বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সিটির ১,৮০০ পাবলিক স্কুলগুলো খোলার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিস্তার সত্বেও শিক্ষার্থীরা সামারের অবকাশ শেষে ক্লাসে ফুলটাইম ফিরে আসবে। তিনি বলেছেন, করোনা-পূর্ব সময়ের মত প্রতি সপ্তাহে পাঁচদিন করে ক্লাস হবে। কিন্তু অনেক অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্য থেকে মেয়রের ঘোষণার ব্যাপারে আপত্তি উঠেছে যে, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিপদ তো আছেই, কিন্তু সিটির বাসিন্দাদের ভ্যাকসিন দেয়ার টার্গেট এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। সে অবস্থায় ছাত্রদের উপস্থিত করে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করা কতটুকু বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে। তারা বলেছেন যে শিক্ষার্থীদের যদি স্কুলে উপস্থিত হতেই হয়, তাহলে মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর প্রশাসনকে কয়েকটি মুখ্য বিষয় নিস্পত্তি করতে হবে যে, ছাত্র, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের ক’দিন পর পর ভাইরাস টেস্ট করানো হবে এবং টেস্ট রিপোর্ট পজেটিভ হলে কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে।
ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে যে, যেসব শিক্ষার্থী স্কুল খোলার সময় পর্যন্ত ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে না, শুধু তারাই অনলাইনে ক্লাস করতে পারবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে সিটির স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা যেহেতু স্কুলে উপস্থিত হলে নানা ধরনের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠবে, সেজন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে ক্লাস করে আসছিল। কিন্তু এ ধরনের ক্লাসের পাঠক্রম সংক্ষিপ্ত, যা দীর্ঘদিন পর্যন্ত বজায় রাখা শিক্ষা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, যদিও সিটির শিক্ষা বিভাগীয় কর্মকর্তারা দাবী করছেন যে, মহামারীর বছরে শিক্ষার্থীদের আহরিত শিক্ষার সাফল্য মহামারীর আগের বছরের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে স্কুলে সকলের ম্াস্ক পরিধান্ করার বাধ্যবাধকতা ও মাস্ক না পরা নিয়ে যদিও বিতর্ক চলছে, নিউইয়র্ক ঘোষণা করেছে যে স্কুলে সকল ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারিকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে বা যারা ভ্যাকসিন নেয়নি, সকলকেই মাস্ক পরতে হবে। শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফের জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ মোটামুটি বাধ্যতামূলক, কিন্তু কেউ যদি কোনো কারণে ভ্যাকসিন গ্রহণ না করেন, তাহলে তাকে প্রতি সপ্তাহে করোনা ভাইরাসের টেস্ট করাতে হবে। স্কুলের শিক্ষক ও কর্মী যারা ভ্যাকসিন নেবেন, তাদেরকে স্কুল খোলার আগেই ভ্যাকসিন নিতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষক ইউনিয়নের কর্মকর্তা র্যান্ডি ওয়েনগার্টেন শিক্ষকদের ভ্যাকসিন নেয়ার আবশ্যকতার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেও নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষকদের সংগঠন ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ টিচার্স এর প্রেসিডেন্ট মাইকেল মালগ্রিউ এখনো ব্লাজিওর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সমর্থনমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি। তবে তিনি তার সংগঠনের সদস্যদের ভ্যাকসিন নেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকার জন্য বলেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভ্যাকসিন নিয়েছেন, কিন্তু প্রকৃত হার নি:সন্দেহে অধিক বলে দাবী করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কারণ যেসব শিক্ষক নিউইয়র্ক সিটির বাইরে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন, সিটির পরিসংখ্যানে তারা অন্তর্ভূক্ত হননি। ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ টিচার্স এর প্রেসিডেন্ট মাইকেল মালগ্রিউ এর ধারণা, তার সংগঠনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষক ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, যদিও নিউইয়র্কে বসবাসকারী ১২ বছর বয়সের অধিক শিশুদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যকই ভ্যাকসিন নিয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর ছাত্র রয়েছে সে সম্পর্কে সিটি কর্তৃপক্ষ অথবা স্কুলগুলোর কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বছরের শেষ নাগাদ ১২ বছর বয়সের নিচের শিশুরা ভ্যাকসিন নেয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে বলে জানান হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সিটি কর্তৃপক্ষ অনেক পাবলিক স্কুলে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেছে, যাতে শ্রেনিকক্ষে গুমোট অবস্থার অবসান ঘটে বা হৃাস পায়। চলতি সামারে প্রতিটি স্কুলভবনে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য পরিদর্শন কাজ চলছে। এছাড়া সকল ক্লাসরুমে দুটি করে এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব সত্বেও সিটির ঘোষণায় অভিভাবকরা সন্দিহান যে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে কিনা। মেয়র ব্লাজিও এর আগেও দু’বার ছাত্রদের উপস্থিতিতে ক্লাস শুরু করার উদ্যোগ নিলেও অভিভাবকদের আপত্তিতে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু মেয়রের এবারের সিদ্ধান্ত সিটির কৌশলের বড় ধরনের পরিবর্তন। তা সত্বেও সিটি কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যে, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রকোপের মধ্যে কিভাবে স্কুল ব্যবস্থাপন, ভ্যাকসিন গ্রহণ, করোনা ভাইরাসের টেস্ট ও কোয়ারানটাইনের বিষয়গুলোর ব্যবস্থাপনা করা হবে। গত বছর সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে ভাইরাস টেস্ট করার পর বেশ কিছু টেস্ট পজেটিভ আসায় হয় কোনো ক্লাসকে কোয়ারানটাইন করা হয়েছিল অথবা স্কুল সাময়িক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সিটির অধিকাংশ স্কুলেই তাদের শিক্ষার্থীদের তিন ফুটের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাসে স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কিছু স্কুল, যার সংখ্যা ৬০টি বলে সিটি কর্মকর্তারা দাবী করেন, কিন্তু ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ টিচার্সেও মতে ২০০ স্কুলে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয় এবং সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তিন ফুট ব্যবধান বজায় রেখে স্থান সংকুলান করা সম্ভব নয়। শুধু ক্লাসরুম নয়, স্কুলের কমন এরিয়াতে তিন ফুটের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়।
Posted ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh