বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল, আমি সদস্য ছিলাম না : আসিফ মাহমুদ

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল, আমি সদস্য ছিলাম না : আসিফ মাহমুদ

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারে ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন ওই সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে তিনি এই ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এ কথা বলেন। সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলা এবং সমসাময়িক বিষয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে একজন সাংবাদিক আসিফ মাহমুদের কাছে জানতে চান, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘কিচেন কেবিনেট ছিল। কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না।’

রাষ্ট্র বা সরকার পরিচালনায় কিচেন কেবিনেট বলতে আনুষ্ঠানিক কোনো ফোরাম নেই। এই শব্দবন্ধ দিয়ে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের কিছু বিশ্বস্ত সহকর্মীকে নিয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যাদের সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও সিদ্ধান্ত নেন।

সম্প্রতি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের এক সাক্ষাৎকারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট সক্রিয় ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সেখান থেকেই আসত। তাঁরা প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় (সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) বৈঠকে বসতেন। এদের হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের অস্বস্তির কথা ভেবে তা আর সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি প্রথমে ক্রীড়া উপদেষ্টা হলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে তিনিও অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বিদায় নেন। এরপর এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্বে আসেন তিনি।
বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একেবারে শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে কেউ এনসিপির মতামত নেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন আসিফ মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই চুক্তিটা বিএনপিই করেছে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে তাদেরই বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে (খলিলুর রহমান) দিয়ে তারা এটা অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। এখন একটা পলিটিক্যাল ব্লেম গেম (রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা) চলছে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পায় বিএনপি। এর তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির নেপথ্যে সে সময়ের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের ভূমিকার বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়।

এ বিষয়ে খলিলুর রহমান গত ৪ মার্চ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের (বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী) সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন। তাঁরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন নয় যে এটা আমরা অন্ধকারে করেছি।’

খলিলুর রহমানের ওই বক্তব্যের পর গত ৬ মার্চ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’

এরপর ১৫ মে রংপুরে এক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করেনি।

এবার চুক্তিটির বিষয়ে মুখ খুললেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক দল এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যখন (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়, তখন আমি এনসিপির মুখপাত্র ছিলাম। ফলে চুক্তি সম্পর্কে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানা সম্ভব নয়।’

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই বলেন, বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্কে সব দলকেই জানানো হয়েছে। আমি আমার দলের আহ্বায়কসহ সবার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, চুক্তির বিষয়ে কেউ এনসিপির কনসার্ন নেয়নি। এটা আমি পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি।’

সরকারের উদ্দেশে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘চুক্তিটি করেছেন বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদি অন্য কিছু হয়, তাহলে আপনারা এ চুক্তিটা পর্যালোচনা করুন, বাতিল করুন। চুক্তির যে যে অংশগুলো বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা চালান।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা বারবার অন্তর্বর্তী সরকার, এনসিপি, জামায়াত—এদের ওপর দায় দিতে চান। কিন্তু চুক্তি করেছে আপনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্লেম গেমের রাজনীতি, মানুষকে ভুলের মধ্যে রাখার চেষ্টা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

‘মনে হচ্ছে রাজতন্ত্রে বসবাস করছি’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে বসা কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের প্রায় সব পশুর হাটের ইজারা বিএনপির লোকজন পেয়েছেন। এবার যাঁরা হাট পাননি, সেই নেতারাও বিভিন্ন জায়গায় পাড়ায় পাড়ায় হাট বসাচ্ছেন। হাসিল আদায় করছেন।

মেট্রোস্টেশনের নিচেও হাটের বরাদ্দ হয়েছে অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই পুরো ব্যবস্থাটা বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ অব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন এনসিপির মুখপাত্র।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পরিবারতন্ত্রের প্রভাবের সমালোচনা করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা একটা রাজতন্ত্রে বসবাস করছি। অথচ এর আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছিল, তাঁরা ক্রীড়াক্ষেত্রকে দলীয়করণ করবেন না। তাঁরা আসলে সত্যি কথাই বলেছিলেন। তাঁরা দলীয়করণ নয়, পরিবারকরণ করেছেন। এখন সবাই ভয়ে চুপ করে আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Posted ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2226 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.