নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট তাজুল ইসলাম তার নিঊইয়র্ক সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি যেকোনো মূল্যে ছাত্রজনতার বিপ্লবে অর্জিত দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা ধরে রেখে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। গত ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কের বিশিষ্টজন ও কমিউনিটি লিডারগণ।
এমসিটিভির সিইও কাজী শামসুল হক, ডেমোক্র্যাট লিডার এট লার্জ এটর্নী মইন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, জাতিসংঘের উর্ধতন কর্মকর্তা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, রানার সম্পাদক ডা. এমএম হক, মানবাধিকার নেত্রী কাজী ফৌজিয়া, সফল ব্যাবসায়ী মিনাহ ফারাহ, মেইনস্ট্রিম ইউনিয়ন লিডার আবদুল করিম চৌধুরী, ব্যবসায়ী জ্যাকব মিল্টন, কমিউনিটি লিডার আজহারুল হক মিলন, জহিরুল হক মুকুল, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জেন জি প্রতিনিধি আনিকা চৌধুরী প্রমুখ ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটি প্রফেশনাল সায়েব খালিশদার। সঞ্চালনায় ছিলেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের শিক্ষার্থী হারুনুর রশীদ তানভীর। নেপথ্য সহযোগিতায় ছিলেন ইমাম উদ্দীন চৌধুরী, ব্যবসায়ী তাসলিম উদ্দিন, ট্যাক্স অ্যান্ড একাউন্টস প্রফেশনাল নওশাদ হোসেন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় রিপাবলিক হিসেবে তার যাত্রা শুরু করেছে। হাজারো শহীদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা যে কোন মূল্যে ধরে রাখতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গনহত্যাকারী ও মানবতবিরোধী অপরাধীদের সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে যাতে কোন স্বৈরশাসক আর কখনো এরূপ অপরাধ করার সাহস দেখাতে না পারে।
ভিক্টিম পরিবার ও নির্যাতিত মানুষের মনে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের আগুন নির্বাপিত করতে হলে অপরাধের সঠিক এ ন্যায়সঙ্গত বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করে এবং বলেন, বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা লাভ করলে বসন্ত বিপ্লবের বাস্তব ফললাভ করবেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে মানুষ হত্যা, গুম, আটক, দখল ইত্যাদির মাধ্যমে যে অত্যাচার নির্যাতনের রাজত্ব কায়েম করেছিল প্রতিটি অপরাধের বিচার করা হবে স্বচ্ছ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশবাসী তা দেখতে পাবে। শতাধিক কমিউনিটি লিডার মতিবিনিময়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা জানান যে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তারা দেশে ফিরে নতুন বাংলাদেশ গড়ায় তাদের ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
Posted ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh