বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ঝুঁকিতে বাংলাদেশও, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ে কড়াকড়ি

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ঝুঁকিতে বাংলাদেশও, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ে কড়াকড়ি

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার প্রক্রিয়া আরো কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিতে আবেদনকারীদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অনলাইন কার্যক্রমের গভীর যাচাইয়ের ইঙ্গিত থাকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় রাজনীতিক নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার প্রস্তাব তুলে ধরে আশ্রয় আবেদনকারীদের পরিচয় ও কার্যক্রম যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিসা ও আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, বক্তব্য এবং কার্যক্রম যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে।

তবে অভিবাসন বিষয়ে বিজ্ঞজনদের মতে, প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন স্তরে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুত আরও জটিল ও প্রমাণনির্ভর হয়ে উঠবে। চলমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারে এবং ভিসাধারীদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। বিশেষ করে, যাদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রকাশ্য বা অনলাইনে দৃশ্যমান, তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তর আশ্রয় আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতনের আশঙ্কা, প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে থাকে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং আবেদনকারীর ব্যক্তিগতভাবে ঝুঁকির মুখে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীদের মতে, ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাচাই বাধ্যতামূলক হলে আবেদন প্রক্রিয়া আরো কঠোর ও তথ্যনির্ভর হয়ে উঠবে এবং পূর্বের কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান দাবির অসামঞ্জস্য থাকলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।

সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির আবিদুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ থেকে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কমিউনিটির একাংশ মনে করছেন, অতীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নতুন নীতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে কেউ বলছেন, যাদের প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত ঝুঁকি রয়েছে এবং যারা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তেমন প্রভাব ফেলবে না।

একজন আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে কমিউনিটির অপর একটি সূত্র জানায়, তিনি দেশে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য রয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়ের আবেদন করতে গিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
কারণ নতুন যাচাই ব্যবস্থায় তার পূর্বের অবস্থান তার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। যদিও এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাচাইযোগ্য নয়, তবুও কমিউনিটির মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানগত দিক থেকে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। যার একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে আসে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনেক আবেদনই প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল হয়, প্রধানত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব বা বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতির কারণে। যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হলে বাতিলের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকা নিয়ে আলোচনাও সামনে এসেছে। কোনো দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেই দেশ থেকে আসা আশ্রয় আবেদন সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আনা হয়। বাংলাদেশকে এই তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, এ ধরনের প্রস্তাবনা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় নতুন বাংলাদেশি আশ্রয় প্রাথনাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন না বা অনলাইনে সক্রিয় থাকেন না। ফলে কেবল অনলাইন উপস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যু ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এই বিষয়টিকে নির্বাচনী অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভিসা ব্যবস্থার কঠোরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রস্তাব রাজনৈতিক বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলছে।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মাইগ্রেশনের বিষয়ে পরামর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আরো কঠোর, যাচাইকেন্দ্রিক এবং তথ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে একদিকে দুর্বল বা অসংগত আবেদন কমে আসতে পারে। অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়বে। নতুন বাস্তবতায় রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত ভূমিকার চেয়ে ব্যক্তিগত ঝুঁকি প্রমাণই হয়ে উঠতে পারে আশ্রয় পাওয়ার প্রধান নির্ধারক।

Posted ৯:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2229 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.