বাংলাদেশ অনলাইন : | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ড. খলিলুর রহমান ও ড. এস জয়শঙ্কর। ছবি : সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তিক্ততা ও টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এই সফরের মধ্যে দিয়ে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি সহায়তাও পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৬ বছরে ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলো। সেই সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা সেই সম্পর্ককে ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করতেন।
তখন উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় শতাধিক চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়। এসব চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনাও ছিলো। এছাড়া ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের ভূমিকা ছিল ব্যাপকভাবে সমালোচিত।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এই ভারত সফরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার বার্তা
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখতে চায় দেশটি। আর সে কারণেই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নানা ইস্যুতে ভারতের তীব্র টানাপোড়েন ও তিক্ততা চলে আসছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিএনপির দিকে অনেকটাই ঝুঁকে পড়েছিলো ভারত। কেননা বিএনপি ছাড়া ভারতের আর কোনো বিকল্প ছিল না। সে কারণে এবার নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সঙ্গেই ভারত সম্পর্ক রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সফরে দিল্লির পক্ষ থেকে তেমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
দিল্লির কাছে যা চাইলো ঢাকা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর ভারতের কাছে শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে ফেরত চেয়েছেন। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন হত্যাকারীদেরও ফেরত চান তিনি। এছাড়া ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। বৈঠকে ভারতের ভিসা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে।
এদিকে ভারতের কাছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিও তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবেন।
Posted ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh