বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্রবাসী আয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে দেশের বহু পরিবারের মাসিক বাজেট চাপে পড়ে। রেমিট্যান্স কমলে টিকে থাকতে এখনই বিকল্প সঞ্চয় ও জরুরি তহবিল গড়া উচিত। বিকল্প কৌশলগুলো নিয়ে ভাবা দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে কোনো কোনো সময়ে প্রবাসী আয় ওঠানামা করে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান, মজুরি বা কর্মঘণ্টা কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশে থাকা পরিবারের নগদ প্রবাহে। যেসব পরিবার একমাত্র প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আয় কমে গেলে তখন হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগেভাগে পরিকল্পনা থাকলে পরিবার আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে পারে। সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার দেখা যাক , কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
১. খরচের তালিকা পর্যালোচনা
পরিবারের স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যয় আলাদা করুন। বাড়িভাড়া, শিক্ষা, ওষুধ—এসব অগ্রাধিকার ব্যয়। ভ্রমণ, উৎসব বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা সাময়িক স্থগিত রাখা দরকার। এভাবে অন্তত তিন মাসের ন্যূনতম খরচ কত, সেটি হিসাব করে রাখা ভালো। সে অনুযায়ী খরচ করতে পারেন।
২. জরুরি তহবিল গঠন
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এর নিশ্চয়তা নেই। তাই তিন থেকে ছয় মাসের সমপরিমাণ খরচ জমানোর জন্য আলাদা তহবিল করতে পারেন। একবারে সম্ভব না হলে প্রবাসী আয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আলাদা হিসাবে রাখুন। আলাদা ব্যাংক হিসাবে বা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখলে খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ধরা যাক, একটি পরিবার মাসে ৫০ হাজার টাকা প্রবাসী আয় পায়। ন্যূনতম ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে অন্তত এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা (তিন মাসের ব্যয়) জরুরি তহবিল লক্ষ্য ধরা যেতে পারে। প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা আলাদা রাখলে এক বছরে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
৩. এক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমান
প্রবাসী আয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরতা কমান। তাই পরিবারের অন্য সদস্য আংশিক আয় করতে পারেন কি না, সেদিকে নজর দিন। যেমন ঘরে বসে কাজ, ছোট ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক সেবা। অল্প আয়ের উৎসও মাসিক ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।
৪. ঋণের চাপ কমান
উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড থাকলে আগে সেটি পরিশোধের পরিকল্পনা করুন। সুদের বোঝা কমলে নগদ প্রবাহে স্বস্তি মিলবে।
৫. প্রবাসীর সঞ্চয় দেশে কীভাবে ব্যবহার
প্রবাসফেরতের ঝুঁকি মাথায় রেখে এককালীন সঞ্চয় পুরোটা খরচ না করে ভাগ করুন। এক অংশ জরুরি তহবিল, এক অংশ আয়বর্ধক খাতে বিনিয়োগ, বাকি অংশ নিরাপদ আমানতে। ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
Posted ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh