বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রভাতি আয়োজনে বিশ্বশান্তি কামনা করা হয়েছে। ছায়ানট সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নূতন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি। শুনতে চাই সমাজের অভয়বাণী— যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারে; সকলে যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি; যেন সংস্কৃতির সকল প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয়— বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন-যাপন করে।
সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে নিরস্ত করতে চায় কোনো অপশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সংকট-এর সঙ্গী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল অধিকার অর্জনের অবলম্বন, সকল ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে; কোনো অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে নিরস্ত করতে চায়। তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শেকড়বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত। সমাজে বেড়েছে অসহিষ্ণুতা। বেড়েছে আপন মত প্রকাশে দলবদ্ধ নিগ্রহের শঙ্কা।
ছায়ানট সভাপতি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালি-সংস্কৃতি তথা জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন। বিগত প্রায় ছয় দশকের মতো এই দিনটিতে আমরা সকল গ্লানি জরা মুছে ফিরে দেখি, ফেলে আসা বছরকে। গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে নববর্ষের অনুষ্ঠান। ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে হলো বিজয় দিবসের আয়োজন। তার দু’দিন পরেই, গভীর রাতে, ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম-তবলা-তানপুরা এবং নালন্দার ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন শিশু-পুস্তকের দুঃসহ স্মৃতি। সেই রাতেই অগ্নিসংযোগ করা হয় দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে। পরদিন আক্রান্ত উদীচী। এই সহিংস ঘটনাবলির কদিন আগেই, অপদস্থ হয়েছেন বাউল শিল্পীরা। স্মরণে জেগে ওঠে, এই বটমূলে ২০০১ সালের ভয়াবহ অঘটন।
সকাল সোয়া ৬টায় সম্মিলিত গান ‘জাগো আলোক-লগনে’ গেয়ে শুরু হয় ছায়ানটের নতুন বছরকে আবাহন। একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’, ‘বাজাও আমারে বাজাও’।
এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, মাতলুব আলী, সলিল চৌধুরীর গান পরিবেশিত হচ্ছে।
পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন খায়রুল আনাম শাকিল, লাইসা আহমদ লিসা, নাসিমা শাহীন, চন্দনা মজুমদার, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, শারমিন সাথী ইসলাম ময়না, মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, সমুদ্র শুভম, ঐশ্বর্য সমদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব প্রমুখ।
বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে ‘আরো মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এবার বর্ষবরণ করছে দেশের সংস্কৃতিচর্চার পথিকৃৎ এই সংগঠন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ অনুষ্ঠানের এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
প্রভাতী আয়োজনে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। দুটি পাঠ থাকছে। শিশুরাসহ ছায়ানটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
Posted ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh