বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, প্রচারণা এবং কৌশলগত যোগাযোগে সময় কাটছে তার।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী বুধবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত একটি ‘ইনফরমাল ইন্টার্যাকটিভ ডায়লগে’ অংশ নেবেন ড. খলিলুর রহমান। তার সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও থাকবেন।
সেশনে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইপ্রাসের প্রার্থী ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে ২০১৭ সালে গৃহীত এক প্রস্তাবের আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সেগুনবাগিচা বলছে, ভোটের আগে এই প্রেজেন্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে প্রার্থীরা নিজেদের অগ্রাধিকার, নেতৃত্বের ধরন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিশেষ করে এলডিসি দেশগুলোর স্বার্থ, চলমান বৈশ্বিক সংকটের ভবিষ্যত নিয়ে সাধারণ পরিষদে প্রশ্ন উঠতে পারে। যার মধ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যু, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এবারের সেশন দু‘টি অংশে পরিচালিত হবে। সকালের সেশনে বক্তব্য দেবেন সাইপ্রাসের প্রার্থী। বিকালের সেশনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান। আলোচনা পরিচালনা করবেন বর্তমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি জার্মানির অ্যানালেনা বেয়ারবক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ড. খলিলুর রহমানের প্রেজেন্টেশনের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের কূটনীতিকরাও উপস্থিত থাকবেন। শামা ওবায়েদ ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মসূচি শেষে তিনি মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স অন পিসকিপিংয়েও অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক মহল বলছে, বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচিত হলে এটি হবে দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। খুব অল্প সময়ে বাংলাদেশ ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে এবং এখনো বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে কাজ চলছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২রা জুন। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
শুরুতে বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সরকার পরিবর্তনের কারণে তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে এ মনোনয়ন দেন। ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন নির্বাচন করার কথা ছিল। এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়। যদিও পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় ফিলিস্তিন।
২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬-১৭ মেয়াদেও ৭১তম অধিবেশনে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ। প্রায় চার দশক পর পরিষদের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
Posted ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh