বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিশ্চিত মৃত্যু জানার পরও কোনোভাবেই থামছে না রাবারের নৌকায় বাংলাদেশিদের ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে শুধু ভূমধ্যসাগর হয়ে রাবারের নৌকায় চেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করেছেন ৩৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী। এসব অভিবাসীর বেশিরভাগ বাংলাদেশি, সোমালিয়া ও পাকিস্তানের নাগরিক।
ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের মার্চ মাসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন অবৈধ পথে প্রায় ১২ হাজার অবৈধ অভিবাসী ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ কম হলেও সমুদ্রপথের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় মৃত্যুর হার আগের তুলনায় বেড়েছে।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসী মারা গেছেন। খারাপ আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান ব্যবহারের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষ ইউরোপে বিশেষ করে ইতালি ও গ্রিসে প্রবেশ করেন। যা মোট অবৈধ অভিবাসীর প্রায় ৩০ শতাংশ।
এই পথ দিয়েই লিবিয়া ও তিউনিসিয়া হয়ে ইতালি ও গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাংলাদেশিরা। শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিস সীমান্তের একটি দ্বীপের পাশ থেকে ২১ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে গ্রিস কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এ পথে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান ও আলজেরীয় নাগরিক ইউরোপে প্রবেশ করে থাকেন।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে নৌপথে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে অবৈধ অভিবাসীর ইউরোপে প্রবেশ অনেকটাই কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইউরোপে অভিবাসনের ঢল নামাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে মার্চের প্রতিবেদন মতে, পশ্চিম আফ্রিকা রুট দিয়েও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ কমেছে। পূর্ব-মধ্য রুটে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন প্রবেশ করলেও এটি আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। পশ্চিম ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের ইউরোপে প্রবেশ তালিকাভুক্ত হয়েছে। এছাড়া পূর্বের বলকান স্থল সীমান্ত দিয়েও ইউরোপে প্রবেশ কমেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৯৬ জনের প্রবেশ রেকর্ড করা হয়েছে।
ফ্রন্টেক্স জানায়, যুদ্ধের পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে ইইউ সীমান্তে ৩ হাজারের বেশি সীমান্তরক্ষী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সমুদ্রে জীবন রক্ষা ও অবৈধ অভিবাসীদের উদ্ধারেও কাজ করে থাকে।
Posted ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh