানে বলা থাকবে যে আমেরিকা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে নিরাপত্তা জনিত কারণে ওসামা বিন লাদেনের অভিযানটি পাকিস্তানের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, পাকিস্তানের প্রতি অনাস্থার কারণে নয়। কিন্তু জন কেরি শুধু এটুকুই বলতে রাজি হয়েছিলেন যে ওসামা অভিযানটি ওবামা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়েছিল।

অ্যাবটাবাদ কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য বিচারপতি জাভেদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়। এই কমিশনের নাম দেওয়া হয় অ্যাবটাবাদ কমিশন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনা প্রধান কমিশনের সামনে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানান। শুধুমাত্র আইএসআই প্রধান জেনারেল পাশা কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন। কমিশনের রিপোর্ট ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়।

অ্যাবটাবাদ কমিশনের রিপোর্টকে একটি টপ সিক্রেট রিপোর্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রিপোর্টটি প্রকাশিত না হলেও এর একটি কপি আলজাজিরার হাতে পৌঁছায়, কিন্তু এটি প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তানে আলজাজিরার ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয়।

Posted ১০:০২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ মে ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.