বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে

রয়টার্স ও আল–জাজিরা :   |   মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে

রাতের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি। ইসরায়েলের জেরুজালেমে, ১ মার্চ ২০২৬। ছবি : রয়টার্স

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানে দফায় দফায় তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। এরই মধ্যে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইরানে গত শনিবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার ছিল যুদ্ধের তৃতীয় দিন। এদিন পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েল ছাড়াও লেবানন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান, ইরাক ও সাইপ্রাসে হামলা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের দেশগুলোতেও, অর্থাৎ প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। গতকাল পর্যন্ত ইরানের অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট। এদিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে গতকাল পর্যন্ত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন চার মার্কিন সেনা।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ইরান ও ইসরায়েল। তাতে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। এবার ইসরায়েল আরও তীব্রতার সঙ্গে হামলা চালাচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র। এ যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে বলে গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ–ও বলেছেন যে দরকার পড়লে অভিযান আরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানে বিপুল মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির তাবরিজ শহরের বাসিন্দা মোর্তেজা সেগিদি রয়টার্সকে বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল) শিশুদের হত্যা করছে। হাসপাতালে হামলা চালাচ্ছে। এমন গণতন্ত্রই কি ট্রাম্প আমাদের দিতে চান?’

বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চলমান অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। আর ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘লায়ন রোর’। শনিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ইরানের ১৩১টি শহরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত রোববার প্রথম রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলার দাবি করে ইসরায়েল বাহিনী। গতকাল রাতেও শহরটি দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। যেমন গতকাল তেহরানের রেভোল্যুশন স্কয়ারে কাছে হামলার প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছিলেন ইরানিরা। ওই স্কয়ারের কাছেই বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। এ ছাড়া শহরের নিলোফার স্কয়ারে ইসরায়েলের হামলায় ২০ জনের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন।

তেহরানে নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের আইনপ্রণেতা ফাতেমেহ মোহাম্মদ বেগ। আইআরজিসির প্রধান কার্যালয়ও ধ্বংসের দাবি করেছে মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। রোববার ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) নিযুক্ত ইরানের দূত রেজা নাজাফি। গতকাল দেশটির ইসফাহান পরমাণু স্থাপনার কাছেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তিন দিনের হামলায় ইরানের ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল সায়েদ ইয়াহিয়া হামিদি ও জালাল পুর হুসেইন নামের ইরানের আরও দুই কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় আহত খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। এর মধ্যে শুধু ইরানের মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় নিহত হয়েছে ১৮০ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

ইরানে হামলা শুরুর করার আগে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে সামরিক শক্তি জোরদার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন সেনাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। এরপরও চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসা শুরু করেছে। গতকাল কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, দেশটিতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

বিমানগুলোর পরিণতি কেন এমন হলো, তা জানায়নি কুয়েত সরকার। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে নিশ্চিত করা হয়, তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সেগুলো ‘এফ-১৫ ইগল’ মডেলের। ইরানে চলমান অভিযান এপিক ফিউরির অংশ হিসেবে সেগুলো আকাশে মোতায়েন করা হয়েছিল। কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুল করে ছোড়া গুলিতেই যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছে। তবে পাইলট ও ক্রু সদস্যরা জীবিত আছেন।

আগের দিন রোববার ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহতের খবর জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। আহত হয়েছিলেন আরও পাঁচজন। ওই সেনারা কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিহত হন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন দুই কর্মকর্তা। পরে গতকাল আহত মার্কিন এক সেনার মৃত্যুর কথা জানায় সেন্ট্রাল কমান্ড। এ নিয়ে মার্কিন চার সেনার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেল।

গতকাল রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এটা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ১১তম দফায় হামলার ঘটনা। আইআরজিসি দাবি করেছে, ওই হামলায় ইসরায়েলের বিরসেবা শহরে দেশটির সেনাবাহিনীর যোগাযোগ–সংক্রান্ত একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে মাইক্রোসফটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে দেশে দেশে বিস্ফোরণ-ক্ষয়ক্ষতি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের কাছে সহজ লক্ষ্যবস্তু। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ততই এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা বাড়তে পারে।

গতকাল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এদিন আরব আমিরাতের আবুধাবিতে জ্বালানি তেলের একটি ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে ইরানের একটি ড্রোন। আর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ জানিয়েছে, তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজির) সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনায় ইরানের হামলার পর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

হামলা হয়েছে সৌদি আরবেও। দেশটির পূর্বাঞ্চলে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার রাস তানুরা থেকে ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শোধনাগারটি দাম্মাম শহরের কাছে অবস্থিত। পরে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, ইরানের ড্রোন হামলার পর ওই শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এসব হামলার মধ্যে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

তিন দিন ধরে চলা যুদ্ধে আরব আমিরাতে ৩ জন, ইরাকে ২ জন, কুয়েতে ১ জন ও বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাহরাইন ও আরব আমিরাতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন করে বাংলাদেশি রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত যৌথ বিবৃতি দিয়ে ইরানের হামলাকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছে।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধের আঁচ পড়েছে সাইপ্রাসেও। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোউলিয়াস জানান, রোববার রাতে সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি ঘাঁটিতে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে ঘাঁটিটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। পরে গতকালও ঘাঁটিটিতে হামলা সতর্কতায় সাইরেন শোনা যায়। সেখান থেকে উড়তে দেখা যায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান।

সাইপ্রাসে হামলার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন বলেছেন, ইরানের হামলাটি সাইপ্রাসকে উদ্দেশ করে না হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল ব্যারোট বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের মিত্র যেসব দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানায় প্যারিস।

যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে হামলার পরও ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অন্যদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুতে বলেছেন, এ সংঘাতে বা এর কোনো অংশে একক জোট হিসেবে জড়িয়ে পড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ন্যাটোর।

যুদ্ধ ছড়িয়েছে লেবাননেও

মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান–সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এর একটি লেবাননের হিজবুল্লাহ। ফিলিস্তিনের গাজায় আগ্রাসন চলাকালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল গোষ্ঠীটি। সে সময় তারা অনেকটা দুর্বলও হয়ে পড়েছিল। এবার খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলও।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে তারা। এতে গোষ্ঠীটির গোয়েন্দাপ্রধান হুসেইন ম্যাকলেড নিহত হয়েছেন। দেশটিতে স্থল অভিযান শুরুর জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর মুখপাত্র এফি দেফরিন বলেন, লেবাননে হামলার জন্য প্রায় এক লাখ সংরক্ষিত সেনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৫২ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বৈরুত। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের আল-আব্বাসিয়েহ শহর থেকে বহু মানুষকে সরে যেতে দেখা গেছে। দেশটির বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইসারায়েলের বোমা হামলার মুখে পূর্ব লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ থেকে সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইরানে অভিযান নিয়ে যা বলল পেন্টাগন

ইরানের হামলার শুরুতে এর লক্ষ্য হিসেবে দেশটির সরকার পতনের কথা বললেও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু জানাননি ট্রাম্প। ইসরায়েলের চাপে পড়ে তিনি এ হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ অনেকের। যেমন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, ট্রাম্প ‘মার্কিনদের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার’ দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি জরিপ চালিয়েছে রয়টার্স-ইপসস। তাতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভাগের মাত্র ১ ভাগ নাগরিক ইরানের চালানো হামলাকে সমর্থন করছেন। এটি আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির খুবই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

ট্রাম্পকে আরও বিপত্তিতে ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বক্তব্য। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কাছে ইরানের হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরান আগে হামলা চালাতে পারে—এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য পেন্টাগনের হাতে নেই।

‘যুদ্ধের চেয়ে নতি স্বীকারকে ভয় পায় ইরান’

হামলা শুরুর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। জেনেভায় গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সবশেষ আলোচনা হয়। এরই মধ্যে রোববার মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। তবে গতকাল ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।

ইরান যে আর সহজে আলোচনার টেবিলে ফিরবে না, তা আগেই আশঙ্কা করছিলেন বিশ্লেষকদের অনেকে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ট্রিটা পারসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল ছিল, ইরানে যত বেশি সম্ভব শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করা, যেন তারা নতি স্বীকার করতে রাজি হয়, কিন্তু এটি ছিল ভুল হিসাব।

আল-জাজিরাকে ট্রিটা পারসি বলেন, ট্রাম্প ভেবেছিলেন, উপসাগরে বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করলে ইরানিরা ভয় পাবেন এবং নতি স্বীকার করবেন; কিন্তু তিনি বোঝেননি তেহরানের সরকার যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকেই অনেক বেশি ভয় পায়। ইরানি সরকার মনে করে, তারা যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারবে, কিন্তু আত্মসমর্পণ করলে টিকে থাকতে পারবে না।

Posted ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.