বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে: ধীরে ধীরে একাকিত্ব, তারপর করুণ মৃত্যু

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে: ধীরে ধীরে একাকিত্ব, তারপর করুণ মৃত্যু

তুইশা শর্মার সঙ্গে তার স্বামী সমর্থ সিংয়ের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপে

হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং আনন্দে ভরপুর তুইশা শর্মা ছিলেন এমন এক কনে, যিনি বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানে হাসি আর নাচে সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই হাসিমাখা কনের মৃত্যু হয়েছে বিয়ের পাঁচ মাস পার হওয়ার আগেই। এখন তার মুখ ভেসে উঠছে টেলিভিশনের পর্দায় এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়, আর মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। এটি ছিল একটি ভালোবাসার গল্প, যার শেষ হয়েছে মর্মান্তিকভাবে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে।

তুইশা শর্মার সঙ্গে তার স্বামী সমর্থ সিংয়ের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপে। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বিয়ে ছিল একেবারে জাঁকজমকপূর্ণ ভারতীয় আয়োজন—উচ্চশব্দের গান, নাচ, হাসি আর বিলাসী অনুষ্ঠান। বিয়ের ভিডিওতে তুইশাকে দেখা যায় আনন্দে নাচতে ও হাসতে, যেন তিনি জানতেনই না কয়েক মাস পর তার জীবনে কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

কীভাবে একটি ভালোবাসার বিয়ে শিক্ষিত ও শহুরে পরিবেশের মধ্যেই এমন ট্র্যাজেডিতে গড়ালো? তুইশা শর্মা ছিলেন সাবেক মিস পুনে এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী। তার স্বামী সমর্থ একজন আইনজীবী, আর শাশুড়ি গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক।

তুইশার মা এখনো গভীর শোকে আছেন। তিনি বুঝতেই পারছেন না মেয়েকে ছাড়া কীভাবে জীবন চলবে। তার বাবা দুঃখে খাওয়া-দাওয়া ভুলে গেছেন; এখন তার একমাত্র লক্ষ্য মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া।

তুইশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, শুরুতে আমরা ভাবিনি সমস্যাগুলো খুব বড় কিছু। মনে হয়েছিল এটা শুধু আচরণের সমস্যা, সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে। আমার মেয়েও বিষয়গুলো বড় করে দেখেনি, বরং তাকে এমনভাবে বোঝানো হয়েছিল যে সব দোষই তার। কিন্তু পরিবারের দাবি, বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ভিয়েতনামে হানিমুনে যাওয়ার সময় তুইশা ফ্লাইটের সময় ভুল পড়েছিল। ফলে তাদের ফ্লাইট মিস হয়। তখন সমর্থ বিমানবন্দরে তুইশাকে ধাক্কা দেয়। কিন্তু সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পুরো দোষ তার ওপর চাপানো হয় এবং সেও ভেবেছিল এটি একবারের ঘটনা। কিন্তু আমরা সবাই ভুল ছিলাম। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এমনকি মৃত্যুর পরও তা চলছে। দেখুন, কীভাবে তার শাশুড়ি প্রকাশ্যে তাকে অপমান করার চেষ্টা করছেন।

পরিবারের দাবি, তুইশাকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে ভোপালে পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা ইন্দোরে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কখনো বাস্তব হয়নি, যদিও ঘরের ভেতরে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

নবনিধি শর্মা বলেন, সমর্থ গিরগিটির মতো রং বদলেছে। সে বলেছিল, সবসময় তুইশার পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, তার শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের সবসময় আচরণের সমস্যা ছিল। তিনি ভয় দেখানোর ভঙ্গিতে কথা বলতেন। কিন্তু আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছিলাম, কারণ তিনি একজন বিচারক ছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো পেশাগত কারণে এমন আচরণ। আমরা কখনো তার সঙ্গে যুক্তি করতে পারতাম না। তিনি স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করতেন।

অন্যদিকে, গিরিবালা সিং তুইশার মৃত্যুর পর সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি প্রকাশ্যে তুইশার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মন্তব্য করেন এবং গাঁজা সেবনের অভিযোগও তুলেছেন। ঘটনার পর প্রকাশ হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে টুইশার অতীত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও শোনা গেছে।

তুইশার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে মানসিক নির্যাতন করা হতো এবং সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। নবনিধি শর্মা বলেন, মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো চ্যাটগুলো আমার মেয়ের সহ্য করা নির্যাতনের মাত্র ১০ শতাংশ। শুরুতে আমরা গিরিবালা সিং ও সমর্থের আচরণ পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, এখন শিক্ষিত পরিবারগুলো সরাসরি যৌতুক চায় না, বরং তা ‘উপহার’ ও ‘রীতির’ নামে চাওয়া হয়। তারা এমনকি আমার কোম্পানিতে থাকা তুইশার শেয়ার নিজেদের নামে হস্তান্তর করতে বলেছিল, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

তিনি বলেন, সে ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে সেখানে সে সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন পাবে। কিন্তু তার বদলে তাকে অপমান, অসম্মান এবং কটু ভাষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই সমর্থের আচরণ তুইশা ও তার বাবা-মায়ের প্রতি বদলাতে শুরু করে। তুইশার বাবা বলেন, সে কখনও আমাদের সঙ্গে নিজে থেকে যোগাযোগ করতো না। মানসিকভাবে সে দূরে ছিল। শুরুতে আমরা নিজেদের বোঝাতাম, বিয়ের পর মানিয়ে নিতে সময় লাগে।

এদিকে, পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তুইশা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন।

তার বাবা বলেন, সে আগের মতো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো না। অনেকেই ভেবেছিল, বিয়ের পর ব্যস্ত হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, কেউ হঠাৎ এভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিলে সাধারণত দুটি কারণ থাকতে পারে—হয় সে নতুন জীবনে খুব সুখী, নয়তো ভয়াবহ কিছু ঘটছে। আমার মেয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই সত্যি ছিল।

পরিবারের দাবি, ভাইয়ের বিয়ের সময়ও তুইশার আচরণে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। যদিও তিনি হাসিমুখে সব আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন, তার কাছের মানুষরা বুঝতে পেরেছিলেন ভেতরে কিছু একটা ঠিক নেই।

মৃত্যুর আগে তুইশা নাকি পরিবারকে বলেছিলেন, ফাঁস গয়ি হুঁ (আমি ফেঁসে গেছি)।

তার বাবা বলেন, সেদিন সন্ধ্যায় সে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিল এবং খুব উদ্বিগ্ন শোনাচ্ছিল। আমরা বলেছিলাম, তাকে বাড়ি নিয়ে আসবো। কিন্তু হঠাৎ পেছনে সমর্থের কণ্ঠ শুনতে পাই এবং কল কেটে যায়। এরপরই খবর পাই, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তুইশা শর্মার মৃত্যুর তদন্ত এখন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) হাতে গেছে।

নবনিধি শর্মা বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে মারা যাচ্ছি। কিন্তু আমার মেয়ের আত্মাই আমাকে এগিয়ে যেতে শক্তি দিচ্ছে। আমরা তদন্তকারীদের আমাদের কথাই অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে বলছি না। শুধু চাই, তারা যেন প্রমাণগুলো সৎভাবে খতিয়ে দেখে এবং স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে।

সূত্র : এনডিটিভি

Posted ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.