বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

লন্ডনে কর্মহীন ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

লন্ডনে কর্মহীন ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি

ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটেনে গত এক দশকের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক শিশু এমন পরিবারে বড় হচ্ছে যেখানে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের কর্মসংস্থান নেই। এদিকে, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লন্ডনে বসবাসরত কর্মক্ষম পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশই বর্তমানে কর্মহীন। রাজধানীতে অন্য যে কোনও জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় এই হার সর্বোচ্চ।

দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস বা ওএনএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার শিশু এবারের বড়দিন কাটিয়েছে উপার্জনবিহীন পরিবারে—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় লাখ বেশি। ১১ বছরের মধ্যে এই হার এবারই সর্বোচ্চ, যা ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের নাজুক অবস্থাকে প্রতিফলিত করছে।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে ব্রিটেনের কর্মসংস্থান চিত্রে এক চরম জাতিগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ হলেও জাতিসত্তা ভিত্তিতে এই হারে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। যেখানে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বেকারত্বের হার মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার দ্বিগুণ—প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

লন্ডনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও প্রকট। যেখানে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ কর্মহীন, সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ দক্ষিণ এশীয় বাসিন্দা আয়ের কোনও উৎস ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন।

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে লন্ডন এখন বেকারত্ব সংকটের কেন্দ্রে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে লন্ডনের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে লন্ডনের হসপিটালিটি (আতিথেয়তা) এবং খুচরা বিক্রয় খাতের ওপর নির্ভরশীলতা শহরটিকে সংকটে ফেলেছে। সরকারের নতুন ঘোষিত ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে অথবা কর্মী ছাঁটাই করছে।

ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্য এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। দেশটিতে বর্তমানে উপার্জনহীন পরিবারের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতা। পরিসংখ্যান বলছে, কর্মহীন পরিবারগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ সদস্যই মহামারীর পর থেকে অসুস্থতার কারণে শ্রমবাজারের বাইরে চলে গেছেন। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ব্রিটেনকে এক ‘কল্যাণ ফাঁদে’ (ওয়েলফেয়ার ট্র্যাপ) ফেলে দিচ্ছে, যেখানে কর্মক্ষম মানুষকে কাজে ফেরানোর চেয়ে ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

২০২৬ সালের পূর্বাভাসও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। উচ্চ সুদের হার এবং ভোক্তা আস্থার অভাবে বৃটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

লন্ড‌নের নিউহাম কাউ‌ন্সি‌লের কাউ‌ন্সিলার মু‌জিবুর রহমান জ‌সিম বাংলা‌ ট্রিবিউন‌কে ব‌লেন, নতুন বছরে কয়েক মিলিয়ন মানুষকে ভাতা থেকে পুনরায় কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনাই হবে ব্রিটিশ সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Posted ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2226 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.