বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তাতে গত তিন মাস- সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরেও দেশে প্রবাসী আয় প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত আগস্টেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয় প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই। প্রবাসী আয়সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় এসেছে ৫১ কোটি মার্কিন ডলার। অক্টোবরে এসেছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে এসেছে ৩৯ কোটি ডলার, আগস্টের তুলনায় যা ১০ কোটি ডলার বা সাড়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। আগস্টে দেশটি থেকে এসেছিল ২৯ কোটি ডলার। আর গত জুলাইয়ে দেশটি থেকে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ২৪ কোটি ডলার।
আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় আসা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জুলাইয়ের পর প্রতি মাসেই দেশটি থেকে প্রবাসী আয় আসা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় গত চার মাসে ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রবাসী আয় আসা কমছে। দেশটি থেকে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে যথাক্রমে ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৩৩, ২৯ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় কমতে থাকায় দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে।
হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় এভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ কী। জানতে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রবাসী আয় আহরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের বড় পরিবর্তন হয়েছে। এখন প্রবাসী আয় প্রেরণকারী বৈশ্বিক বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশ থেকে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রবাসী আয় কিনে নেয়। পরে সেসব আয় একত্র করে নির্দিষ্ট একটি দেশ থেকে তা গন্তব্য দেশে পাঠায়। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রামসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিগেটেড (সমন্বিত) পদ্ধতিতে প্রবাসী আয় সংগ্রহ করে প্রেরণ করে।
একই রকম প্রশ্নের জবাবে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নিউইয়র্কের কর্ণধার ও বাংলাদেশ রেমিট্যান্স ফেয়ারের প্রধান সমন্বয়ক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘গত ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে গত বছর রেমিট্যান্স দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সাড়া মিলেছে। বাংলাদেশ-ইউএসএ বিজনেস লিংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশের আইএফআইসি ব্যাংক নিউইয়র্কের ৪টি বোরোতে যে রোডশোর আয়োজন করে তা অভিবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বুদ্ধ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের প্রতি প্রবাসীরা আস্থা রাখতে পেরেছেন। বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে নির্দিষ্ট রেটের পাশাপাশি দেশে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার বিষয়টি রেমিট্যান্স প্রেরকদের দৃষ্টি আকর্যণ করে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ বছর অক্টোবরে ঢাকা ব্যাংকের সহযোগিতার যে রেমিট্যান্স মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ফারুক নিউইয়র্ক প্রবাসীদের সঙ্গে প্রশ্ন-উত্তর পর্বসহ দুই দিন মতবিনিময় করেছেন। গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ার এটি অন্যতম কারণ। তা ছাড়া রেমিট্যান্স ফেয়ারে ১০ জন রেমিট্যান্স প্রেরণকারীকে সম্মাননা প্রদানও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ২০২৪ রেমিট্যান্স ফেয়ারের মূল প্রতিপাদ্য- বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশ বিনির্মাণে অবদান রাখুন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আগের মাস অক্টোবরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ বা প্রায় ২১ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে রেমিট্যান্স ফেয়ারের উদ্বোধনের ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দেশে প্রবাসী আয় আসার দিক থেকে ৯টি বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। অপরদিকে সবচেয়ে কম এসেছে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে। এ ছাড়া জেলাওয়ারি হিসাবেও প্রবাসী আয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা এবং সবচেয়ে কম এসেছে লালমনিরহাট জেলায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে ঢাকা বিভাগে প্রবাসী আয় এসেছে ১১৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর এর আগে সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিভাগে প্রবাসী আয় এসেছিল ১১২ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে ঢাকা বিভাগে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এই সময়ে ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ঢাকা জেলায়Ñ ৭৫ কোটি ডলার। আর সবচেয়ে কম এসেছে রাজবাড়ী জেলায়Ñ ১ কোটি ডলার।
প্রতিবেদন বলছে, প্রবাসী আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। চলতি বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯ কোটি ডলার। আর এর আগে সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে চট্টগ্রাম জেলায় ২০ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। আর সবচেয়ে কম এসেছে বান্দরবান জেলায় ১৬ লাখ ডলার।
Posted ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh