বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কেঁদেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার (২২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে রেলমন্ত্রীকে ফোন করেন মনিরুল হক।
তাদের এই হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের একটি ভিডিও মনিরুল হক চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
এ সময় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘এটা নতুন ঘটনা না, গত ১০০ বছর এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সব কাগজপত্র আছে রেল সচিবের কাছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারি নাই।’
এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সেদিনও বলেছেন, সেদিনও বলেছেন।’
সঙ্গে সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী কান্না করে বলেন, ‘আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট কাল রাতে। ডাক্তার দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড.. আমি শান্তি পাবো জীবনে। আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।’
এ সময় মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যাচ্ছি রওনা দিয়ে। আমি যা করার করব।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’
পুরো কথোপকথনের সময়জুড়েই সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে কান্না করতে দেখা গেছে।
কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় মিলেছে : কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইতে তাদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছের ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
Posted ১:৩৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh