বাংলাদেশ অনলাইন : | শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকী ছবি
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এক মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শ্রমিকের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উস্থি এলাকায়। অভিযোগ, কমারোলু এলাকায় চুরি করার অপবাদ দিয়ে উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে পিটিয়ে খুন করে।
মঞ্জুর উস্থির রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি এক দশক ধরে কমারোলুতে জরি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। এত দিন ধরে ওই এলাকায় কাজ করলেও তাঁকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, মঞ্জুরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল এবং মুক্তির বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মঙ্গলবার একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মঞ্জুরের স্ত্রীকে ফোন করে মুক্তিপণের দাবি জানানো হয়। স্বামীর প্রাণনাশের আশঙ্কায় পরিবার কোনোরকমে ৬ হাজার টাকা জোগাড় করে ওই নম্বরে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গিয়াসউদ্দিন লস্কর অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, ‘যে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল এবং যারা জড়িত ছিল, তারাই আমার ভাইকে খুন করেছে।’
পরিবারের আরও দাবি, প্রথমে মঞ্জুরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেওয়া হয়, তারপর চুরির অপবাদে জড়িয়ে তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি—পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, অন্ধ্র প্রদেশে বর্তমানে টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায়।
মঞ্জুরের পরিবার এরই মধ্যে কমারোলু থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের ফোন এসেছিল, সেই নম্বর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর একের পর এক হিংসা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। মঞ্জুরের হত্যাকাণ্ড সেই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ঘটল।
উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বাংলাভাষী সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি বা তাদের সহযোগী দল তাদের শাসিত রাজ্যগুলোতে শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াত রুখতেই এই সন্ত্রাস চালাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর কত মায়ের সন্তান হারালে তাদের টনক নড়বে? এই উদাসীনতা ক্ষমার অযোগ্য।’
Posted ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh