বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত ‘ফুড স্ট্যাম্প’ চালু হওয়ার পর এই কর্মসূচির সুবিধা স্থায়ীভাবে সবচেয়ে বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। গত ১৬ আগস্ট সোমবার ফুডস্ট্যাম্পে করোনা মহামারী পূর্ব সুবিধার চেয়ে ২৫ শতাংশ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ফুডস্ট্যাম্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে ফুডস্ট্যাম্পের সুবিধা ভোগ করছে ৪২ মিলিয়ন আমেরিকান, অর্থ্যাৎ প্রতি আটজন আমেরিকানের মধ্যে অন্তত একজন আমেরিকান এই সুবিধা পাচ্ছে এবং বর্ধিত সুবিধা সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে ঘোষণায় জানানো হয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। ফুডস্ট্যাম্পের সুবিধা বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত যে অর্থের প্রয়োজন হবে সেজন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।
করোনা মহামারীর ফলে কর্মচ্যুত আমেরিকান ও বৈধ বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক সুবিধা দিতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল এবং সেসব সুবিধা অচিরেই সমাপ্ত হলেও ফুডস্যাম্পের বর্ধিত সুবিধা স্থায়ী সুবিধা হিসেবে যোগ হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফুডস্ট্যাম্প কর্মসূচির সমালোচকরা গত এক দশক থেকে বলে আসছেন যে, দরিদ্র ও স্বল্প আয়সম্পন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য ফুডস্ট্যাম্পের মাধ্যমে যে সুবিধা প্রদান করা হয় তা খুবই কম। সুবিধাভোগী তিন-চতুর্থাংশ পরিবারের খাদ্য সামগ্রী কিনতে ফুডস্ট্যাম্পের অর্থ মাসের প্রথম অর্ধেকেই শেষ হয়ে যায়। গবেষকরা এই ঘাটতির কারণে সৃষ্ট আরো কিছু সমস্যার উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ফডুস্ট্যাম্পের সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের সন্তানদের স্কুলে হাজিরা হ্রাস ও নিম্ন ‘স্যাট’ স্কোর। ফুডস্ট্যাম্পের মাসিক আর্থিক সুবিধা করোনা মহামারী পূর্ব সময়ে মাথাপিছু গড়ে ১২১ ডলার ছিল, নতুন নিয়মে যার সঙ্গে আরো ৩৬ ডলার করে যোগ হবে। চার জনের একটি পরিবারে মাসিক ফুডস্ট্যাম্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৩৫ ডলার। মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই বৃদ্ধি সামান্য বিবেচিত হলেও ফুডস্ট্যাম্প কর্মসূচির সমর্থকরা বলছেন যে, এই বৃদ্ধি ক্ষুধা হ্রাস করবে এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে ভুক্তভোগীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।
সেক্রেটারী অফ এগ্রিকালচার টম ভিলস্যাক গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফুডস্ট্যাম্পের সুবিধা বৃদ্ধিতে নাজুক অবস্থায় থাকা আমেরিকান পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং তাদের পুষ্টি জোগানোর কারণে জাতীয় অর্থনীতিতেও তারা ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি আরো বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যাধি, আর্থিক সংকট ও বর্ণবৈষম্যের চলমান পরিস্থিতিতে ফুডস্ট্যাম্পের বার্ষিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয় আমাদের গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। তার মতে, “আমাদের একটি সংবিধান এবং একটি স্বাধীনতার ঘোষণা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের ৪২ মিলিয়ন আমেরিকান যদি ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে তারা কখনো সুখি হবে না এবং এ কারণে আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত ঘটবে।”
এদিকে ফুডস্ট্যাম্পের সুবিধা বৃদ্ধিকে টেকসই নয় বলেও সমালোচনা করা হচ্ছে এবং তাদের দৃষ্টিতে এ ধরনের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি আমেরিকানদের কর্মস্পৃহায় ফাটল সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য, ফুডস্ট্যাম্পের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস একটি আইন প্রণয়ন করেছিল, যাতে ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল চার বছরের মধ্যে আইনটি বাস্তবায়ন করার জন্য। প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত জানুয়ারী মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার পূর্ববর্তী প্রশাসনের মেয়াদে পাস করা আইনটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেন, যাতে ভুক্তভোগীরা মৌলিক স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পেতে পারে। ফডুস্ট্যাম্পের সুবিধা বৃদ্ধিতে সিনেট ও হাউজ রিপাবলিকানরা এটিকে তাদের কৃতিত্ব বলে দাবী করেছেন। কারণ তাদের প্রশাসনের সময়েই আইনটি প্রণীত হয়েছিল। সেক্রেটারী অফ এগ্রিকালচার টম ভিলস্যাকও তা স্বীকার করে বলেছেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক সিনেট ও হাউজ রিপাবলিকানরা এ আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেজন্য কৃতিত্ব তাদেরই প্রাপ্য।”
Posted ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh