ফিনান্সিয়াল টাইমস : | শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটির নতুন ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে (২০০৯-২০২৩) প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত “Bangladesh’s Missing Billions: Stolen in Plain Sight” শিরোনামের এই অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে আন্দোলনকারী, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন— কীভাবে এত বিপুল অর্থ পাচার হলো এবং তা আদৌ ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না।
গণঅভ্যুত্থান থেকে পতন : ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা সরকার বিতর্কিত কোটা সংস্কার প্রস্তাব আনে। আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়স্বজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শুরু হয় দেশব্যাপী বিক্ষোভ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। প্রথম দিকে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ না হলেও ১৪ জুলাই থেকে দমন-পীড়ন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, পুলিশ ও সরকারি বাহিনী গুলি চালায়, স্নাইপার ব্যবহার করে এবং হেলিকপ্টার থেকেও শেল নিক্ষেপ করে।
৫ আগস্ট পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় নেয়। ওই দিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই আন্দোলনে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
দুর্নীতি ও পাচারের অভিযোগ : দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ ছিল। বিশেষত যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাত ও রিয়েল এস্টেট বাজারকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়। ডকুমেন্টারিতে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার পরিবারের নামও উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ লন্ডনে পাচার করা হয়েছে। রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও তদন্তের মুখে পড়েন এবং মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন। এ ছাড়া সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ অপরাধ দমন সংস্থা (SCA) ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাবে, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে।
ব্যাংক দখল ও ভুয়া ঋণ : ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের সময় সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সহায়তায় ঘনিষ্ঠ মহলের লোকেরা ব্যাংক দখল করে। অস্ত্রের মুখে পরিচালকদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর ভুয়া ঋণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা তুলে তা বিদেশে পাচার করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় আর্থিক লুটপাট।
পরিবর্তনের হাওয়া : শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়। তিনি সাবেক আইএমএফ কর্মকর্তা আহসান মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেন এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অন্তত ১১টি ব্যাংক দেউলিয়ার মুখে। ব্যাংক খাত সচল রাখতে সরকার ইতিমধ্যে ২৯ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
Posted ১০:৪২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh