বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়নশীল ৮ দেশের জোট ডেভেলপিং–৮ বা ডি-৮—এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভিসা সুবিধা আরও সহজ করার উদ্যোগে গুরুত্ব বাড়ছে। উন্নত গতিশীলতা ও ‘সফট কানেকটিভিটি’ জোরদারের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে সদস্য দেশগুলো। ১২ মে (সোমবার) বাংলাদেশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল পরামর্শ সভায় এ বিষয়গুলো উঠে আসে। সভায় ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজীকরণের বাস্তব উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
এই বিষয়ে ডি–৮—এর অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভিসা সুবিধা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল পরামর্শ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাসচিব রাষ্ট্রদূত সোহাইল মাহমুদ উন্নত গতিশীলতা এবং শক্তিশালী সফট কানেকটিভিটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।’
ডি–৮—এর সেক্রেটারি জেনারেল ও পাকিস্তানি কূটনীতিক সোহাইল মাহমুদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়বে, ডি-৮ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা শক্তিশালী হবে, অর্থনৈতিক একীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ আরও বিস্তৃত হবে।’
বাংলাদেশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিদ্যমান ভিসা সুবিধা সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ডি-৮ অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্বীকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করার বাস্তবসম্মত পথ ও উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলো ডি-৮ সংগঠনের উদ্দেশ্য এবং ডি-৮ দশকব্যাপী রোডম্যাপ ২০২০-২০৩০-এ নির্ধারিত অগ্রাধিকারসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত নীতি ও ব্যবস্থার মাধ্যমে ডি-৮ ভূখণ্ডে ভ্রমণ ও চলাচল আরও সহজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
এই বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ। বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক তাঁর অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল এই বিষয়ে লিখেছেন, ‘এটি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর মতো একটি উদ্যোগ। সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু বাধা রয়েছে, যেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে, যার শুরুটা ভিসা থেকে। ডি–৮ দেশগুলোর নাগরিকদের আরও মুক্তভাবে পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে দেবে—এমন ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো দেখতে সত্যিই ভালো লাগছে।’
ডি-৮ বা ডেভেলপিং এইট হলো উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশের একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা। এর প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ছিলেন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকান। ১৯৯৬ সালে ইস্তাম্বুলে এক সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটের যাত্রা শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক—এই আটটি দেশ নিয়ে সংস্থাটি গঠিত। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশ্ব অর্থনীতিতে অবস্থান সুদৃঢ় করা, বাণিজ্যিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য আনা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই জোটের মূল লক্ষ্য।
বিগত কয়েক দশকে ডি-৮ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মঞ্চ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই জোট মূলত বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। সংস্থার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় হলো সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন, যা নিয়মিত বিরতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সাউথ–সাউথ কো–অপারেশন বা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ডি-৮ বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যে নিজস্ব অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই জোটের প্রধান কার্যালয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত।
Posted ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh