বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ফেসবুকে কেন ট্রেন্ডিং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’? কীভাবে এল এই স্লোগান?

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফেসবুকে কেন ট্রেন্ডিং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’? কীভাবে এল এই স্লোগান?

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথ কাঁপানো স্লোগান ছিল ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। দীর্ঘ সময় পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই শব্দবন্ধটি ব্যাপকভাবে ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নেটিজেনদের ওয়ালে ওয়ালে এখন ঘুরছে এই স্লোগান। হঠাৎ এই ট্রেন্ডের মূলে রয়েছে ভাষা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া একটি সাম্প্রতিক বিতর্ক।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলাকে যদি আমার মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা না।’ তার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক কালজয়ী গর্জন। প্রখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের মতে, ১৯২১ সালে উর্দু কবি ও কমিউনিস্ট নেতা মাওলানা হাসরাত মোহানি (১৮৭৫-১৯৫১) প্রথম এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। হাসরাত মোহানি ছিলেন একাধারে শ্রমিক নেতা এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কবি হিসেবে ‘হাসরাত’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।

মাওলানা হাসরাত মোহানি স্লোগানটি তৈরি করলেও এটিকে রাজপথে জনপ্রিয় করে তোলেন বিপ্লবী নেতা ভগত সিং। ১৯২৯ সালে দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপের সময় তিনি এই স্লোগান দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ভগত সিং বলেছিলেন, ‘ইনকিলাব বা বিপ্লব মানে কেবল বোমা বা পিস্তলের সংস্কৃতি নয়। আমাদের বিপ্লবের অর্থ হলো—অন্যায় ও শোষণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এই স্লোগানের অর্থ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দের অর্থ বিপ্লব এবং ‘জিন্দাবাদ’ অর্থ অভিনন্দন জানানো বা দীর্ঘজীবী হওয়া। অর্থাৎ এর সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ বা ‘বিপ্লবকে অভিনন্দন’। মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেই এটি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বক্তব্যের পর এক পক্ষ মনে করছে, বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিদেশি শব্দের স্লোগান পরিহার করা উচিত। তবে বড় একটি অংশ দাবি করছে, বিপ্লবের কোনো ভাষা হয় না। তাদের মতে, কোনো শব্দ বা স্লোগান যখন লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে মিশে যায়, তখন সেটি ভাষার গণ্ডি ছাড়িয়ে জনগণের সম্পদে পরিণত হয়। এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতেই এখন সরগরম ফেসবুকের নিউজফিড।

Posted ৩:৩৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2226 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.