বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডারদের যুক্ত করে ‘সিভিল অ্যাসেট রিকভারি’ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ)-এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
‘আপডেট অব সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাস : শীর্ষক ওই সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ও উপপ্রধান, সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গভর্নরের পরামর্শক ও অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের সদস্য ফারহানুল গনি চৌধুরী বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। উপস্থাপনায় জানানো হয়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ দুটি পদ্ধতিতে কাজ করছে। এগুলো হলো- ক্রিমিনাল ও সিভিল প্রসিডিংস। এর মধ্যে ক্রিমিনাল প্রসিডিংস সরকার-টু-সরকার (জি২জি) ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের মাধ্যমে সিভিল প্রসিডিংস শুরু করেছে।
সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ছয়টি গ্রুপ নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে ১০টি ব্যাংক ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ এনডিএ স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, সরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুত এনডিএ স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সভায় আরও জানানো হয়, কিছু ব্যাংক ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করতে শুরু করেছে, যাতে তারা যথাযথ পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
প্রথম ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিসরে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সভায় বলা হয়, বিদেশে ঋণের অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ১০০টিরও বেশি মামলাকে সামনে রেখে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করা। পাচার হওয়া অর্থ মূলত সাধারণ আমানতকারীদের টাকা। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই অর্থ উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।
এই টাকা উদ্ধারে কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, কোনো রাজনৈতিক চাপ আসলে ব্যাংকগুলো যেন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ ধরনের চাপ মোকাবিলার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন বলেও আশ্বাস দেন।
গভর্নর আরও বলেন, সিভিল প্রসিডিংস প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই প্রক্রিয়া এগোলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসতে পারে।
Posted ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh